মঙ্গলে প্রাণ?


প্রাণের কথা আসলেই অক্সিজেনের গুরুত্ব এসে পরে। অক্সিজেন ছাড়া যেন প্রাণের অস্তিত্ত চিন্তায় করা যায় না। ধরুন অন্য কোন গ্রহ যেমন মঙ্গলে আপনি বাস করতে চান কিন্তু ওখানে তো অক্সিজেন নেয়। তাহলে কি অক্সিজেন ছাড়া প্রাণী বাঁচতে পারে না? অবশ্যই বাঁচতে পারে। সম্প্রতি এমনই বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পশ্চিম অস্ত্রলিয়ার দূরবর্তী স্ত্রেলি পুলে  সবচেয়ে প্রাচীন  জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছে যা আজ থেকে ৩.৪ বিলিয়ন বছরের পুরনো। এগুলো মূলত  কিছু কোষ এবং ব্যাকটেরিয়ার জীবাশ্ম।  তখন পৃথিবীতে অক্সিজেনের কোন অস্তিত্ত ছিল না। মূলত সেই সময় সালফার ছিল একমাত্র শক্তি উৎপাদনকারী উপাদান। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া এবং ঐ কোষ গুলো অক্সিজেন ছারাই বেঁচে ছিল। গত রবিবার এই তথ্যটি বিজ্ঞান জার্নাল দা নেচারে প্রকাশিত হয়। জীবাশ্ম পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেই সময় পৃথিবী ছিল অত্তান্ত উত্তপ্ত এবং অন্ধকারময়। আকাশ ছিল মেঘাছন্ন এবং ধূসর। সূর্য বর্তমান অবস্থা থেকে অনেক হালকা ছিল । সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ছিল ৪০-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস । তখন খুব সামান্য পরিমাণ অক্সিজেন থাকলেও তা কোন উদ্ভিদ বা শৈবাল এর ব্যবহার উপযোগী ছিল না যে তা দিয়ে খাদ্য উৎপাদন করা যাবে। গবেষণা দলের প্রধান মারটিন ব্রেসার বছিলেন “আমরা নিশ্চিত যে জীবাশ্ম দ্বারা গঠিত যে শিলা পাওয়া গেছে তা ৩.৪ বিলিয়ন বছরের পুরনো”। তিনি আরও বলেন “ এই ধরণের জিনিস মঙ্গলগ্রহে থাকতে পারে, এই প্রমাণ আমাদেরকে নিশ্চিত করে মঙ্গলে অক্সিজেনহিনতা জীবের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নয়”। গত বছরে বিজ্ঞানীরা ভূমধ্যসাগরে ে রকম জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছিলেন। ইতালির মারচি পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী রবার্টো দ্যানোভারো লরিচিফেরা গোত্রের তিনটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পেয়েছিলেন। এই সকল জীবাশ্ম প্রমাণ করে দেয় অক্সিজেন ছাড়া জীব বাঁচতে পারে এবং অক্সিজেনহীন মঙ্গল গ্রহে প্রাণ ছিল । যা আমাদের কি বহির্বিশ্ব বিশেষ করে অন্যান্য গ্রহ নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দেয়। হয়তবা এটাই প্রমাণ করবে অন্য গ্রহে অক্সিজেন না থাকলেও প্রাণ টিকবে। আর হইতবা বেশি দেরি নয় মানুষ অক্সিজেনহীন মঙ্গল গ্রহে ব্যাস করবে।

                                                                             ২৬ আগস্ট ২০১১ 

আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের প্রথম বিজ্ঞান বক্তৃতা : বিজ্ঞান একটি চলমান প্রক্রিয়া


 

কথায় বলে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। আবার এটাও তো ঠিক, ইতিহাস ছাড়া বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দুটিই অন্ধকার। এই ইতিহাস জানিয়েই বর্তমানের বিজ্ঞানচর্চায় একটু আলো ধরার জন্য গত ৩০ অক্টোবর আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার আয়োজন করেছিল এক বিজ্ঞান বক্তৃতার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ বক্তৃতা। বিষয় ছিল ‘বৈজ্ঞানিক ধারণার ক্রমবিবর্তন : থেলিস থেকে নিউটন।’ এতে প্রথমবারের মতো পেশাদারিত্বের বিজ্ঞান বক্তৃতা করলেন বিজ্ঞানকর্মী জাহাঙ্গীর সুর। বিজ্ঞানের ক্রমধারায় কী করে আধুনিক সব মতবাদ প্রতিষ্ঠা পেল, তা জানতে হলে চোখ ফেরাতে হবে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান-সাধকদের ইতিহাসের দিকেই। সেসব ইতিহাসই গল্পচ্ছলে উঠে এসেছিল এদিনের বিজ্ঞান বক্তৃতায়। হাইস্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে ১৬ জন দর্শক-শ্রোতা দর্শনীর বিনিময়ে অংশ নিয়েছিলেন। বিজ্ঞান বক্তৃতা ছিল প্রাণবন্ত।

বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের জন্য এত দীর্ঘ সময়ের যে পথচলা তা নেহাৎ সোজাসাপটা ছিল না সব বিজ্ঞানীর জন্য। এর জন্য সবাইকে পোহাতে হয়েছে নানা ভঙ্গুর পথ। হাইপেশিয়ার মতো একজন নারী গণিতবিদ সেই সময়ে নিজের জীবন দিয়েছিলেন বিজ্ঞানের জন্য। জিওর্দানো ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, কারণ তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।’ এমন অনেক ইতিহাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল জাহাঙ্গীর সুরের বক্তৃতায়। আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের একক উদ্যোগ ও আয়োজনে এটাই প্রথম বিজ্ঞান বক্তৃতা। ২০০৮ সালের ৪ মে প্রতিষ্ঠিত হয় আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার। যদিও এটি জাহাঙ্গীর সুরের একটি ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার। কিন্তু এখান থেকে যে কোন সময় যে কেউ বই সংগ্রহ করে পড়তে পারেন। তাছাড়া আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার বিজ্ঞান চর্চা উদ্বুদ্ধকরণে বিজ্ঞান মেলা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা, বিজ্ঞান বক্তৃতা, বই লেখা ইত্যাদি নানা ধরনের কাজ করে চলেছে। গ্রন্থাগারের নাম কেন ‘আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার’ দেয়া হলো তা তুলে ধরেন মানিকুল ইসলাম। জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা আকিমুদ্দিন ছিলেন শিক্ষক। গ্রামে প্রথম তিনিই প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম ১২ বছর বিনা বেতনে বাড়ি বাড়ি চাল ও মসুরের ডাল মুষ্টি তুলে তিনি স্কুলটা চালাতেন। তার শ্রদ্ধার্থেই গ্রন্থাগারের নামকরণ করা হয় আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার।
দর্শনী দিয়ে এদিন বিজ্ঞানের বিবর্তনের পথের ওপর বক্তৃতা শোনার সুযোগ পেয়েছিল দর্শকরা। ‘আপনাকে যদি আমি একটা কথা বলি তাহলে কথাটা হয়তো আপনি শুনবেন কিন্তু তেমন মনোযোগ দিয়ে শুনবেন না। কিন্তু সেই একই কথা যদি আপনি দর্শনীর বিনিময়ে শোনেন তাহলে কথাগুলোর গুরুত্ব হবে আপনার কাছে অন্যরকম। তাই আমরা দর্শনীর বিনিময়ে বিজ্ঞান বক্তৃতা করছি। বাংলাদেশে এখনও এভাবে বক্তৃতার রেওয়াজটা চালু হয়নি। পেশাদার বিজ্ঞানবক্তা আসিফ প্রথম এভাবে দর্শনীর বিনিময়ে বিজ্ঞান বক্তৃতা করে থাকেন। তবে বিদেশে এটা ব্যাপক প্রচলিত। আমরা সেই প্রচলনটা আনতে চেষ্টা করছি। এতে করে সবার মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার কৌতুহল সৃষ্টি হতে পারে।’ এমনই মত ব্যক্ত করেন বিজ্ঞানবক্তা জাহাঙ্গীর সুর।
শুধু বসে বসে কথা শোনাই নয়। এই বক্তৃতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল প্রশ্ন করার সুযোগ। রাজশাহী সিটি কলেজের বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নাইমের আগ্রহ ছিল হিগস বোসন কণা নিয়ে। বিনোদপুর উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ুয়া ফরহাদের আগ্রহ অন্য গ্রহে প্রাণের সন্ধান নিয়ে। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া মাহফুজুর রহমান জানতে চেয়েছিল সূর্যের আলো সম্পর্কে। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইনজামামুল হক বুঝতে চাইল, কী করে পৃথিবীতে এক দেশে দিন অথচ একই সময়ে আরেক দেশে রাত। বক্তৃতা শেষে তাদের এসব জিজ্ঞাসার উত্তর দেন বক্তা জাহাঙ্গীর সুর।
একটু একটু করেই তো সামনের পথে এগোতে হয়। আর কিছু হোক না হোক এই বিজ্ঞান বক্তৃতা উপস্থিত সবাইকে নিজের জীবন ও এই বিশ্বকে নিয়ে ভাবতে সাহায্য করবে। এমনটাই মনে করেন আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের বিজ্ঞানকর্মীরা।

সুত্রঃ দৈনিক সংবাদ

টমেটোর জীনরহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা !!!!



