বিজ্ঞান লেকচারে যা থাকবে !!!


শিশু কিশোরদের মনে হাজারো প্রশ্ন উকি দেয়। মনে করুন আপনি তাদের সামনে বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলবেন। কিভাবে তাদের মন জয় কি করবেন? কি থাকতে পারে একটি সফল বিজ্ঞান লেকচারে?? একটি নমুনা লেকচার দেওয়া হল।

                                                     বিজ্ঞান কি?
সাধারণত চোখের সামনে যা ভেসে আসে…..
১) বিশাল গবেষণাগার??
২) জটিল যন্ত্রপাতি??
৩) মোটা মোটা বই?
৪) মাাথায় ঝঁকড়া চুলের একজন ব্যক্তির একমনে কাজ কর??
তাহলে !!
আমাদের চারপাশের জগৎ নিয়ে ভাবনা ও তার উত্তর খুজে বের করা।
কোন বিষয়ের রহস্য অনুসন্ধান
কোন বিষয়ের ক্রিয়া, তার প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান
এককথায় আমাদের চারপাশের সকল বিষয় অনুসন্ধান ————
যেমন, কেন মানুষ দেখতে এমন? ঊানর কেন মানুষের মত আচরণ করে?
তোমার মাথার চুল কাল কেন? হাত, পা, চোখ, মুখ ভিন্ন আকৃতির কেন?
আকাশ কেন নীল? এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান

                                            বিজ্ঞানের ইতিহাস
১) প্রাচীন পৃথিবীতে মানুষের বিচরণ
২) বন জঙ্গলে বসবাসের প্রকৃতি
৩) উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল মানুষ
৪) আগুন জ্বালানো শেখা
৫) পাথরের ব্যবহার
৬) প্রাণী শিকার
৭) প্রাণী বেঁধে রেখে পশুপালন
৮) আবাসস্থলের পাশে চাষাবাস
৯) আকাশের দিকে তাকিয়ে তারকাদের আনাগোনা পর্যবেক্ষন ও সে অনুযায় পথ চলা
১০) পূর্ণিমাকে আশির্বাদ ও আমাবস্যাকে অভিশাপ মনে করা
১১) প্রত্যেক ঘটনার পিছনে বিভিন্ন দেবতার প্রভাব
১২) প্রত্যেকটা ঘটনার পিছনে কারণ অনুসন্ধা (প্রশ্নের যাত্রা শুরু)
১৩) এরিসটটলের হাজারো প্রশ্ন (দর্শনের যাত্রা শুরু)
১৪) গ্যালিলিওয়ের খালিচোখে আকাশের দিকে চেয়ে থাকা ( যে কারণে অন্ধ হয়ে যান)
১৫) অনুবীক্ষণ যন্ত্রের যাত্রা শুরু (সাধারণ কাঁচ থেকে)
১৬) কণার রহস্য উন্মোচন, ইলেক্ট্রনের ধর্ম অনুসন্ধান
১৭) টেলিস্কোপের যাত্রা শুরু
১৮) গবেষনাগারে বিভিন্ন বিষয় প্রমাণের চেষ্টা
১৯) বিদ্যুতের আবিষ্কার
২০) টেলিফোন আবিষ্কার
২১) কম্পিউটার আবিষ্কার
২২) রকেট বিজ্ঞানের যাত্রা শুরু
২৩) উপগ্রহের যাত্রা
২৪) অন্য গ্রহে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা (১৯৫৭ সালে সফল ভাবে পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা, চন্দ্রপৃষ্টে মানুষের সফল পদার্পণ,মঙ্গলে সফল গবেষণা-বর্তমানে কিওরিওসিটি, মঙ্গলযান গবেষণা করছে)
২৫) নতুন গ্রহে বাস করার চেষ্টা..ছেড়ে যেতে চাই আমাদের প্রিয় পৃথিবী গ্রহ

                                তুমি কিভাবে বিজ্ঞানী হবে?
(বিজ্ঞান ভীতি দুর করার কথা বলতে হবে)
ধাপ:
১) দর্শন—
২) পর্যবেক্ষণ
৩) প্রশ্ন করা
৪) উত্তর জানতে বই, শিক্ষক, অভিভাবকের সাহায্য নেওয়া
৫) বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত সম্ভাব্য বিভিন্ন ঘটনা ধারণা করা
৬) ধারণা করা বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা ও তার সাথে সম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা করে
৭) গবেষণাগারে (তোমার স্কুলের ল্যাব হতে পারে) যাচাই করা
তবে আপাতত তোমার জন্য প্রথম চারটি ধাপ নিয়ে কাজ করা যথেষ্ট। এর মাধ্যমে পছন্দের বিষয় খুঁজে পাবে ও সে বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারবে।
                                        বাংলাদেশে বিজ্ঞানী
১) স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু
-উদ্ভিদ উদ্দীপনায় সাড়া দেয় অর্থাৎ গাছের জীবন আছে।
-তিনি কি জীববিজ্ঞানী ছিলেন?? না পদার্থবিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে গবেষণা করছিলেন।
-সূর্য থেকে একটি রশ্মি উৎপন্ন হয়ে তা বিভিন্ন পরিবেশে তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কসমিক রশ্মি, আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি, দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত রশ্মি, ইলেক্ট্রন রশ্মিতে পরিণত হয় (সর্বপ্রথম তিনি এই তত্ত্ব দেন)
-রেডিও উদ্ভাবন করেন
২) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
-কণার শ্রেণীবিভাবগ করেন। পৃথিবীর সকল কণা দুইভাগে বিভক্ত। ফার্মিয়ার ও বোসন কণা। এই সেই বোসন কণা যা আমাদের সত্যেন্দ্রনাথ বসু দেন।
-বোসন-আইনস্টাইন পরিসংখ্যানের জনক
-সম্প্রতি আবিষ্কৃত হিগস-বোসন কণা (গড পার্টিকেল, এটি বিজ্ঞানীদের দেওয়া নাম নয়, নামের ইতিহাস বলতে হবে)
৩) আব্দুল জব্বার
-রাতের পর রাত আকাশের দিকে তাকিয়ে তারাদের উপস্থিতি ও অবস্থান নির্ণয় করেছেন।
-একটি বই আছে “তারা পরিচিতি”-বাংলাদেশ এস্ট্রোনোমিক্যাল এসোসিয়েশন সম্পাদিত
৪) মেঘনাদ সাহা
-সফল বিজ্ঞান লেখক, গাজীপুরে জন্ম
এছাড়াও জাহিদ হোসেন, স্যার হুইসসাম সহ অনেকে

                                                      বিজ্ঞানে নারী
১) হাইপেশিয়া— আলেকজান্দ্রিয়ার গণিতবদি, যিনি সম্মানীর বিনিময়ে বক্তৃতা দিতেন
২) মাদাম কুরী- রসায়ন ও পদার্থে নোবেল পান, সারা জীবন গবেষণায় কাটিয়েছেন
৩) রোজালিন ফ্রাংকলিন-সফল ডি.এন.এর উদ্ভাবক, কোন সম্মান পান নি
৪) ডলস মিটনার-নিউক্লিয়ার ফিশান নিয়ে গবেষণা, যা থেকে পরবর্তিতে পারমাণবিক বোমা

                                                বিজ্ঞানের মজার ঘটনা
১) আইনস্টাইনের ড্রাইভারের গল্প
২) প্রশ্ন জানতে টমাস আলভা এডিসনের খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া
৩) কথা না বলায় আইনস্টাইনের স্কুল থেকে বিতারণ, ৭বছর বয়সে কম্পাসের কারণ জানতে বাবাকে জালাতন
৪) পেনিসিলিয়াম আবিষ্কারের গল্প-Inventor: Alexander Fleming Year: 1928 What Happened: Halfway through an experiment with bacteria, Alexander Fleming up and went on vacation. Slob that he was, he left a dirty petri dish in the lab sink. Big Discovery: When he got back, he found bacteria had grown all over the plate, except in an area where mold had formed. As a Result: That discovery led to two things: 1) penicillin and 2) Mrs. Fleming hiring a maid.
৫) নিজের অজান্তে স্যাকারিন আবিষ্কার

Inventors: Constantin Fahlberg and Ira Remsen Year: 1879What Happened: After spending the day studying coal tar derivatives, Fahlberg left his Johns Hopkins laboratory and went to dinner. Big Discovery: Something he ate tasted particularly sweet, which he traced to a chemical compound he’d spilled on his hand. Best of all, it turned out to be calorie-free. As a Result: He cut Remsen and the university out of millions of dollars when he secretly patented the breakthrough discovery, saccharin.
৬) গণিতবিদ রামানুজানের সমুদ্র পাড়ি দিতে বাধা-জাত যাবে তাই (মায়ের বক্তব্য)
৭) চুইংগাম আবিষ্কারের কাহিনী

