গণিত ইতিহাসের ইতিবৃত্ত


যতদুর চোখ যায় শুধু পাহাড়, পাহাড়ের গা ঘেষে গাছ, লতা আর মহীরুহ। গাছের বাকল পড়া কিছু মানুষ একটি পশু শিকারকরে নিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে একজন কিছু একটা  বলতেই অন্যজন ঝোলা থেকে দুটি বর্শার ফলা দেখালো, বোঝাতে চাইলো তুমি যদি হরিণটির অর্ধেক মাংস পেতে চাও তাহলে তোমাকে অন্তত দুটি বর্শার ফলা দিতে হবে। বলছি আজ থেকে২৫ হাজার বছর আগেকার কথা যখন মানুষ এভাবেই নিজেদের সম্পদ বিনিময় করত।আকাশের অসংখ্য তারার মাঝে একটাপ্রশ্নবোধক চিহ্নের মত কিছৃ একটার মাথা দুটিকে যোগ করে তারা আবিষ্কার করেছিল ধ্র“বতারা। সকালের সূর্য উঠা,অস্তযাওয়া দেখে তারা শিখেছিল দিনের হিসাব। চাদের কালো আর উজ্জলতার সময়ের ব্যবধান থেকেই মাসের হিসাব জানতেপেরেছিল। আর এগুলো সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করত পাথর অথবা গাছের বাকল। একটু সভ্য হওয়ার পর মানুষ হিসাবেরসুবিধার্তে সুতোয় গিট দিতো, আর এভাবেই সৃষ্ঠি হলো ইনকা সভ্যতা। যারা হিসাব করত তারাই হলো পুরোহিত এবংসমাজের কর্তা। এভাবেই এক সময় মেসোপটেমিয়াতে আসলো সংখ্যার হিসাব, যেখানে তারা লিখত নরম কাদায়,অপরদিকে মিশরীয়রা লিখত নলখাগড়ায়। কালের পরিক্রমায়  আবির্ভাব জ্যামিতির। নীলনদের অববাহিকার পিরামিডগুুলোআজও সেই স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়। পিরামিডের ভিতরের গঠনের সুদৃড়তার প্রয়োজন থেকেই আসলো সরলরেখার বিষয়টি,্একে কেন্দ্র করেই অঙ্কিত হলো সমকোণ।অন্যান্য পরিমাপের প্রয়োজন হিসেবে ক্ষমতাশীল রাজার দেহ,হাত বা কনুইয়েরমাপ একক হিসেবে ব্যবহার করা হত। সাধারণ জনগণের কাছ থেকে জমির কর আদায়ের নিমিত্তে প্রয়োজন অনুভব করলক্ষেত্রফল নির্ণয়ের যা থেকেই আসল  ত্রিভূজের বিষয়টি। তখন মিশরীয়রা জানতেন একটি খুটিকে কেন্দ্র করে অন্য একটিখুটিকে চতুর্দিকে ঘুরিয়ে আনলেই উৎপন্ন হয় একটি বৃত্ত। এর সাধারন সমাধাগুলো মূলত পুরোহিতরাই করতেন,তাইএখনকার গণিতবিদেরা তাদের কাছে অনেকটাই দায়বদ্ধ। হিসাবের সুবিধার জন্য মেসোপটেমিয়ানরা উদ্ভাবন করেছিল ”অ্যাবাকাস”। বালিতে অঙ্কিত বিভিন্ন খাজ থেকে তারা বিভিন্ন মান তুলনা করে হিসাব করত। এটি থেকেই একক দশকেরহিসাবটি প্রথম এসেছিল।ইউফ্রেটিস নদীর তীরে মাটি খুরে আবি¯কৃত মন্দিরের পাঠাগারে পাওয়া গিয়েছিল বর্গের হিসাব।প্রায় ৬ হাজার বছর আগে প্রথম চাকা আবি®কৃত যার ক্ষেত্রফল নির্ণয়ে ৩.১৪ বা ৩ ব্যবহিত হত যদিও ভারতীয় গণিতবিতভাস্কারাচার্য তা  সঠিকভাবে প্রমাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে গ্রীকদের চেতনা গণিতকে করেছিল আরও অগ্রসর । পিথাগোরাস,্ইউক্লিড, আর্কিমিডিসের অভাবনীয় সাফল্য গণিতকে করেছিল প্রমাণনির্ভর। গণিতের আরও একটি সভ্যতা হচ্ছে ভারতীয়সভ্যতা। তাদের ছিল পৃথক ৯ টি অংক যা দ্বারা সহজে অংক কষা যেত। গ্যালিলিও এর পড়ন্ত বস্তুর ধারণা, কেপলারের গ্রহেরভ্রমণ তত্ত,নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত সবই গণিতের অগ্রগণ্যতা। আর শ্রীনিবাস রামানুজান একজন দরিদ্র ব্রাম্মন সন্তান যিনিস্বশিক্ষায় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও ছিলেন শ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের একজন যাদের অবদানেই আজকের গণিত চর্চা এবং গবেষণা।

উত্তর প্রদান করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s