কিছুদিন আগে উন্মোচিত হল পাটের জীন রহস্য উন্মোচন। আমরা ধন্য যে বাংলাদেশী বিজ্ঞানী এই বৃহৎ কাজটি করেছেন। একের পর এক বিভিন্ন উদ্ভিদের জীন উন্মোচিত হচ্ছে বর্তমান সময়ে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি উন্মোচিত হল সালাদ হিসেবে বাবহ্রিত বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজি টমেটোর। এই কাজটি সম্পন্ন করেছেন একদল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী । বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার(nature) ফলাও করে প্রকাশ করেছে এই সংবাদটি। এমনকি নেচার (nature) এর এ সপ্তাহের ম্যাগাজিনের মূল বিষয় টমেটো এবং শিরোনাম করেছে দ্যা টমেটো জিনোম। টমেটো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজি এবং ২০১০ সালে সারা বিশ্বে এর উৎপাদন ছিল ১৪৫.৮ মিলিয়ন টন। এই গবেষণা দলের প্রধান গ্রাহাম সায়মার এবং বিশপ এর মতে , “টমেটো জীন উন্মোচন শুধু মাত্র টমেটো উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে না পাশাপাশি সোলানেসি গোত্রের অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে”।
তারা আশা করছেন জীন উন্মোচিত হওয়ার ফলে এমন টমেটো জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে যা রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম এবং উচ্চ ফলনশীল। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বীজ জীন প্রযুক্তির বিশেষজ্ঞ আলেন ভেন ডেয়াঞ্জ বলছিলেন, “সব মিলিয়ে এটি উন্নত টমেটো উদ্ভাবন পদ্ধতি, এই গবেষণায় এমন কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যা আমরা পূর্বে কল্পনা করতে পারি নি” গবেষক দলের প্রধান বলছিলেন, “২০০৩ সাল থেকে কাজ শুরু করার পর থেকে অনেক তথ্য বের হয়ে আসছিলো কিন্তু এখন বিস্ময়করভাবে এটি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছে”।
ইতালির রোমে অবস্থিত ন্যাশনাল ইন্সিটিউট অব নিউ টেকনোলজিস্ত এর গবেষক এবং এই গবেষক দলের একজন সদস্য গিয়াভানি গিয়ালিয়ানো ব্যাখ্যা করছিলেন জীন উন্মোচনের রহস্য। তিনি বলছিলেন, সাধারণত জীন উন্মোচনের গতানুগতিক পদ্ধতিতেই স্থানীয় একটি টমেটো জাত হেয়ঞ্জ ১৭০৬ এবং এর নিকটবর্তী জাত Solanum pimpinellifolium. নিয়ে আমরা গবেষণা শুরু করি। ২০০৮ সালের পর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতি খুব দ্রুত কাজ করছিল DNA সনাক্তকরন এবং এর বিন্যাস জানতে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে টমেটোর জীন বিন্যাসের তিনটি প্রতিলিপি সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে অধিকাংশ জীন অবস্থান করছে কয়েক মিলিয়ন বছর দ্বিতীয় প্রতিলিপিতে এবং সম্প্রতি তারা তাদের কাজের পরিবর্তন ঘটিয়েছে এবং তার ফলস্বরূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি রসালো টমেটো। তাই রসালো ফলের উন্নয়নের জন্য টমেটো একটি প্রতিষ্ঠিত উদাহরণ এবং এই জীন বিন্যাস স্ত্রবেরি, তরমুজ, কলা ইত্যাদি ফলসমুহের নতুন প্রজাতি উদ্ভাবনে সহায়ক হবে । টমেটোর জীন বিন্যাস উন্মোচন বিজ্ঞানের একটি নতুন মাইলফলক। এখন যথাযথ গবেষণায় উদ্ভাবন সম্ভব হবে উচ্চ ফলনশীল এবং মানুষের জন্য উপকারী নতুন টমেটো সহ রসালো ফল ও সবজির জাত।

কুষ্টিয়ায় শুক্র গ্রহের ট্রানজিট পর্যবেক্ষণ !!!!!!!!!!!!



সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে পৃথিবীর আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে বিজ্ঞানের অবদান আমরা কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারি না। কিন্তু বিজ্ঞান শব্দটি আমাদের চিন্তাতে আসলেই আমরা মনে করি বিজ্ঞান মানে গবেষণাগার, জটিল যন্ত্রপাতি, বড় বড় বই, থিসিস ইত্যাদি। কিন্তু বিজ্ঞান কি মূলত এটাই? না! বিজ্ঞান মূলত জীবন দর্শন। আমরা যা ভাবছি, যা নিয়ে চিন্তা করছি, প্রয়োজনীয় কথা বলছি তাই বিজ্ঞান। আর সেই বিজ্ঞানকে সমগ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, বিজ্ঞান সেমিনার, উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞান দিবস উদ্যাপন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞান বিষয়ক অনুষ্ঠানে সহযোগিতা, বিজ্ঞান ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা, তৃণমূল স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে পৌঁছে দেওয়া ও বিজ্ঞানভিত্তিক ম্যাগাজিন প্রকাশের লক্ষকে সামনে রেখে বিজ্ঞানের আলোয় সমাজকে বদলাবো শ্লোগানে গতকাল বুধবার সকালে কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ চত্বরে শতাব্দীর সর্বশেষ সূর্যের উপর শুক্র গ্রহের চলন পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করলো বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ সায়েন্স অব বাংলাদেশ। সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে কলেজ চত্বরে প্রবেশ করে ইয়ুথ সায়েন্স অব বাংলাদেশ এর সদস্যবৃন্দ।

বিশেষ চশমার মধ্যে দিয়ে কলেজ মাঠে শুক্র গ্রহের চলন পর্যবেক্ষণ করে কলেজের ছাত্রীরা ও ইয়ুথ সায়েন্স অব বাংলাদেশ এর সদস্যবৃন্দ। পরে মোবাইল ফোনে আলোচনা সভার উদে¦াধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহা. জমির উদ্দীন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে লেখক ও সাংবাদিক ইমাম মেহেদীকে আহবায়ক ও বিজ্ঞান কর্মী কোরবান আলীকে যুগ্ম আহবায়ক এবং কবি, সাংবাদিক ও বিজ্ঞান কর্মী হোসাইন মোহাম্মদ সাগর কে সদস্য সচিব করে একুশ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন শেরে বাংলা কৃষি বিদ্যালয়ের ছাত্র ও ইয়ুথ সায়েন্স এর সপ্নদ্রষ্টা বিজ্ঞান কর্মী রফিকুল ইসলাম। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বিজ্ঞান কর্মী রাজীব উদ্দীন, তনিমা ইসলাম তন্না, কামাল হোসেন, ইউনুচ আলী বাপ্পি, রুপম রেজা, মামুনুর রশিদ, সাকিব খান, গোলাম কিবরিয়া, শাহীন আলম অন্তর, তহিদুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, কামরুজ্জামান মাসুম, শাউনুল ইসলাম ও পাবনার বিজ্ঞান কর্মী মাহমুদুল হাসান লিখন, ঢাকা সাভারের বিজ্ঞান কর্মী জেসমিন আক্তার জিতু, যশোরের বিজ্ঞান কর্মী মূসা হোসাইন। এছাড়া ইয়ুথ সায়েন্স অব বাংলাদেশ এর আয়োজনে বিশেষ চশমার মধ্যে দিয়ে কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজে শুক্র গ্রহের চলন পর্যবেক্ষণ করেন বিাভন্ন বিদেশী পর্যবেক্ষক, মহিলা কলেজ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীসহ প্রায় ৫০০০ কুষ্টিয়াবাসী।

পাবনায় ভেনাস ট্রানজিট পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প!!!!!!!!