Inventor: Thomas Adams Year: 1870 What Happened: He was experimenting with chicle, the sap from a South American tree, as a substitute for rubber. After mounting failures, the dejected inventor popped a piece into his mouth. Big Discovery: He liked it! As a Result: Adams New York No. 1 became the first mass-produced chewing gum in the world.
                       কিভাবে বিজ্ঞান প্রজেক্ট তৈরী করবে??
১)কোন একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি বিবেচনা (রসায়ন, পদার্থ,জীববিজ্ঞান)
২) এর প্রয়োগ ও মানুষের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা
৩) টাইটেল নির্ধারণ
৪) এর আওতায় প্রতিটি ধাপ বিশ্লেষণ
৫) প্রতিটি ধাপের সঠিক পড়াশোনা ও মৌলিক বিষয় জানা
৬) এ্কই জাতীয় অসংখ্য প্রোজেক্ট ইন্টারনেট থেকে জানা
৭) এবার তোমার প্রজেক্টেও প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে সংযুক্ত করা
৮) একটি ভৌত কাঠামো দাড় করানো ( এটি প্রদর্শন করতে হবে)
৯) উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ
এনে রাখবে, বিজ্ঞান প্রজেক্টে তোমার কাছে কোন সফল গবেষনা চাওয়া হয় না কারণ তুমি গবেষক নও, এখানে তোমার ভাবনা ও সেই সাথে তোমার ভাবনর সাথে তোমার জ্ঞান ও বাস্তবতা দেখা হয়। তাই তোমাকে প্রতিটি বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। আর মনে রাখবে বিজ্ঞান আবেগের জায়গা নয়। তাই প্রত্যেক ঘটনার সঠিক কারণ তোমাকে জানতে হবে। শিক্ষক বা অভিভাবকের সাহায্য নিতে পার। তবে তোমাকে তোমার প্রজেক্টেও প্রতিটি বিষয় জানা থাকতে হবে।
যে বিষয়ে খেয়াল রাখবে—
ক) প্রজেক্টের টাইটেল
খ) প্রজেক্টের উদ্দেশ্য
গ) বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ
ঘ) সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ
ঙ) সুন্দর একটি উপসংহার বা উপস্থাপনা

 

বাসযোগ্য নতুন গ্রহ আবিষ্কার করেছে নাসা


0,,18176799_403,00আমাদের এই মহাবিশ্বে ঠিক গ্রহের সংখ্যা কত? রাতের স্বচ্ছ আকাশের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি জ¦লন্ত তারকার দেখে কত কৈৗতুহল আমাদের। পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তক,পত্রিকা ও বিভিন্ন মহাকাশ বিষয়ক পুস্তকে গ্রহ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জেনে নতুন গ্রহ সম্পর্কে জানার আগ্রহ সবসময়। এই পৃথিবীতে ঠিক আমরা আর কতদিন বাস করতে পারবো? কতদিন টিকে থাকবে আমাদের সভ্যতা? হাজার হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার হারানো স্মৃতি আমাদেও শঙ্কিত করে। এই গ্রহ পাড়ি দিয়ে নতুন কোন  গ্রহে বাস করার স্বপ্ন দেখি আমরা। এটা যে শুধু স্বপ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ তা নয়। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য মহাকাশ বিজ্ঞানীরা নিরলস গবেষণা করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন গ্রহের সন্ধান দিলেন নাসার বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি নাসা আমাদের সৌরজগতের বাইরে ১২৮৪ টি নতুন গ্রহ অনুসন্ধান করতে পেরেছেন এমন ঘোষণা দিয়েছেন। নাসার বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন তাদের অবিষ্কৃত গ্রহের মধ্যে ৫৫০ টি হুবুহু পৃথিবীর মত হতে পারে। এই ৫৫০ টি নতুন যোগ হওয়ায় পৃথিবী সদৃশ গ্রহের সংখ্যা হল ৯৮৪টি। নতুন গ্রহ আবিষ্কার সম্পর্কে ওয়াশিংটনে অবস্থিত নাসা সদর দপ্তরের প্রধান বিজ্ঞানী এলেন স্টোফেন বলেন, “ এই আবিষ্কার আমাদের সৌরজগতের বাইরে কোন তারকাকে ঘিরে পৃথিবী সদৃশ কিছু একটা আছে সে বিষয়ে আশা প্রদান করে, হয়তোবা এর মাধ্যমে আমরা নতুন পৃথিবী আবিষ্কার করতে পারবো”। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টিমোথি মর্টন পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করে নতুন আবিষ্কৃত গ্রহের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। পৃথিবী সদৃশ ৫৫০ টি গ্রহের মধ্যে নয়টিতে নিশ্চিভাবে প্রাণের উপস্থিতির সম্ভাবনা দেখা গেছে। সৌরজগতের বাইরে নতুন গ্রহের উপস্থিতি সনাক্তকরণে কেপলার স্পেস অবজারভেটরির টেলিস্কোপের মাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার গ্রহের পৃষ্ঠভাগ স্ক্যান করা হয়েছে। মূলত বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্য ছিল এমন গ্রহ খুঁজে বের করা যেখানে বসবাস করা সম্ভব। নতুন এই গ্রহ আবিষ্কার ও বিজ্ঞানীদের গবেষণা সম্পর্কে পল হার্টজ বলেন, “কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে গবেষণার পূর্বে আমরা জানতাম না গ্যালাক্সির কোথায় কি সংখ্যক গ্রহ রয়েছে। কেপলার ও গবেষক দলকে ধন্যবাদ এই কারণে যে আমরা এখন জানতে পেরেছি যে গ্রহের সংখ্যা তারকা থেকে বেশি হতে পারে”।
সূত্র: ডয়চে ভ্যালে, টেলিগ্রাফ

পৃথিবীতের উদ্ভিদের সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ৯০০ !!


_89622290_droseramagnificainhabitat_3_photobypaulogonella
আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বড় সহায়ক হল উদ্ভিদ। প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত অক্সিজেন আমরা পায় উদ্ভিদ থেকে। শুধু তাই নয় পুরো পৃথিবীকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বজায় রাখা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষায় উদ্ভিদের বড় ভূমিকা রয়েছে। বৈচিত্রময় এই পৃথিবীতে আমাদের উপকারী এই বন্ধুর সংখ্যা কি আমরা জানি? সারা বিশ্বে মানুষের সংখ্যা কত তা জানা যেমনটা জরুরী, তেমনি উদ্ভিদের সংখ্যা জানাও জরুরী। তবে উদ্ভিদের বৈচিত্রতা এত বেশি যে সঠিকভাবে উদ্ভিদের সংখ্যা নির্ণয় করা খুবই জটিল কাজ। তবে বিজ্ঞানীরা বসে নেই। তারা প্রতিনিয়ত উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করছেন। জানার চেষ্টা করছেন আমাদের এই পৃথিবীতে কত সংখ্যক উদ্ভিদ রয়েছে। স্থলভাগে যেমন রয়েছে অসংখ্য জানা অজানা উদ্ভিদ, তেমনি সমুদ্রের অভ্যন্তরে তথা জলভাগে কত উদ্ভিদ রয়েছে তার ইয়াত্ত নেই। সম্প্রতি সারা বিশ্বের উদ্ভিদের সংখ্যার তালিকা প্রকাশ করেছে রয়েল বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিজ্ঞানীরা। তাদের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী  সারা বিশ্বে ৩,৯০,৯০০ টি উদ্ভিদ রয়েছে। সারা বিশ্বের ফ্লোরা সম্পর্কে এটিই প্রথম কোন সম্পূর্ণ গবেষণা । মূলত প্রতিবছর সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন উদ্ভিদ অনুসন্ধানে নিরলস গবেষণা করে থাকেন।

_89648557_02_newplantdiscoveries_0311

বিজ্ঞানীদের মতে গড়ে পাঁচটির মধ্যে একটি উদ্ভিদ হুমকির সম্মুখীন

তারাই ধারাবাহিকতায় তথ্য উপাত্তগুলো যাচাই বাছাই করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। দেখা গেছে শুধুমাত্র ২০১৫ সালেই বিজ্ঞানীরা ২,০৩৪ টি নতুন উদ্ভিদের সন্ধান লাভ করেছেন। তবে যে সংখ্যক উদ্ভিদ সম্পর্কে জানা গেছে তার শতকরা ২১ ভাগ হুমকির সম্মুখীন। জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল পরিবেশ বিনষ্ট, বিভিন্ন রোগ প্রধানত হুমকির প্রধান কারণ।  রয়েল বোটানিক্যাল গার্ডেনের সায়েন্স বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ক্যাথি উইল বলেন “পৃথিবীতে কত সংখ্যক উদ্ভিদ রয়েছে, তাদের আবাসস্থল এবং বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে পারস্পারিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানাটা খুব জরুরী। কারণ এটি স্পষ্ট যে উদ্ভিদ আমাদের বেঁচে থাকার এক অবিচ্ছেদ্য উপাদান”। তিনি আরোও বলেন-“ উদ্ভিদ আমাদেরকে অক্সিজেন যোগান দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি খাদ্য, জ্বালানী, ঔষধ সরবরাহ করে”। তবে তালিকা  চূড়ান্ত করতে গিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজ্ঞানীদের পাঠানো তথ্য উপাত্তের চুলচেড়া বিশ্লেষণ করতে হয়েছে। দেখা গেছে একই উদ্ভিদ সম্পর্কে বিভিন্ন জন বিভিন্ন নামে তথ্য পাঠিয়েছেন।  শৈবাল,মসবর্গীয়,লিভওর্ট  (স্পোর উৎপাদনকারী উদ্ভিদ যাদের ফুল হয় না), হর্নওর্ট (ব্রায়োফাইটের অন্তর্ভুক্ত এক ধরনের উদ্ভিদ যাদের ভাস্কুলার তন্ত্র অনুপস্থিত) জাতীয় উদ্ভিদ ব্যাতিরেকে বিজ্ঞানীরা যে তালিকা প্রকাশ করেছেন তাতে দেখা গেছে পৃথিবীতে মোট ৩,৯০,৯০০ টি উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে সপুষ্পক উদ্ভিদের সংখ্যা ৩,৬৯,৪০০ টি। এ সম্পর্কে প্রফেসর উইলস বলেন-“এটাতো শুধু স্থলভাগের চিত্র,এর বাইরো আরো কত উদ্ভিদ রয়েছে যাদের সম্পর্কে এখনো আমরা কিছুই জানি না”। তবে বিজ্ঞানীরা সবসময় নতুন নতুন উদ্ভিদ অনুসন্ধানে গবেষণা করে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালে যে সকল নতুন উদ্ভিদ সম্পর্কে জানা গেছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতার উদ্ভিদ হল এরষনবৎঃরড়ফবহফৎড়হ সধীরসঁস ।   পশ্চিম আফ্রিকার গেবন বনে জন্মানো এই উদ্ভিদের উচ্চতা ৪৫ মিটার। এই সকল উদ্ভিদ অনুসন্ধানে চীন, অস্ট্রোলিয়া ও ব্রাজিলের বিজ্ঞানীরা একযোগে কাজ করেছেন।

_89622292_begoniaruthiae-sabahjuliaanaksang

গত ১২ মাসে এমন ৯০টি নতুন বেগোনিয়া জেনাসের উদ্ভিদ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

তাদের গবেষণায় প্রাপ্ত তালিকায় বেগোনিয়া জেনাসের ৯০ টি নতুন উদ্ভিদ রয়েছে। এছাড়াও পোঁকামাকড় ভক্ষণকারী উদ্ভিদ উৎড়ংবৎধ সধমহরভরপধ রয়েছে তাদের নতুন তালিকায়। তবে উদ্ভিদের তালিকা নিয়ে গবেষণার এখানেই শেষ নয়। বিজ্ঞানীরা তালিকা নির্ণয়ের পাশাপাশি পৃথিবীর উদ্ভিদকূল যে প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হচ্ছে তা সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত হাজির করেছেন। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছেন উদ্ভিদের আবাসস্থল বিশেষ করে ম্যানগ্রোভ ও অন্যান্য বনের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন প্রজাতি বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হবে। বিলুপ্তির  কারণ হিসেবে অন্যান্য কারণের মধ্যে তারা বিভিন্ন প্রকার রোগ,ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রভাবকে দায়ী করেছেন। বিজ্ঞানীরা সাধারণত লাভজনক ও আমাদের প্রয়োজনীয় ফসলের রোগ নিরাময়ে গবেষণা করেন ও তা প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রতিষেধক উদ্ভাবন করেন।

_89622295_c0218134-parrot_s-feather_myriophyllum_aquaticum_-spl

প্যারেট ফিদারের মত এমন আক্রমণকারী উদ্ভিদ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের জন্য হুমকির কারণ

কিন্তু  বিভিন্ন বনে-জঙ্গলে জন্মানো হাজার হাজার উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধে কোন গবেষণা খুব একটা দেখা যায় না। এছাড়াও উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির জন্য আক্রমণকারী উদ্ভিদও দায়ী। দেখা যায় কোন একটি অঞ্চলে বছরের পর বছর কয়েক প্রজাতির উদ্ভিদ জন্মে। হঠাৎ করে সেখানে নতুন আক্রমণকারী উদ্ভিদ প্রজাতির আবির্ভাব হলে ঐ অঞ্চলের বাস্তুসংস্থানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বিনষ্ট হয় এবং একসময় উদ্ভিদের বিলুপ্তি ঘটে। পৃথিবীতে বিজ্ঞানীরা এমন ৪৯৭৯ টি উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছেন যাদের উপস্থিতিতে অন্য উদ্ভিদ প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। এছাড়াও বিজ্ঞানীরা দেখেছেন আমাদের এই পৃথিবীর যে সকল অঞ্চল উদ্ভিদের উপস্থিথিতিতে সবুজ তার শতকরা ১০ ভাগ পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল। পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনে এই সকল অঞ্চলের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে। এককথায় পৃথিবীতে উদ্ভিদের তালিকা নির্ণয়ের পাশাপাশি পরিবেশসহ বিভিন্ন প্রভাবে তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন নিয়ে বিজ্ঞানীরা বিস্তারিত গবেষণা করেছেন। এটি প্রমাণ করে এই পৃথিবীতে মানব সভ্যতার সবচেয়ে উপকারী বন্ধু গাছ কতটা হুমকির সম্মুখীন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তিত হচ্ছে উদ্ভিদের জীবনধারা, আর ধ্বংসের মুখোমুখী দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার উদ্ভিদ।
সূত্র: বিবিসি

বিজ্ঞান প্রসারের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বিজ্ঞান বক্তা আসিফ