৬ জুন ঘটে গেল এক দূর্লভ মহাজাগতিক ঘটনা, শতাব্দির সর্বশেষ সূর্যের উপর দিয়ে শুক্র গ্রহের পরিচলন বা “ভেনাস ট্রানজিট”।
বিশ্বব্যাপী এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চলছিল চরম গুঞ্জন। সব অপেক্ষার ইতি ঘটিয়ে বিশ্বের ছয়শ’ কোটি মানুষ উপভোগ করল চরম এক মূহুর্ত। আমেরিকার আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা এই দূর্লভ দৃশ্য মানুষের কাছে তুলে ধরতে একের পর এক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। বাংলাদেশেও এ নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি ছিল না। দেশের স্বনামধন্য বিজ্ঞান সংগঠন ডিসকাশন প্রজেক্ট এর উদ্যোগে ইয়ুথ সায়েন্স অব বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় পাবনা জেলায় “বন্ধুসংঘ” আয়োজন করে ফ্রি ক্যাম্প। ভোর ৬.০০ টা থেকে এই ক্যম্প চলে বেলা ১১.০০ টা পর্যন্ত। বেড়া উপজেলার বেড়া কলেজ মাঠে এই ক্যাম্পে অংশ গ্রহণ করে অত্র এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকবৃন্দ।

ভোর থেকেই কৌতূহলী মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। প্রায় চার ঘণ্টার এই ক্যাম্পে ভেনাস ট্রানজিট পর্যবেক্ষন ছাড়াও সেমিনার ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বন্ধুসংঘের কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ ও অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সহ এলাকার সর্বস্তরের জন সাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

গণিত ইতিহাসের ইতিবৃত্ত


যতদুর চোখ যায় শুধু পাহাড়, পাহাড়ের গা ঘেষে গাছ, লতা আর মহীরুহ। গাছের বাকল পড়া কিছু মানুষ একটি পশু শিকারকরে নিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে একজন কিছু একটা  বলতেই অন্যজন ঝোলা থেকে দুটি বর্শার ফলা দেখালো, বোঝাতে চাইলো তুমি যদি হরিণটির অর্ধেক মাংস পেতে চাও তাহলে তোমাকে অন্তত দুটি বর্শার ফলা দিতে হবে। বলছি আজ থেকে২৫ হাজার বছর আগেকার কথা যখন মানুষ এভাবেই নিজেদের সম্পদ বিনিময় করত।আকাশের অসংখ্য তারার মাঝে একটাপ্রশ্নবোধক চিহ্নের মত কিছৃ একটার মাথা দুটিকে যোগ করে তারা আবিষ্কার করেছিল ধ্র“বতারা। সকালের সূর্য উঠা,অস্তযাওয়া দেখে তারা শিখেছিল দিনের হিসাব। চাদের কালো আর উজ্জলতার সময়ের ব্যবধান থেকেই মাসের হিসাব জানতেপেরেছিল। আর এগুলো সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করত পাথর অথবা গাছের বাকল। একটু সভ্য হওয়ার পর মানুষ হিসাবেরসুবিধার্তে সুতোয় গিট দিতো, আর এভাবেই সৃষ্ঠি হলো ইনকা সভ্যতা। যারা হিসাব করত তারাই হলো পুরোহিত এবংসমাজের কর্তা। এভাবেই এক সময় মেসোপটেমিয়াতে আসলো সংখ্যার হিসাব, যেখানে তারা লিখত নরম কাদায়,অপরদিকে মিশরীয়রা লিখত নলখাগড়ায়। কালের পরিক্রমায়  আবির্ভাব জ্যামিতির। নীলনদের অববাহিকার পিরামিডগুুলোআজও সেই স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়। পিরামিডের ভিতরের গঠনের সুদৃড়তার প্রয়োজন থেকেই আসলো সরলরেখার বিষয়টি,্একে কেন্দ্র করেই অঙ্কিত হলো সমকোণ।অন্যান্য পরিমাপের প্রয়োজন হিসেবে ক্ষমতাশীল রাজার দেহ,হাত বা কনুইয়েরমাপ একক হিসেবে ব্যবহার করা হত। সাধারণ জনগণের কাছ থেকে জমির কর আদায়ের নিমিত্তে প্রয়োজন অনুভব করলক্ষেত্রফল নির্ণয়ের যা থেকেই আসল  ত্রিভূজের বিষয়টি। তখন মিশরীয়রা জানতেন একটি খুটিকে কেন্দ্র করে অন্য একটিখুটিকে চতুর্দিকে ঘুরিয়ে আনলেই উৎপন্ন হয় একটি বৃত্ত। এর সাধারন সমাধাগুলো মূলত পুরোহিতরাই করতেন,তাইএখনকার গণিতবিদেরা তাদের কাছে অনেকটাই দায়বদ্ধ। হিসাবের সুবিধার জন্য মেসোপটেমিয়ানরা উদ্ভাবন করেছিল ”অ্যাবাকাস”। বালিতে অঙ্কিত বিভিন্ন খাজ থেকে তারা বিভিন্ন মান তুলনা করে হিসাব করত। এটি থেকেই একক দশকেরহিসাবটি প্রথম এসেছিল।ইউফ্রেটিস নদীর তীরে মাটি খুরে আবি¯কৃত মন্দিরের পাঠাগারে পাওয়া গিয়েছিল বর্গের হিসাব।প্রায় ৬ হাজার বছর আগে প্রথম চাকা আবি®কৃত যার ক্ষেত্রফল নির্ণয়ে ৩.১৪ বা ৩ ব্যবহিত হত যদিও ভারতীয় গণিতবিতভাস্কারাচার্য তা  সঠিকভাবে প্রমাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে গ্রীকদের চেতনা গণিতকে করেছিল আরও অগ্রসর । পিথাগোরাস,্ইউক্লিড, আর্কিমিডিসের অভাবনীয় সাফল্য গণিতকে করেছিল প্রমাণনির্ভর। গণিতের আরও একটি সভ্যতা হচ্ছে ভারতীয়সভ্যতা। তাদের ছিল পৃথক ৯ টি অংক যা দ্বারা সহজে অংক কষা যেত। গ্যালিলিও এর পড়ন্ত বস্তুর ধারণা, কেপলারের গ্রহেরভ্রমণ তত্ত,নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত সবই গণিতের অগ্রগণ্যতা। আর শ্রীনিবাস রামানুজান একজন দরিদ্র ব্রাম্মন সন্তান যিনিস্বশিক্ষায় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও ছিলেন শ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের একজন যাদের অবদানেই আজকের গণিত চর্চা এবং গবেষণা।