বিজ্ঞান বক্তা আসিফ

বিজ্ঞান বক্তা আসিফ

২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের কথা। তখন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ছাত্র আমি। দ্বিতীয়বার ভর্তিপরীক্ষা দিব বলে শুয়ে বসে সময় কাটছে। তবে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ চলছে সমান তালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর কম্পিউটার রূমে রাতদিন মহাকাশ,মঙ্গলের মাটি,নতুন নভোযানের খবর,নতুন জীব,বিভিন্ন পরিবেশে জীবের বৃদ্ধি প্রভৃতি তথ্য জানতে চেষ্টা। দেখা যেত সকাল ১০টায় বসছি একটানা পাঁচটা পর্যন্ত আছি। নিজের কম্পিউটার ছিল না, লাইব্রেরীর কম্পিউটারে ঘন্টায় ১০ টাকা দিতে হত। যাইহোক বিজ্ঞানের প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ। ভর্তি পরীক্ষার পড়াশোনা লাঠে। ২০০৭ সালে মহাশূণ্য ভ্রমণে সুযোগ পওয়ার পর থেকে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌছে গেছে। চেষ্টা করছিলাম কোন বিজ্ঞান সংগঠনের সাথে কাজ করার জন্য। এর একটি কারণ বিজ্ঞান কাজে সরাসরি যুক্ত হওয়া ও বিশেজ্ঞদের কাছ থেকে নতুন নতুন বিষয় জানা। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে আমার জ্ঞান সামান্য তাই জানার চেষ্টা করা। লেখালেখিতে তখন অনিয়মিত। একদিন সাহস করে বিজ্ঞান নিয়ে একটা ফিচার সমকালে পাঠিয়ে দিলাম। লেখাটা প্রকাশিত হল,পাশাপাশি একটি মেইল এল বিজ্ঞান বক্তৃতা সম্পর্কিত। এখানে ডিসকাশন প্রজেক্ট নামে একটি বিজ্ঞান সংগঠনের ঠিকানা। ভাবলাম একটা সংগঠনের ঠিকানা জানা গেল। দেখি যুক্ত হওয়া যায় কি না। অবশ্য মেইলে দেখলাম আসিফ নামে একজন ব্যক্তি বক্তৃতা দেবেন। এর পূর্বে অনেকের নাম জানলেও মফস্বল শহরে বড় হওয়ায় এই নামটি জানা হয় নি। যাইহোক নম্বরে কল করাতে ঐ পাশ থেকে আমার সম্পর্কে মেইল করতে বলা হল। আমি যেহেতু বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করতে চাই,এই শহরে কত জ্ঞানী মানুষ রয়েছে,তাদের কাছ থেকে অনেক তথ্য জানতে পারবো। তাই বিপুল উৎসাহে নিজের মহাশূণ্য পরিচিতি হাইলাইট করে বিজ্ঞানে আগ্রহের বিষয়টি লিখে পাঠালাম। পরে উত্তর হিসেবে যোগাযোগের জন্য একটা নম্বর দেওয়া হল যা ছিল বিজ্ঞান বক্তা আসিফের নম্বর। খুব খুশি আমি বিজ্ঞান বক্তা আসিফের সাথে দেখা হবে। যাইহোক দিনতারিখ ঠিক হল। খুব সম্ভত দুপুরের দিকে আমাকে সোবহানবাগ মসজিদের পাশে থাকতে বলা হল। আমি যথারিতী পৌছে গেলাম। দাড়িয়ে আছি হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। ধরতে ফোনটা কেটে গেল,একজন এসে বললেন-রফিকুল? বললাম হ্যা। লোকটার কাঁধে একটা ব্যাগ,ঢিলেঢালা শার্ট, সাধারণ ঢিলেঢালা প্যান্ট ও সাধারণ জুতা। কাপড়চোপড় তেমন উজ্জ্বল নয়, অনেকটা ময়লাটে। বললেন রিক্সায় উঠুন। তারপাশে বসে আছি, ভাবছি আজ আসিফ স্যারের সাথে দেখা হবে। কতবড় বিখ্যাত মানুষ,আমাকে নিতে লোক পাঠিয়েছেন। যাইহোক ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে ধানমন্ডির এক বাসায় উঠলাম। দরজাতে সমকালের ট্যাগ,ভিতর থেকে একটা মেয়ে দরজা খুলে দিল,সরাসরি আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে গেলেন। কোন খাট নেই,বিছানা পাতা,সামনে দুটো কম্পিউটার দুই দিকে বিশাল তাক-বই আর বই, মেঝেতে বই। আমার চোখতো ছানাবড়া,আবার চরম খুশি। এমন বইয়ের সাগরইতো চাই আমি।  খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছি ,এ তো স্বর্গ পেয়ে গেছি। স্বপ্নতো আমি এমনি দেখি- চারদিকে থাকবে বই আর বই, মাঝে একটা টেবিল, শুধু পড়ব পড়ব আর পড়ব। বইগুলো খুটিয়ে খুটিয়ে দেখলাম । এত বইয়ের মধ্যে হাতেগোণা কয়েকটি বই আমার আছে। আমিতো অবাক এত বই মানুষ কিভাবে পড়ে! অপেক্ষায় আছি সেই বিখ্যাত মানষটিকে দেখার জন্য। রূমে কেউ নেই,কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারছি না। লোকটি একবার এসে বললেন একটু অপেক্ষা করেন, ভাবলাম তাকে জিজ্ঞেস করি আসিফ স্যার কখন আসবেন! কিন্তু ভাবলাম এত বড় বিখ্যাত মানুষ তার সঙ্গে দেখা করার জন্য তো অপেক্ষা করাই যায়। যাই হোক কিছুক্ষণ পর সেই মানুষটিই রূমে আসলেন, আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। বললেন-আপনি মহাশূণ্যে যেতে পারেন নি আমরাও অনেক দু:খ পেয়েছি,বলে সমকালের একুট পুরনো কপি দিলেন যেখানে আমাকে নিয়ে একটি ফিচার ছিলা “রফিকুলকে দেখতে শত মানুষের ভীড়” এই শিরোনামে। এরপর তিনি আমার বিজ্ঞান ভাবনা জানতে চাইলেন। আমি আমার স্বপ্নগুলো তাকে বললাম । বলছি কিন্তু শান্তি পাচ্ছি না কারণ আমিতো আসিফ স্যারকে দেখব, ওনাকে এত কথা বলে কি লাভ! এরপর লোকটি শুরু করলেন। বললেন প্রথম জীবনের কথা। শুরুটা এভাবে-আমার প্রথম বক্তৃতার কথা, কয়েকজন বন্ধুদের ডেকে কথা বলেছিলাম,বিনিময়ে টাকা (টাকার পরিমাণ আমার মনে পড়ছে না)নিয়েছিলাম। এরপর দুজন চারজন করে বাড়তে লাগল্ োনিয়মিত চলতে থাকলে আমার বক্তৃতা। এই কাজটাকে ডিসকাশন প্রজেক্ট নামে যাত্রা শুরু করলাম। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বক্তৃতা দিয়েছি। হাতে আঁকানো ছবি,পোস্টার নিয়ে,বৃষ্টির মধ্যে বক্তৃতা দিতে গেছি। আমি অবাক হয়ে দেখেছি যে দেশের মানুষ খেতে পায় না,তবুও টাকা দিয়ে আমার বক্তৃতা শুনে । আজ এতবছর ধরে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে আমি আমার টিম নিয়ে চষে বেড়িয়েছি। এমন অনেক বক্তৃতার ঘটনা, তার স্বপ্ন, ভবিষ্যত পরিকল্পনা আমাকে বলছেন। আর আমিতো অবাক হচ্ছি, আর মনযোগ শ্রোতার মত শুনছি। কারণ প্রথম এর সঙ্গে আমি রিক্সায় এসেছি। আশা করেছিলাম তিনি হবেন উচ্চবিলাসী,সে গাম্ভীর্য একজন মানুষ।এত সাধারণ, আন্তরিক, সহজ, সরল সাধারণ জীবনযাপনকারী মানুষটি বিজ্ঞান বক্তা আসিফ আমার যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। যাহোক অনেক আলোচনা শেষে আমি তার সাথে যুক্ত হওয়ার মত পোষণ করলাম। তিনি আশাও দিলেন না, হতাশও করলেন না। একমাস পর্যবেক্ষণে রাখবেন বলে জানালেন। যাইহোক সেইতো পথ চলা। তারপর আজ ২০১৫ অর্থাৎ ছয় বছর আসিফ ভাইয়ের সাথে আছি। বিজ্ঞান নিয়ে তার সংস্পর্শে থাকা, তার উদ্যোমি পরিশ্রমী কিছু বিজ্ঞান কর্মীর সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর সুরের কথা ভুলবার নয়। অদম্য প্রতিভাধর এই ব্যক্তির হাত ধরে আমার বিজ্ঞান নিয়ে জাতীয় পত্রিকায় লেখার হাতেখড়ি। সেই থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় লিখে আসছি। এমন অনেক বিজ্ঞান কর্মীকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন বিজ্ঞান বক্তা আসিফ। শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন, তাদের কাছে বিজ্ঞানকে প্রমাণ করেছেন সহজবোধ্য ও আগ্রহের বিষয়। পাশাপাশি রচনা করেছেন বিজ্ঞান বিষয়ক অসংখ্য বই। বাংলাদেশের বিজ্ঞান গবেষণায় জগদীশচন্দ্র বসু, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা, আব্দুল জব্বার, প্রফেসর জামাল নজরূল ইসলাম হিরন্ময় নাম। আর নতুন  প্রজন্মের মাঝে বিজ্ঞান  প্রসারের মাধ্যমে বিজ্ঞান মনস্ক সমাজ গড়ার অগ্রপথিকদের মধ্যে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র বিজ্ঞান বক্তা আসিফ। বিজ্ঞান  প্রসারে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি পরিচালিত হালিমা শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার পাচ্ছেন সাংবাদিক ও বিজ্ঞান বক্তা আসিফ।  প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞান কর্মী আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীনের মা হালিমা শরফুদ্দীনের নামে বাংলা একাডেমি  প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে থাকে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞান বক্তা আসিফের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। বাংলা একাডেমি এই পুরস্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞান  প্রসারের এক অ অগ্রপথিককে সম্মানিত করার পাশাপাশি সারাদেশে বিজ্ঞান  প্রসারের কাজে নিয়োজিত সকলকে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের সকল বিজ্ঞান কর্মীর পক্ষ থেকে বিজ্ঞান বক্তা আসিফকে অভিনন্দন। পরিশেষে আপনি আমাদের মাঝে থাকুন দীর্ঘ বছর, বাংলার প্রান্তে প্রান্তে আপনার অনুপ্রেরণায় ছড়িয়ে পড়ুক নতুন  প্রজন্ম। বিজ্ঞান আন্দোলনের গতি ত্বরান্বিত হোক, গড়ে উঠুক একটি বিজ্ঞান মনস্ক ও বুদ্ধিদীপ্ত সমাজ ।

শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানে অনাগ্রহ ও আমাদের করণীয়


stock-photo-18607204-scientific-researchধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে বিজ্ঞানের কোন বিকল্প নেই। উন্নত এবং সমগ্র বিশ্বে কতৃত্ব প্রতিষ্ঠাকারী সকল দেশ বিজ্ঞানের উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। একমাত্র বিজ্ঞানই পারে নতুন নতুন গবেষণা ও আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক জাতি গঠন করতে। ঠিক যে সময়ে পৃথিবীর সমগ্র দেশ বিজ্ঞানের উন্নয়নে তৎপর, সে সময়ে বাংলাদেশের চিত্র বেদনাদায়ক। গত মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল ২০১৪) দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত “বিজ্ঞানে অনাগ্রহ কমছে শিক্ষার্থী” প্রতিবেদনে এটি স্পষ্ট যে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিষয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগে পড়–য়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। সরকারী ও বেসরকারী গবেষণায় এটি স্পষ্ট যে বিজ্ঞানে আমাদের গতি নি¤œমুখী। “বিজ্ঞানের কোন বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি ও তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?” এমন বিষয়কে সামনে রেখে আমি ও ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী (সমন্বয়ক, বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটি) গত বছর থেকে গবেষণা করছি। আগামী কয়েকবছর আমরা বাংলাদেশের সকল অন্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুসন্ধান চালাব। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে কেন? বিজ্ঞান বিষয় পঠনে কোন উপাদানগুলো আবশ্যক তা জানতে পারলে আমরা কারণ অনুসন্ধান করতে পারবো। বিজ্ঞান একটি পরীক্ষালব্ধ জ্ঞান। ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয় দুটি অংশই বিজ্ঞান শিক্ষার সাথে জড়িত।