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার


বিজ্ঞান যেমন জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে তেমনি আমাদের জীবনকে করেছে অনেক সহজ এবং গতিশীল। প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকি। মূলত এর সবই বিজ্ঞানের আবিষ্কার। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহুল বাবহ্রিত এমন কিছু শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার নিয়ে এই আয়োজন। লিখেছেন রফিকুল ইসলাম

ছাপাখানাঃ  বই পুস্তক বা কোন তথ্য ছাপার কথা বললেই আসে ছাপাখানার কথা। পূর্বে বিভিন্ন ফাইল, বই পুস্তক হাতে লিখে প্রকাশ করা হত। এটি সর্বপ্রথম ১৪৪০ সালে জন গুটারবারগ আবিষ্কার করেন। একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে তার এই আবিষ্কার। যদিও প্রাথমিক দিকে এর গঠন আজকের মত ছিল না। তবে এশিয়াতে প্রথম ছাপাখানার ব্যবহার শুরু হয় চীনে।  কম্পিউটার আবিষ্কারের সাথে সাথে এর বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ছাপাখানা কিন্তু আমাদের বাড়িতেই যা প্রিন্টার হিসেবে পরিচিত।

ক্যালকুলেটরঃ প্রতিদিনের হিসাবের কাজে সবচেয়ে বেশি  বাবহ্রিত হয় ক্যালকুলেটর।নবম শতকে চীনে আবিষ্কৃত ক্ষুদ্র ক্যালকুলেটর অ্যাবাকাস। সর্বপ্রথম ১৬৪২ সালে গণিতবিদ ব্লেইসি প্যাসকেল  ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। উইলিয়াম সেওয়ারদ ১৮৮৬ সালে বাণিজ্যিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। তবে আধুনিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার ১৯৬৩ সালে   এবং আবিস্কারক বেল পাঞ্চ কোম্পানি।

বিদ্যুৎঃ  বিজ্ঞানের  সকল আবিষ্কারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ আবিষ্কার ছাড়া চার্জ  বাবহ্রিত সকল আবিষ্কার বিফলে পরিণত হত। বিদ্যুৎ  কে আবিষ্কার করেছে তা সঠিকভাবে বলা দুরুহ। খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ থেকে শুরু করে খ্রিস্টাব্দ ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত ভিবিন্ন গবেষণার ফলে আজকের অবস্থানে বিদ্যুৎ । বিদ্যুৎ তৈরির উৎসগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, পেট্রোলিয়াম, নিউক্লিয়ার শক্তি, সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি অন্যতম।

টেলিফোনঃ মোবাইলের ব্যাবহারে টেলিফোন চাহিদা কমে গেলেও এর গুরুত্ব অনেক। আলেকজেনডার গ্রাহাম বেল ১৮৭০ সালে টেলিফোন আবিষ্কার করেন। এটি আবিষ্কারের পিছনে ছিলেন অ্যান্টনি মিউকি, ফিলিপ রিস, ইলিশা গ্রে  এবং আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। কিন্তু ১০ মার্চ ১৮৭৬ সফলভাবে টেলিফোন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। আর টেলিফোনের ব্যাবহারে প্রথম বাক্য ছিল “এখানে আসো, তোমাকে আমার প্রয়োজন”।

বৈদ্যুতিক বাতিঃ  বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে মানুষ এর বিভিন্ন ব্যবহার শুরু করে। পাশাপাশি রাতের অন্ধকার দূর করে আলোকিত করার সপ্ন বাতিক্রম কিছু নয়। এর থেকেই আবিষ্কার বৈদ্যুতিক বাতির। এর আবিস্কারক আমেরিকান বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন। তার আবিষ্কারের এক বছর পূর্বে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জোসেফ সন একই ধরনের বাতি আবিষ্কার করেন। কিন্তু তা ব্যবহার উপযোগী ছিল না। সর্বপ্রথম মানুষ সফলভাবে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার শুরু করে ১৮৭৯ সালে। আর বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষ বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করে।

কম্পিউটারঃ যুগে যুগে বিখ্যাত কিছু আবিষ্কার হয়েছে যা মানুষের জীবনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। তেমনি এক বিস্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটার। কম্পিউটার আবিষ্কার যেন মানুষের জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। যুগান্তকারী এই কম্পিউটারের আবিস্কারক হাওয়ারড আইকেন। ডেস্কটপ কম্পিউটার সর্বপ্রথম মানুষের হাতে আসে ১৯৭৪ সালে। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে অ্যাডাম অসবর্ণ ল্যাপটপ আবিষ্কার করেন।

টেলিভিশনঃ মানুষের বিনোদন জোগাতে বিজ্ঞানের সর্বপ্রথম আবিষ্কার টেলিভিশন। এর আবিস্কারক জন লেজি বেয়ারড, ফার্নসয়রথ এবং জরিকিন। টেলিভিশনের ব্যবহার সর্বপ্রথম শুরু হয় ১৯৫৮ সালে। এটি শোনার পাশাপাশি দেখার সুবিধাও রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের তিন বিলিয়নেরও বেশি মানুষ টেলিভিশন ব্যবহার করে। আবিষ্কারের শুরু থেকে টেলিভিশনের গঠন পরিবর্তন। হচ্ছে। একসময়ের বারো ইঞ্চি লম্বা টিউবযুক্ত টেলিভিশন থেকে আজ আমরা পঞ্চাশ ইঞ্চি এল.সি.ডি টেলিভিশন দেখতে পায়।

বিমানঃ বিমানের ধারণা আসে মুলত রাইট ভাত্রিদয়ের পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে। ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর অরভিল এবং উইল্ভার রাইট প্রথম মানুষের ভাসমানের সম্ভাব্যতা নিয়ে পরীক্ষা চালান। আর বাণিজ্যিকভাবে ১৯১১ সালে এরোপ্লেন আবিষ্কার করা হয়। বর্তমানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সবচেয়ে দ্রুতগামী মাধ্যম হচ্ছে এরোপ্লেন। এরোপ্লেন এর নীতির উপর ভিত্তি করেই জেট বিমান, রকেট ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়েছে। বর্তমানে বিমানের যাত্রী সংখ্যার সঠিক হিসাব নেই। তবে ধারণা করা হয় বিমান যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা ১.৫ বিলিয়ন।

এয়ার-কনডিশনঃ বছরের সকল সময় আরমামদায়ক আবহাওয়া সৃষ্টিতে বাবহ্রিত যন্ত্র এয়ার কন্ডিশন । বর্তমান বিশ্বের ৯৫ ভাগ মানুষ  অফিস, বাড়িঘরে এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার করে থাকে।  আমেরিকান বিজ্ঞানী উইলিস কারিয়ার এটি আবিষ্কার করেন। ১৯০২ সালে একটি প্রিন্টিং এর দোকানের অতিরিক্ত আদ্রতা কমাতে একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এটিই বর্তমানে এয়ার কন্ডিশন হিসেবে সমগ্র বিশ্বে বাবহ্রিত হচ্ছে।

ক্রেডিট কার্ডঃ বর্তমানে বড় বড়  বিপণিতে কেনাকাটা করতে নগদ টাকার পরিবর্তে একটি কার্ড ব্যবহার করা হয়। এটি কোনকিছু ক্রয় করে বিপনিবিতানে বসে শুধু একটি কার্ড দিয়ে দাম পরিশোধ করা যায়। আর এই প্লাস্টিক কার্ডই ক্রেডিট কার্ড। সর্বপ্রথম ১৯২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এর ব্যবহার সফলভাবে শুরু হয়। সর্বপ্রথম ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী  যুক্তরাষ্ট্রের জন.বিগিন ।

ডিজিটাল ক্যামেরাঃ ১৯৭৫ সালে  স্তেভেন সাসন ডিজিটাল ক্যামেরা আবিষ্কার করেন। সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত ডিজিটাল ক্যামেরা ছিল ০.০১ মেগা পিক্সেল ক্ষমতাসম্পন্ন ।আর আজ আমরা ১৬০ মেগা পিক্সেল  ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে থাকি। এমনকি বর্তমানে মোবাইল ফোনেও ডিজিটাল ক্যামেরা সুবিধা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সৃতি ধরে রাখা সহ গবেষণায় বিভিন্ন ডিজিটাল ছবির জন্য ডিজিটাল ক্যামেরা বাবহ্রিত হয়ে থাকে।

ওয়ার্ল্ড  ওয়াইড ওয়েভঃ বর্তমানে যে কোন প্রয়োজনে আমরা ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে থাকি। আর  ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে ডব্লিউ.ডব্লিউ.ডব্লিউ শব্দটি খুব পরিচিত। আর এই শব্দ তিনটির পূর্ণ রুপ ওয়ার্ল্ড  ওয়াইড ওয়েভ। সর্বপ্রথম ১৯৯০ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টিম বারনারস লি এটি আবিষ্কার  করেন। বর্তমানে সারা বিশ্বে ১.৯ বিলিয়ন মানুষ এটি ব্যবহার করে থাকে। এই শব্দ তিনটি দারাই সকল  ওয়েভসাইট তৈরি হচ্ছে আর আমরা পেয়ে যাচ্ছি আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য।

অটোমোবাইলঃ মানুষ চলার পথকে আরও অনেক আরামদায়ক এবং দ্রুত করতে বিজ্ঞানের এক আবিষ্কার অটোমোবাইল। সর্বপ্রথম জার্মানির একদল বিজ্ঞানী রাস্তায় এটির ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু তারা সফল হতে পারেন নি। পরবর্তীতে স্বদেশীয়  দুই বিজ্ঞানী কার্ল বেলজ এবং ডেইলমলারের আবিষ্কৃত অটোমোবাইল খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর এজন্য অটোমোবাইলের আবিস্কারক হিসেবে বিবেচনা করা হয় কার্ল বেনজকে।