প্রথমত, বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞ শিক্ষক। শিক্ষককে বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট বিষয়ে তত্বীয় জ্ঞান থাকলে হবে না, তাকে হতে হবে হাতে কলমে দক্ষ । বিষয়টির সাথে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য জ্ঞান যা শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলবে ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগ সম্পর্কিত জ্ঞান থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন শিক্ষকের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। শহরের প্রতিষ্ঠানে এই সমস্যাটি প্রকট না হলেও গ্রামের চিত্র করুণ। তবে আমাদের পিছন ইতিহাস যথেষ্ট উন্নত যখন গ্রামের প্রতিষ্টানে অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক শিক্ষা প্রদান করতেন। আমার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এমন একজন শিক্ষককে দেখে যাকে আমি আমার জীবনের প্রথম বিজ্ঞানী বলে থাকি। শ্রদ্ধেয় আমানুল্লাহ স্যার যার কাছ থেকে প্রথম আমি অনুবীক্ষণ যন্ত্রে পিঁয়াজের কোষ দেখেছিলাম। আমি যে প্রতিষ্ঠানে (পান্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুমারখালি, কুষ্টিয়া) পড়তাম সেই প্রতিষ্ঠানে নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগ নেয়ার পূর্বেই সকল শিক্ষার্থাদের কঙ্কালতন্ত্র, প্রিজমে আলোর প্রতিসরণ ইত্যাদি দেখার সুযোগ ছিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামে এমন চিত্র একসময় খুবই স্বাভাবিক ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্টানগুলোতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের মূল স্বাদ গ্রহণের লক্ষ্যে উন্নত গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা আবশ্যক। বাংলাদেশের মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণাগারের সংখ্যা অতি নগণ্য। অনেক প্রতিষ্টানে গবেষণাগার থাকলেও যথাযথ ব্যবহার নেই। গবেষণাগার হিসেবে একটি কক্ষ ও কয়েকটি যন্ত্রপাতি যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি অধিক আগ্রহ গড়ে তুলতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান সমৃদ্ধ গবেষণাগারের কোন বিকল্প নেই। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে গবেষণা করার সুযোগ দিতে হবে। এমন অসংখ্য প্রতিষ্টান আছে যেখানে শিক্ষার্থীরা গবেষণায় আগ্রহ দেখায় না। এর অনেকগুলো কারণের একটি জরিমানা ভীতি। শিক্ষার্থীদের প্রথমেই জানানো হয় কোন যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে তাকে জরিমানা প্রদান করতে হবে। এর ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী কোন পরীক্ষণ থেকে বিরত থাকে।

তৃতীয়ত, আধুনিক তথ্য ও গবেষণা সমৃদ্ধ পাঠ্যপুস্তকের বহুল ব্যবহার যা শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন জ্ঞান আহরণে সহযোগীতা করবে। পাঠ্যপুস্তকের পাশপাশি অসংখ্য বিজ্ঞান বই থাকবে যা তাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করবে। দেশ বিদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষণা সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকা খুবই প্রয়োজন। লক্ষ্য করা যায় যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের সকল বিজ্ঞানী ও তাদের কাজ সম্পর্কে খুব কমই জানে। শিক্ষার্থীরা অধিক গবেষণা সম্পর্কে জানলে তাদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হবে যা তাদের নতুন নতুন বিষয়ে জ্ঞান পিপাসা বৃদ্ধি করবে। পাঠ্যপুস্তকের বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে হবে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশের পাঠ্যপুস্তক সৃজনশীল পদ্ধতির অনুকরণে, তবুও তথ্য ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করা আবশ্যক। মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞানের বইয়ের চিত্রগুলো রঙিন হওয়া খুবই জরুরী। একজন শিক্ষার্থী পড়ছে গাছের পাতা সবুজ কিন্তু দেখছে সাদা-কালো যা তাদের চিন্তার ক্ষেত্রকে সংকুচিত করবে।

চতুর্থ, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভাবনার প্রসারণের স্বার্থে বিজ্ঞান কর্মসূচি ও ভ্রমণের আয়োজন করতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিজ্ঞান উৎসব, বিজ্ঞান পাঠের আসরের আয়োজন করলে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের মূল বিষয় অনুধাবন করতে পারবে। নিজেদের প্রতিভা উপস্থাপনের লক্ষ্যে নতুন নতুন বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিজ্ঞান স্থাপনা ভ্রমণ শিক্ষার্থীদের চিন্তার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করবে। তবে বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখা যায় না। তবে এক্ষেত্রেও শহরের কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রতীয়মান হলেও গ্রামে খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না।

আলোচনায় এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান যে বিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারের প্রধান উপাদানগুলোর অপূর্ণতায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি অনাগ্রহের প্রধান কারণ। এছাড়াও পড়াশোনা শেষে কর্মক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতা বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সুষ্টি না হওয়ার অন্যতম কারণ। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে বাণিজ্য শাখা চালুর পর থেকে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষাথী কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে বাণিজ্যিক বিষয়টি সবচেয়ে অগ্রসরমান ক্ষেত্র। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের দ্রুত প্রসার বাণিজ্য বিষয়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। অপরদিকে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের কর্মস্থল গবেষণা প্রতিষ্টানগুলোর অবস্থা নাজুক। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা গুরুত্ব দেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয়। দেখা যায় বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে অনেক শিক্ষার্থী এম.বি.এ করছেন ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত হচ্ছেন। সেই তুলনায় বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হচ্ছে না । ফলে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

সূত্রানুযায়ী ২০০৯ সালে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল ১৪,৫১,০০০ জন, এর মধ্যে ২০১০ সালে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে ২,৪০,০০০জন, ২০১১ সালে মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থী ২,১৬,০০০জন এবং ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ১,৩৮০০০ জন। এই সংখ্যা থেকে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের অবস্থান সহজে অনুধাবন করা যায়। তবে শিক্ষার্থীরা প্রথম থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি অনাগ্রহী এমনটা ভাবার কোন সুযোগ নেই। একজন বিজ্ঞানকর্মী হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে গমন ও ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। প্রতিক্ষেত্রে আমি বিজ্ঞানের প্রতি তাদের তীব্র আগ্রহ লক্ষ্য করেছি । কিন্তু তাদের এই আগ্রহ শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে সরকারী ও বেসরকারীভাবে অনেক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বি.সি.এস.আই.আর ,বিজ্ঞান একাডেমী বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগীতার মাধ্যমে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি, বিজ্ঞান চেতনা পরিষদ, জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটি, পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটি, ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড কমিটি, ডিসকাশন প্রজেক্ট, বাংলাদেশ এস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ এস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি, অনুসন্ধিৎসু চক্র প্রভৃতি সংগঠন বিজ্ঞানকে শিক্ষার্থীদের মাঝে অধিক জনপ্রিয় করে তুলেছে। বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ থাকলে তা দূর করার জন্য যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারী-বেসরকারী বিজ্ঞান সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় বিজ্ঞান কমিশন গঠন করতে হবে। কমিশনের কাজ হবে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞান জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অনুসন্ধান ও পরিকল্পনা গ্রহণ। এর আওতায় থাকতে পারে- বিজ্ঞানের শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণাগারের আধুনিকায়ন, পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন, গবেষকদের সার্বিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণা প্রতিষ্টানে অধিক গুরুত্ব প্রদান ইত্যাদি। এই সকল ক্ষেত্রের সঠিক বাস্তবায়নই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশ হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নত এক জাতি। যা বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সভাপতি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের স্বপ্ন “২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যে কেউ বিজ্ঞানে নোবেল নিয়ে আসবে” বাস্তবায়ন করবে।

স্মৃতিময় বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ


বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ ২০১৩ এর পোষ্টার

বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ ২০১৩ এর পোষ্টার

বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ যা উদযাপিত হয় প্রতিবছর ৪অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর। এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টোনভিত্তিক এসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড স্পেস উইকের তত্ত্বাবধানে সারা বিশ্বে উদযাপিত হয়ে থাকে। এই বিষয়টির সাথে আমার পরিচয় ঘটে ২০০৭ সালে। মূলত ২০০৭ ছিল আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ২০০৭ এ বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপনের একটি অংশ ছিল সারা বিশ্বের কিছুসংখ্যক  শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে মহাশূণ্য পাঠানো। এর অংশ হিসেবে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। সমগ্র বিশ্বের প্রায় ৮লক্ষ শিক্ষার্থীর মধ্যে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত চারজনের তালিকায় মধ্যে এই অধমের নামটি ছিল। আর এটিই ছিলো সমগ্র বিশ্বের কোন প্রথম বাঙালীর মহাশূণ্য ভ্রমণের সুযোগ। বিশেষ কারণে এই মিশনে আমি অংশগ্রহণ করতে পারি নি। খুবই মর্মাহত হয়েছিলাম তখন । এখন  নিজেকে ফিরিয়ে এনেছি। প্রতিবছর অক্টোবর আসলে ২০০৭ এর কথা মনে হয়। আজ সমকালের বিজ্ঞান বলয় পাতায় বিজ্ঞানবক্তা আসিফের বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ এর উপর একটি লেখা দেখে  আবেগতাড়িত হলাম।

আজ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩) দৈনিক সমকালের বিজ্ঞান বলয় পাতায় বিজ্ঞান বক্তা আসিফের লেখনী

আজ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩) দৈনিক সমকালের বিজ্ঞান বলয় পাতায় বিজ্ঞান বক্তা আসিফের লেখনী

এখন বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় একটু আধটু জানার চেষ্টা করি। বাংলাদেশে মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপনে সবচেয়ে অগ্রসর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি। এই সংগঠনটির শ্রদ্ধেয় এফ.আর. সরকার স্যার অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে উদযাপন করেন। পাশাপাশি এবার  বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপন করবে ডিসকাশন প্রজেক্ট। এক কথায় বাংলাদেশে অত্যান্ত জাঁকজমকভাবে এটি উদযাপিত হয়। বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহকে সামনে রেখে সকল বিজ্ঞান প্রেমীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আর বিজ্ঞান সংগঠকদের প্রতি অনুরোধ বিজ্ঞানকে মানুষের (বিশেষ করে শিশু কিশোরদের)  কাছে জনপ্রিয় করে তুলুন যা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার প্রধান দাবি।

ক্যান্সারের বিবর্তন রহস্য উন্মোচন


lung-cancer-s12-lung-cancer-cell-division

ক্যান্সারের বিবর্তন ও ক্যান্সার চিকিৎসায় পদার্থবিজ্ঞানের সম্পর্ক নিয়ে ফিজিক্স ওয়ার্ল্ডে প্রকাশিত পল ডেভিসের লেখনীর বাংলা বঙ্গানুবাদ।

অনুবাদঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম

পল ডেভিসের মতে ক্যান্সার একটি প্রাচীন ব্যাধি যা সর্বপ্রথম  বিলিয়ন বছর পূর্বে বহুকোষী জীবে দেখা যায়। একজন পদার্থবিদের কাছে জীবন অনেকটা জাদুবিদ্যার মত। জীবিত কোষের জটিল সব কার্যপদ্ধতি দেখে একজন পদার্থবিদ স্বভাবতই অবাক হন। যদিও কিছু জৈবিক পদ্ধতি গণনানির্ভর। এর মধ্যে অন্যতম ডিম্বকের বৃদ্ধি। ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটে। ক্যান্সারের উৎপত্তি ও বৃদ্ধির ধরণ সকল রোগীর ক্ষেত্রে এক নয় অর্থাৎ একজনের ক্ষেত্রে যেমনটা ঘটবে অন্যদের ক্ষেত্রে তা নাও ঘটতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানের কোন একটি ঘটনা যখন একটি নিয়ম বা সুত্র মেনে চলে তখন একজন পদার্থবিদ এই ঘটনার Af¨všÍixY কারণ  অন্বেষণ করেন। ২০০৯ সালে  যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউট  বারটি পদার্থবিজ্ঞান ও টিউমার গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। মূলত ক্যান্সার গবেষণা ও ক্যান্সার চিকিৎসার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনই ছিল এই গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মূল উদ্দেশ্য।

যখন আমাকে এই গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন আমি ক্যান্সার সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমার পড়াশোনা ছিল তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান ও কসমোলজি নিয়ে।  প্রথমে আমি শুধুমাত্র ক্যান্সার কি এটি জানার চেষ্টা করলাম। এরপর ক্যান্সারের ভয়াবহতার কারণ এবং পদার্থবিজ্ঞানের কোন বিষয়গুলো এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে তা জানার জন্য পড়াশোনা শুরু করলাম। পাশাপাশি ভাবছিলাম ক্যান্সারের সর্বব্যাপীতা এবং পৃথিবীর কোন অঞ্চলগুলোতে উপস্থিতি এই বিষয়ে। সাধারণত এই ধরণের প্রশ্নগুলো একজন ক্যান্সারের চিকিৎসক খুব কমই জানার প্রয়োজন অনুধাবন করেন।

ক্যান্সার কি জীনগত রোগ?

lung-cancer-s2-photo-of-lung-cilia

ধীরে ধীরে আমি জানলাম মানুষ, পাখি,মাছ ও সরীসৃপের মাঝে ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। পাশপাশি এটাও জানলাম কমপক্ষে শত মিলিয়ন বছর আগে এই রোগের উৎপত্তি । বহুকোষীয় জীবদেহে এই রোগের উপস্থিতি দেখা যায় যা প্রমাণ করে জীবনের সাথে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একবার উৎপত্তি হলে ক্যান্সার নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংক্রমিত হয়। প্রথমে কোন অঙ্গাণুতে কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায় এবং টিউমার বা নিউপ্লাজম গঠন করে। এরপর নিউপ্লাসটিক কোষ টিউমার থেকে বের হয়ে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পরে এবং অন্য অঙ্গাণুতে কলোনি গঠন করে। এই পদ্ধতিকে মেটাস্টাসিস বলে। শরীরের লিম্ফাইটিক পদ্ধতি বা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ প্রবাহিত হয়। এক্ষেত্রে এই কোষ টিস্যুর মধ্যে দিয়ে টানেল সৃষ্টি করে, মেমব্রেনের উপর চাপ সৃষ্টি করে । ফলে ভেসেলের মধ্যে ক্যান্সার কোষগুলোকে চাপের সম্মুখীন হতে হয়। এই চাপ রোধ করতে ক্যান্সার কোষ বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে। কোষের গতিপথের ক্ষুদ্র পরিবেশ মেটাস্টাসিস সফলের ক্ষেত্রে ভুমিকা পালন করে। প্রাথমিক টিউমার সংক্রামকের জন্য দেহে রাসায়নিক পদার্থ  নিঃসৃত করে এবং মেটাস্টাসিস টিউমার সুস্থ কোষকে ক্যান্সার  উপযোগী করে তোলে। এই বিক্ষিপ্ত নিওপ্লাজম একটি দীর্ঘমাত্রার সুশৃঙ্খল বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে । এটি হল বিভিন্ন রাসায়নিক ও ভৌত পদ্ধতি দ্বারা ক্যান্সার কোষের বিস্তৃত যোগাযোগ মাধ্যম সঞ্চালন ও পরিচালনা। পুরো ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত যার উদ্দেশ্য ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন অঙ্গাণুতে কলোনি সৃষ্টি করা। শাস্ত্রীয় মতে জীনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি হয়। দৈবক্রমে শরীরের কোন অংশে ক্যান্সার দেখা দিলে একটা সময় পর তা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে এবং দেহে স্থায়ী হয়। তবে এটা সত্য যে ক্যান্সার অস্বাভাবিক জীনের প্রতিফল। এটি ডি.এন.এ চেইনের অনুলিপি বা স্ফীত নিউক্লিয়াস সৃষ্টির ফলে ঘটে থাকে। যদি জীন পরিবর্তন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে থাকে তাহলে উৎপন্ন কোষ অসম্পূর্ণ হতে বাধ্য হয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে জীন পরিবর্তন ঘটার কোন স্পষ্ট কারণ এখনও অজানা। ক্যান্সারের সুপ্তাবস্থা খুব জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী । অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক টিউমার নির্মূল করার কয়েক বছর , এমনকি কয়েক দশক পরেও ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা যায়। এছাড়া ধীরে ধীরে দেহকোষে স্থানান্তরিত হওয়া ক্যান্সারের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। বিপরীতভাবে স্বাভাবিক নিউক্লিয়াস ক্যান্সার কোষে রূপান্তরিত হয়। পদার্থবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বল ও ক্ষেত্রের সুত্র বিদ্যমান যা সম্পূর্ণরূপে জীনতাত্ত্বিক নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। উদাহরণস্বরূপ ক্যান্সারের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে অনেকটা নাটকীয়ভাবে কোষের ইয়াং মডুলাস পরিবর্তিত হয়। এছাড়া কোষ, মাইটোকন্ড্রিয়ার মেমব্রেন ও টিস্যুর মধ্যে তড়িৎ ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয় যা স্বাভাবিক ও বিকলাঙ্গ কোষ সৃষ্টির কারণ । এই সকল ঘটনা ক্যান্সারের আদর্শ জীনতাত্ত্বিক মডেলের জন্য একটা সমস্যা। কেউই অস্বীকার করতে পারবে না যে ক্যান্সারের ফেনোটাইপের জন্য জিনোম পরিবর্তন কিছুটা দায়ী । তবে পরিবেশের বিভিন্ন প্রভাবকের ভুমিকা এক্ষেত্রে কম নয়। এই বিষয়টাকে সমষ্টিগতভাবে বলা এপিজেনেটিক্স যা টিস্যুর গঠন,স্থিতিস্থাপকতা ও তড়িৎ বিভবের সমন্বয়ে গঠিত।

প্রাচীন রোগ ক্যান্সার

breast-cancer-s11-stages-of-breast-cancer

এই জটিলতার সম্মুখীন হয়ে আমি এবং Australian ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চার্লস লিনেভার ক্যান্সারের একটি ভিন্ন তত্ত উত্থাপন করি। কোন অঙ্গানু ও তার কোষগুলোর মধ্যকার আকর্ষণের বিচ্যুতির ফলে ক্যান্সারের সৃষ্টি এই বিষয়ে সকল জীববিজ্ঞানীরা একমত । এই আকর্ষণই নির্ণয় করে ক্যান্সারের উৎপত্তি বিলিয়ন বছর পূর্বে । এককোষী জীবের কোষ সংখ্যাবৃদ্ধি বিভাজনের মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং এরা অমর বলে ধরে নেওয়া হয়। বহুকোষী জীবের ক্ষেত্রে জীনের বৈধতা নির্ণীত হয় প্রজনন কোষ অর্থাৎ ডিম্বাণু ও শুক্রানু দ্বারা। যদিও সকল বহুকোষী জীবের ডি.এন.এ একই তবে  কিডনি,পেশী ও মস্তিস্কের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা যায়। এদেরকে দৈহিক কোষ বলা হয় যা অঙ্গাণুর সুবিধার জন্য একসময় মৃত্যুবরণ করে যা অনেকটা অন্যর উপকারে নিজের জীবন দানের মত। একে এপোপটসিস বলে।  দৈহিক কোষে এই ঘটনা নিয়মিত দেখা যায়। কিন্তু দেখা যায় এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এই কাজ সম্পাদনে নিয়ামকের ভুমিকা অপরিহার্য। যদি কোষ এই নিয়ম না মেনে চলে বা এপোপটসিস না ঘটায় তাহলে কোষের বৃদ্ধি ঘটে না এবং নিওপ্লাজম গঠন করে। লিনেভার এবং আমি এই অনিয়ন্ত্রন ঘটনার উপর ভিত্তি করে তত্ত প্রদান করি। অবশ্য এক্ষেত্রে বিবর্তন জীববিদ্যা,অণুজীববিদ্যা ও জ্যোতিজীববিজ্ঞান নিয়েও কাজ করতে হয়েছিল। এই গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা নাসা এস্ট্রোবায়োলজি ইন্সটিটিউটের সহযোগিতা নিয়েছিলাম। এক কথায় আমরা একমত হলাম ক্যান্সার পূর্বপুরুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি ব্যাধি। কোষ একটি বিশেষ পদ্ধতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যা এর মৃত্যু বা সংখ্যাবৃদ্ধি নির্দেশ করে। যখন এই পদ্ধতি নিষ্ক্রিয় হয় তখন কোষ পূর্বপুরুষের ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় ফিরে আসে।