মোবাইল ফোনঃ বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল। প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগ থেকে শুরু করে গেইম খেলা, হিসাব নিকাশ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং সহ সকল কাজে মোবাইল ব্যবহার করা হয়। বহুল বাবহ্রিত এই যন্ত্রটির আবিষ্কার কৌশল এসেছে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের টেলিফোন আবিষ্কারের মাধ্যমে। সর্বপ্রথম তারহীন এই মোবাইল ফোন বাজারে আসে ১৯৮৩ সালে। আর প্রথম বাজারজাত কোম্পানি মটোরলা। বর্তমানে বিশ্বের শতকরা৭৫ ভাগ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে থাকে।

এ. টি.এমঃ জরুরী বা ছুটির দিনে বাংকে গচ্ছিত টাকা উঠানোর একটি বিশেষ পদ্ধতি এ. টি.এম বা অটোমেটেড টেলার মেশিন। বিজ্ঞানী লুথার জর্জ সিমজান এটি আবিষ্কার করেন। এখানে একটি  পিন কোডের মাধ্যমে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। বর্তমানে বিশ্বের সকল দেশে এটি বহুলভাবে বাবহ্রিত হচ্ছে। 

 রেফ্রিজারেটরঃ  কোন খাবার টাটকা রাখতে বহুল বাবহ্রিত যন্ত্রের নাম রেফ্রিজারেটর। সর্বপ্রথম উইলিয়াম কুলেন ১৭৮৪ সালে রেফ্রিজারেটরের ডিজাইন করেন । কিন্তু এর কোন ব্যাবহারিক কোন প্রয়োগ হয় নি। পরবর্তীতে ১৮০৫ সালে আমেরিকান উদ্ভাবক অলিভার ইভান রেফ্রিজারেটরের নকশা করেন। সবচেয়ে উন্নত রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার করেন আফ্রিকান-আমেরিকান বিজ্ঞানী থমাস এল্কিন এবং জন স্ট্যান্ডার্ড। বর্তমানে এটি সকল দেশের মানুষ কম বেশি ব্যবহার করে থাকে।

 

Aside

দেশের আলু উৎপাদন পদ্ধতির বাইরে আধিক উৎপাদনশীল আলুর বীজ উদ্ভাবন করেছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন শুভ্র রায়। তিনি বলছিলেন তার উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে । তার সাক্ষাৎকার নিয়ে লেখা।

রফিকুল ইসলাম: স্যার মূলত আপনার গবেষণার বিষয়টি কি ছিল?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: আসলে সনাতন পদ্ধতিতে আলু চাষের বাইরে  আধিক উৎপাদনশীল একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনই ছিল মূল বিষয়।আমরা মূলত টিউবার দিযে যে আলু চাষ করে থাকি তার উৎপাদন আশানুরূপ হয় না। অন্যদিকে  কৃষকদের কাছে এটি সহজলভ্য নয়। তাদেরকে নির্ভর করতে হয় বিভিন্ন বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের উপর, আবার এর গুণাগুণ নিয়েই প্রশ্ন আসে।এই সমস্যা থেকে উত্তরণ এবং আধিক উৎপাদনশীল বীজ উৎপাদনই ছিল  মূল লক্ষ্য।

রফিকুল ইসলাম: এটি মূলত কোন পদ্ধতিতে সম্ভব হয়েছে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: এখানে মূলত টিউবার ব্যাতীত ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। একে টি.পি.এস (ট্রু পটেটো সিস্টেম) বলা হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে মাত্র বিশ গ্রাম বীজ নিয়ে কৃষকের বীজতলাতে রোপণ করে পরবর্তীতে মূল জমিতে রোপণ করা হয়ে থাকে। সবচেযে বড় সুবিধা হচ্ছে এই পদ্ধতিতে আলু গাছের কান্ড যতটুকু মাটি দিযে ঢেকে দেয়া হবে ততটুকু পর্য়ন্ত আলু ধরবে।

রফিকুল ইসলাম: এই পদ্ধতিতে কি অন্য কোন দেশে  আলু চাষ হচ্ছে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: অবশ্যই। বিশেষ করে ভারত, চীন প্রভৃতি দেশে অনেক আগে থেকে এই পদ্ধতিতে আলু চাষ হয়ে থাকে।

রফিকুল ইসলাম: আপনার গবেষণা শুরু হয়েছিল কখন থেকে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়:মুলত ১৯৯৪ সাল থেকে আমার গবেষণা  শুরু। জাপানে পি.এইচ.ডি করা অবস্থায়,পরবর্তীতে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আমার মূল গবেষণা ক্ষেত্র। তবে সফলভাবে বীজ উৎপাদনে সক্ষম হয় ২০১০ সালে।

রফিকুল ইসলাম: আপনার পূর্বে কি বাংলাদেশে কোথাও এই বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছিল?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: হ্যাঁ। নব্বই দশকের শুরু থেকেই টিউবার ক্রপ রিসার্স সেন্টার (টি.সি.আর.সি) উন্নত বীজ উৎপাদন নিয়ে গবেষণা শুরু করে। সেখানে আমিও কিছুদিন কর্মরত ছিলাম, ফলে সেখান থেকেই অনুপ্রাণীত হযেছিলাম। তবে সফলভাবে মূলত আমিই সম্পন্ন করি।

রফিকুল ইসলাম: আপনার গবেষণায় আর্থিকভাবে কোন প্রতিষ্ঠান সহযোগীতা করেছিল?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: মূলত আমি জাপান সোসাইটি ফর প্রমোশন অব সায়েন্স থেকে বৃত্তি পেয়েছিলাম যা থেকে সম্পূর্ণ গবেষণার খরচ বহন করেছিলাম।তাছাড়া শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আমাকে গবেষণা অনুমতি এবং গবেষণার জন্য গবেষণাগার এবং প্লট ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিল।