আমাদের পুনঃপ্রকোপ বা অ্যাটাভিজম তত্ত্ব অনুযায়ী বর্তমানে আমরা যে কোষ দেখি তা পুরপুরুষের গুণাগুণ ধারণ করে। এই ধারনা আরও স্পষ্ট হয় যখন আমরা দেখি একজন মানুষ লেজ বা অতিরিক্ত স্তনের বোঁটা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে বা ডলফিনের ডানা দুইটির পরিবর্তে চারটি। প্রাচীন জীনের গতিপথ তখনই সংরক্ষিত হবে যখন  তা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে গতিশীল হবে। এমনই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য হল এম্ব্রাইওজেনেসিস। একটি উর্বর ডিম্বাণুর প্রাথমিক গঠনেই দেহের মৌলিক অঙ্গাণুগুলো সুপ্ত থাকে। কারণ সকল প্রাণী একটি বিবর্তনের মাধ্যমে অতীত গুণাগুণ ধারণ করে। সকল প্রাণীর ক্ষেত্রে শিশু ভ্রূণ সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।  এমনকি ভ্রুনাবস্থায় মাছ ও মানুষের মধ্যে ফুলকা ও লেজের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রয়েছে। এটি বিস্মিত হওয়ার মত কোন খবর নয়। বিবর্তন মূলত অতীতের চিত্র বা ঘটনার উপর নির্ভর করে যা পুনরাবৃত হয়। প্রাচীন কোন গুনাগুণের পরিবর্তন বা বিলুপ্তি ভ্রূণ গঠনের ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। ভ্রূণীয় ধাপ দ্রুত হলে অতীতের গুণাগুণ প্রকট হয় এবং সঠিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতিতে সংরক্ষিত হয় । আমাদের ত্বত্তের সাথে সম্পর্কিত ভ্রূণ কোষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা যে কোন অঙ্গাণুর কোষ গঠন করতে পারে। ভ্রূণের বৃদ্ধির সাথে সাথে কোষগুলো পূর্ণ অঙ্গাণুতে পরিণত হয়। কোন অঙ্গানু গঠনকারী কোষগুলো একইরকম এবং ক্রমবিকাশের ফলে ভিন্ন ভিন্ন জীন সুপ্ত থাকে যার ফলে ভিন্ন ভিন্ন কোষ স্পষ্ট হয়। যা হোক দেহকোষ প্লুরিপটেন্সি লাভ করে এবং অপূর্ণ বা দুর্বল কোষগুলোকে পূর্ণ করে। লিনেভার ও আমার মতে যে সকল কোষ এম্ব্রাইওজেনেসিসের প্রাথমিক ধাপগুলোতে সক্রিয় থাকে কিন্তু পরবর্তীতে নিষ্ক্রিয় হয় তারা প্রাচীন ও সবচেয়ে সুরক্ষিত কোষ। এই কোষগুলো সঠিকভাবে কাজ করে না এবং নষ্ট হয়। এর ফলে অস্বাভাবিক ঘটনা প্রতীয়মান হয় যা ক্যান্সার। আমরা ক্যান্সার ফেনোটাইপ প্রদর্শনকারী কিছু প্রাচীন জীনের সন্ধান লাভ করেছি যা পরিভ্রমণ করে,কলোনি সৃষ্টি করে এবং ভ্রূণ কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়াকে ব্যাহত কর। এছাড়া এই কোষ অন্য টিস্যুতে স্থানান্তরিত হতে পারে।

সত্যতা যাচাই

breast-cancer-s8-photo-of-breast-biopsy

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় ভ্রূণের ও টিউমারের উৎপত্তির মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আইজ্যাক কোহানি একটি জীন শৃঙ্খল সনাক্ত করেন যা ক্যান্সার রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। এছাড়াও এই জীন ভ্রূণ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। নিউইয়র্কের আলবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিনের জৈবপদার্থবিদ জন কনডেলিস সনাক্ত করেন ক্যান্সারের জীনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ভ্রূণ টিস্যু গঠনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। পরবর্তীতে ডিম্বাণু কোষের নিউক্লিয়াসকে ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষের নিউক্লিয়াস দ্বারা প্রতিস্থাপন করার ঘটনা আমাদের প্রদত্ত তত্ত্বকে সমর্থন করে। এটি বিস্ময়কর যে প্রথম দিকে ভ্রূণ স্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ক্যান্সারের মাত্রা  প্রকট হলে ভ্রূণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ভ্রূণীয় ধাপের সাথে ক্যান্সারের এই বিপরীত সম্পর্ক আমাদের তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ক্যান্সার কোন সাধারণ ঘটনা নয়। দেহে একবার উৎপত্তি হলে কোষবৃদ্ধি,পরিভ্রমণ ও কলোনি সৃষ্টির মাধ্যমে এর বিস্তার ঘটে। লিনেভার ও আমার বিবেচনায় ক্যান্সারের বিস্তৃতি সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ঘটে। শরীরে ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামকগুলোর ভাঙ্গন ঘটলে ক্যান্সার তার লক্ষণ প্রকাশে অক্ষম হয় । যদি আমরা সঠিক হয় তাহলে ক্যান্সারের স্বতন্ত্র চিত্র জীবনের বিবর্তনের সাথে বিপরীত সম্পর্ক প্রদর্শন করবে। উদাহরণস্বরূপ জীবদেহে কোষ সংলগ্নতা দ্বারা একে অন্যের সাথে যুক্ত থাকে। ক্যান্সার বৃদ্ধির সাথে সাথে এই সংলগ্নতা পরিবর্তিত হয়ে অনেকটা প্রাচীনদের মত হয়। মূলত বহুকোষী জীবে বিভিন্ন ধরণের সংলগ্নতা বিদ্যমান যা ক্যান্সারের ফলে পূর্বেকার বা প্রাচীন বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। জীবনের প্রাথমিক গঠনের সাথে ক্যান্সারের সামান্য পার্থক্য আছে। ক্যান্সার কোষ গাঁজন ও গ্লাইকোলাইসিস পদ্ধতিতে প্রাচীন কোষের সাথে  নিজেকে মানাতে পারে যা কোষের সাইটোপ্লাজমে সংগঠিত হয়। অন্যদিকে সজীব কোষে অক্সিডেশন ফসফরাইলেশন ঘটে যা মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয়। গাঁজনের ফলে অক্সিজেনের নিম্ন মাত্রা, অধিক চিনির উপস্থিতি এবং অম্লীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয় যা টিউমারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশের উপযোগী। এই গ্রহের প্রায় সব পরিবারে আজ ক্যান্সারের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে যা শারীরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ। এটি রোধে অস্ত্রোপচার,টক্সিন বা তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার অনেকটা বিলম্বিত কৌশল। গত পাঁচ দশকে মেটাস্টাসিস ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সুস্থ হওয়ার ঘটনা খুবই সামান্য। তবে এটা সত্য ক্যান্সার প্রতিরোধে নতুন পদ্ধতি আবিস্কার করতে হবে।  সময়ের সাথে সাথে ক্যান্সার মানব জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যাচ্ছে। হয়তবা ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয় তবে এর বিস্তৃতি রোধ করা সম্ভব। তবে এই পদ্ধতি আবিস্কার তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা ক্যান্সার সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারব।

কি দিয়েছেন বোস আমাদের?