রফিকুল ইসলাম: আপনি কি  দীর্ঘ সময়ের  এই গবেষণা এককভাবে সম্পন্ন করেছেন?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: হ্যাঁ। অনেকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেছেন, তবে মূল গবেষণাটি  আমার একারই।

রফিকুল ইসলাম: এই আলুবীজ কিভাবে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: আসলে আলু গাছ আমাদের দেশে যে পরিমান আলো পায় তার থেকে অতিরিক্তি পাঁচ ঘন্টা বেশি আলো প্রয়োজন ফুল ফোটাতে । আমি ৩০০০০-৫০০০০ লাক্সের আরো অতিরিক্ত পাঁচ ঘন্টা আলো প্রদান করেছি । পাশাপাশি অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহার করেছি যা আলুর টিউবার বৃদ্ধি কমিয়ে দ্রুত ফুল ফোটেিত সাহায্য করেছে। পরবর্তীতে ফল এবং বীজ।

রফিকুল ইসলাম: এই বীজগুলো দেখতে কেমন?

ড. তুহিন শুভ্র রায়:মরিচ বা টমেটো বীজের মত তবে আকারে অনেক ছোট এবং সাদা-হলুদ মিশ্রিত বর্ণের।

রফিকুল ইসলাম: এটি হতে কিভাবে কৃষক আলু উৎপাদন করবে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: প্রথমে বীজ বীজতলাতে রোপণ করতে হবে যা থেকে প্রথম বৎসর ১-৩৫ গ্রাম ওজনের ছোট ছোট আলু হবে যার উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৮০-৯০ টন। কিছু আলু কৃষক হিমাগারে রেখে  দিতে পারে যা পরবর্তী বছর রোপণ করা যাবে। মূলত একবার বীজ কিনেই কৃষক নিজে নিজেই পরবর্তী বছরের জন্য বীজ উৎপাদন করতে পারবে।

রফিকুল ইসলাম: আপনার উদ্ভাবিত এই পদ্ধতিটি কিভাবে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছাবে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: আমরা চেষ্টা করছি কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর। তবে প্রশাসনিকভাবে অধিক গুরত ¡দিলে  আমরা খুব দ্রুত সফল হব। স্থানীয়ভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষকদের আরও বেশি উৎসাহিত করা যেতে পারে।

রফিকুল ইসলাম: প্রতিবছর আমরা দেখে থাকি অধিক আলু নষ্ট হচ্ছে, হিমাগারে জায়গা অপ্রতুলতা ,তারপরও কৃষকদের কিভাবে অধিক আলু উৎপাদনে উৎসাহিত করা যেতে পারে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: আসলে সঠিকভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে এই সমস্যা রোধ করা যেতে পারে। তাছাড়া আলু থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠানগুলো বৃদ্ধি করলে অধিক বেশি আলু ব্যবহৃত হয়ে। ফলশ্রুতিতে কৃষক আরও আলু উৎপাদনে উৎসাহিত হবে।

রফিকুল ইসলাম: আপনার এই উদ্ভাবনকে কিভাবে স্বীকৃত করা হযেছে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরী কমিশন ও জে.এস.পি.সি (জাপান) ২০১০ সালের মে মাসে আমাকে গোল্ড মেডেল প্রদান করে। এছারাও ইউনাইটেড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্স এর অধিনস্থ আই.ডব্লিউ.এ.টি.ই বিশ্ববিদ্যালয় হতে আমাকে গোল্ড মেডেল দেয়া হয়।

রফিকুল ইসলাম: আপনার এই সফলতায় আপনার সহকর্মীদেও অনুভ’তি কেমন ছিল?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: সবাই অনেক আনন্দিত। কারণ তারা আমাকে সবসময় সহযোগীতা করেছিলেন।

রফিকুল ইসলাম: আজকের অবস্থানে আসার স্বপ্ন কি ছোটবেলা থেকেই দেখতেন?

ড. তুহিন শুভ্র রায়:আসলে বিষয়টা এমন নয়। নাটোরের গুরুদাসপুরে আমার জন্ম। মধ্যম মানের শিক্ষার্থী ছিলাম। তবে এইচ.এস.সি পড়া অবস্থায় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ে দখতাম।

রফিকুল ইসলাম:  ডাক্তার না হয়ে আপনি এখন একজন কৃষিবিদি, নিজেকে কিভাবে উপভোগ করেন?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: অনেক উপভোগ করি। কারণ ডাক্তার হলে হয়তবা প্রফেশনাল হযে যেতাম।এখন গবেষণা করছি, কৃষকদের তথা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছি এটাই অনেক পাওয়া।

রফিকুল ইসলাম: সকল কৃষিবিদদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কি?

ড. তুহিন শুভ্র রায়:  সবাইকে একটা কথাই বলতে চাই, আপনারা নিজের প্রদত্ত দায়িত্বটুকু পালন করুন। আন্তরিকতার সাথে প্রতিটা কাজ করুন, তাহলে এই দেশ অনেক সামনে এগিয়ে যাবে।

রফিকুল ইসলাম: দেশের সকল তরুণ গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার উপদেশ কি?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: প্রাপ্তির কথা না ভেবে নিরলসভাবে সত্যিকার অর্থে কাজ করুন, তাহলে দেশ তথা  জাতির উন্নতি সাধিত হবে।

রফিকুল ইসলাম: আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. তুহিন শুভ্র রায়: ধন্যবাদ।

আলুবীজের উদ্ভাবক ড. তুহিন শুভ্র রায়