প্রযুক্তির সাথে বেঁচে থাকবেন অমর বোস

প্রযুক্তির সাথে বেঁচে থাকবেন অমর বোস

১২ জুলাই ২০১৩ এই বিশ্ব হারিয়েছে অমর গোপাল বোসকে কিন্তু আমরা তার অবদানের কথা বহু বছর ধরে মনে রাখব। বোস ৪৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এম.আই.টিতে সফলভাবে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি তার পাঠদান এবং শ্রুতিবিদ্যা ,ইলেক্ট্রনিক্স ও ব্যবসা দ্বারা শত শত শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণীত করেছেন। এম.আই.টির পরিধির বাইরেও বোস একটি জনপ্রিয় এবং স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের নাম। বোস কোম্পানি নামে তিনি একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন যা কোন উৎস থেকে শব্দ শোনার উন্নত পদ্ধতি নিয়ে কাজ করে। এটি মূলত মিশ্রিত বা ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দ দূর করে মূল শব্দ শোনার একটি পদ্ধতি।

অমর গোপাল বোসের অবদান বোস কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা। ১৯৬০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এম.আই.টির ছাত্র হওয়াতে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি। এই সময় বোস কনসার্ট হলের শব্দ নির্ণয় ও আমাদের শব্দ শ্রবণ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি দেখেন যে আমাদের কান ও শ্রবণ অনুভূতি সরাসরি উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দ এবং আশেপাশের প্রতিফলিত শব্দের একটি জটিল মিশ্র শব্দ তৈরি করে। এই আবিষ্কারের ফলস্বরূপ বোসের প্রথম পণ্য ৯০১ স্পিকার সিস্টেম। এটি ছোট ছোট সস্তা স্পীকারের বিন্যাস যা উৎসের উৎপন্ন শব্দ এবং আশেপাশের প্রতিফলিত শব্দকে শৃঙ্খল করে। বোস কর্পোরেশন একটি বিলিয়ন ডলারের উদ্যেগ যা বিভিন্ন প্রকার শব্দযন্ত্রের ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বে তাদের সুনাম অর্জন করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের পণ্যের দাম বেশি হলেও মান এবং দক্ষতার ক্ষেত্রে বাজার দখল করেছে। বোসের যে প্রোডাক্টগুলো আমি কিনেছিলাম তা এখনও ব্যবহার করছি। আমি স্বীকার করি প্রথমে আমি বোসের পণ্য ক্রয় করি নি। এম.আই.টিতে যখন আমি স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে তখন ছোটখাটো একটি বিজ্ঞান প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছিলাম, যা তিন বছর পর আমার স্নাতোকত্তর শ্রেণীর থিসিসের বিষয় ছিল। প্রকল্পটি ছিল চারদিকে শব্দ নিয়ন্ত্রক বেষ্টিত বিশেষ কক্ষের সংবেদনশীল শব্দ পরিমাপ নিয়ে। মাইক্রোফোন ও স্পীকারের দক্ষতা নির্ণয়ে এমন কক্ষের প্রয়োজন ছিল। বোস এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ শব্দবিজ্ঞানীর গবেষণায় ব্যবহৃত এমন পরিবেশের জন্য আমি একটি প্রসিদ্ধ সমাধিক্ষেত্রে যায়। রাত্রিকালীন ঘন্টার পর ঘন্টা লোকজন থেকে দূরে অবস্থানকালে আমি জানতে পারি একদল এম.আই.টি’র শিক্ষার্থী বিখ্যাত ৯০১ স্পীকারের আদলে তাদের নিজের মত একটি নঁকশা তৈরি করেছে। এছাড়া তারা এই নঁকশার যন্ত্রটিকে বাস্তবে রূপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। স্থানীয় ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রাংশের দোকান এবং এম.আই.টির উড-ওয়ার্কিং দোকানের সহযোগীতায় তারা এর প্রতিলিপি তৈরি করতে সমর্থ্য হয় (আমি অনুধাবন করলাম যে এর সর্বোত্তম কপি তৈরি করেছিলেন বোস )। বোসের মতে নতুন নতুন পণ্যে অধিক বিনিয়োগের (যেমন আর এন্ড ডি) দ্বারা তার প্রতিষ্ঠান বাজারে শক্ত অবস্থান দখল করতে সমর্থ্য হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন আর এন্ড ডি ব্যায় চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না যদি তার প্রতিষ্ঠান জনপ্রিয় না হয় (যেমন প্রতিদিনের পূজিবাজারে তাদের প্রাপ্তি)। কারও মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ব্যাবসা পদ্ধতি উদ্ভাবনের এটা কি কোন গুরুত্মপূর্ণ নিয়ম?
তাৎক্ষণিক কোন উত্তর না দিয়ে বাজার অনুযায়ী একজন উদ্ভাবক উপযুক্ত মনে করলে তার অর্থ স্বাধীনভাবে আর এন্ড ডি তে বিনিয়োগ করতে পারেন। অন্যদিকে বাজার থেকে একজন ব্যবসায়ী তারে বিনিয়োগের উপর ভিত্তি করে লাভবান হন। অ্যাপল কোম্পানির দ্বিতীয় ধাপে স্টিভ জবসের নেতৃত্ব এমন একটি উদাহরণ। পণ্য উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই দুই কোম্পানির চিত্র একই।
আমরা মনে করি অমর বোস ছিলেন একজন বিজ্ঞানী, শিক্ষক ,উদ্ভাবক এবং ব্যবসায়ী। তার কাজ দ্বারা তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থী, গবেষণা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং আমরা যারা তার শব্দ শুনছি তাদের হৃদয় জয় করেছেন।

ফ্রেড ডাইলা, নির্বাহী পরিচালক এবং সি.ই.ও , আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স

মার্কিন গবেষণাগারে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি!!


মাহমুদুল হাসান লিখন

17776_483975978323393_2041750013_n

মার্কিন গবেষণাগারে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, বিজ্ঞানীদের কাছে এতদিন যা অধরা ছিল। পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী ধারণা করা হয়, মহাবিশ্বের এক চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে ডার্ক ম্যাটার। অবশেষে , প্রথমবারের মতো সেই ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতির ইঙ্গিত এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ভূগর্ভস্থ গবেষণাগার থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার এক খনির গভীরে অবস্থিত ক্রায়োজেনিক ডার্ক শ্যাটার রিসার্চ (সিডিএসএস) গবেষণাগারে পাওয়া সূত্রগুলো ইতিবাচক আশা দিচ্ছে পদার্থবিজ্ঞানীদের। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পদার্থবিজ্ঞানীরা ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতির ইঙ্গিত একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ের। তাদের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন আরো বিস্তারিত গবেষণার।

এরপরও সাধারণ পদার্থের সংস্পর্শে ডার্ক ম্যাটার আসার ঘটনা খুবই বিরল। মহাশূন্যে যে তাপমাত্রা বিরাজ করে, গবেষণাগারের একটি ডিটেক্টরে একই তাপমাত্রা সৃষ্টির মাধ্যমে সেই বিরল ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হবার চেষ্টা করে সিডিএমএস।

সিডিএমএস বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গবেষণাগারের ডিটেক্টরে ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতির তিনটি ইঙ্গিত পেয়েছেন তারা। ইঙ্গিতগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে আরো বিস্তারিত গবেষণার কথা জানিয়েছেন সিডিএমএস বিজ্ঞানী ব্ল্যাস ক্যাবরেরা। পুরোপুরি নিশ্চিত হতে সিলিকিন এবং জার্মেনিয়াম ডিটেক্টর ব্যবহারের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ” আমরা বর্তমানে ডার্ক ম্যাটারের আবিষ্কার নিয়ে ৯৯.৮ শতাংশ নিশ্চিত, কিন্তু আমরা ৯৯.৯৯৯৯ শতাংশ নিশ্চিত হতে চাই। আমরা ডার্ক ম্যাটারের তিনটি ইঙ্গিত পেয়েছি যেটাকে সিগমা-৩ বলা হয়। সিগমা-৪ এ প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর সিগমা-৫ এ ডার্ক ম্যাটার আবিষ্কৃত”

বিক্রি হবে ফ্রান্সিস ক্রিকের (ডিএনএর ডাবল হেলিক্স মডেল প্রদান করেন) নোবেল !!!


crick-nobel-medal

ডি এন এ কি? এই প্রশ্নটির উত্তর আমরা যারা সাধারণ বিজ্ঞান নিয়ে একটু পড়াশোনা করি তাদের সবার কাছে জানা। ডিওক্সি রাইবো নিউক্লিক এসিড যার পূর্ণ নাম। ,মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের বিজ্ঞানের আলোচনা যখনই জীন এর নাম আসে ঠিক তখনই চলে আসে এই  ডি এন এর কথা। কিন্তু কেমন দেখতে এই ডিএনএ? এর গঠনই বা কেমন? এই বিষয় জানার জন্য বিজ্ঞানীদের যে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে তা অনুমেয়। আর এর সফল গঠন প্রদানকারী বিজ্ঞানীদের নাম আসলেই চলে আসে দুজন বিখ্যাত বিজ্ঞানীর নাম। তারা হচ্ছেন ওয়াটসন ও ক্রিক। যদিও মূল গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন তিনজন বিজ্ঞানী। এটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ছিল যে ১৯৫৩ সালে এই তিনজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হন। সে তো অনেক দিন আগের কথা। ২০০৪ সালে এই দলের একজন বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক ৮৮ বছর বয়সে দুনিয়া ছেড়ে চলে যান। তার মৃত্যুর নয় বছর এবং নোবেল প্রাপ্তির ৬০ বছর পর ঘটছে এক বিস্ময়কর ঘটনা। ঘটনা বিস্ময়কর এজন্য যে তার প্রাপ্ত নোবেল সাধারণ মানুষের ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ এসেছে। অর্থাৎ আপনি বিজ্ঞানী না হয়েও ফ্রান্সিস ক্রিকের নোবেল পুরস্কারটি আপনি পেতে পারেন। আলোচনা বাদ দিয়ে আসল বিষয়ে আসি। মূল কথা নোবেল প্রাপ্তির ৬০ বছর পর তার নোবেল পুরস্কারটি নিলামে উঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন? মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য তাদের পরিবারের সদস্যদের এই উদ্যোগ। ২৩ ক্যারট স্বর্ণের এই মেডেলের দাম হাঁকানো হয়েছে পাঁচ লক্ষ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশী হিসেবে  মাত্র চার কোটি টাকা।