মার্কিন গবেষণাগারে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি!!


মাহমুদুল হাসান লিখন

17776_483975978323393_2041750013_n

মার্কিন গবেষণাগারে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, বিজ্ঞানীদের কাছে এতদিন যা অধরা ছিল। পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী ধারণা করা হয়, মহাবিশ্বের এক চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে ডার্ক ম্যাটার। অবশেষে , প্রথমবারের মতো সেই ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতির ইঙ্গিত এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ভূগর্ভস্থ গবেষণাগার থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার এক খনির গভীরে অবস্থিত ক্রায়োজেনিক ডার্ক শ্যাটার রিসার্চ (সিডিএসএস) গবেষণাগারে পাওয়া সূত্রগুলো ইতিবাচক আশা দিচ্ছে পদার্থবিজ্ঞানীদের। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পদার্থবিজ্ঞানীরা ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতির ইঙ্গিত একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ের। তাদের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন আরো বিস্তারিত গবেষণার।

এরপরও সাধারণ পদার্থের সংস্পর্শে ডার্ক ম্যাটার আসার ঘটনা খুবই বিরল। মহাশূন্যে যে তাপমাত্রা বিরাজ করে, গবেষণাগারের একটি ডিটেক্টরে একই তাপমাত্রা সৃষ্টির মাধ্যমে সেই বিরল ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হবার চেষ্টা করে সিডিএমএস।

সিডিএমএস বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গবেষণাগারের ডিটেক্টরে ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতির তিনটি ইঙ্গিত পেয়েছেন তারা। ইঙ্গিতগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে আরো বিস্তারিত গবেষণার কথা জানিয়েছেন সিডিএমএস বিজ্ঞানী ব্ল্যাস ক্যাবরেরা। পুরোপুরি নিশ্চিত হতে সিলিকিন এবং জার্মেনিয়াম ডিটেক্টর ব্যবহারের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ” আমরা বর্তমানে ডার্ক ম্যাটারের আবিষ্কার নিয়ে ৯৯.৮ শতাংশ নিশ্চিত, কিন্তু আমরা ৯৯.৯৯৯৯ শতাংশ নিশ্চিত হতে চাই। আমরা ডার্ক ম্যাটারের তিনটি ইঙ্গিত পেয়েছি যেটাকে সিগমা-৩ বলা হয়। সিগমা-৪ এ প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর সিগমা-৫ এ ডার্ক ম্যাটার আবিষ্কৃত”

চন্দ্র পৃষ্টে মানব ইতিহাস


buzz-aldrin-moon-apollo-11মানুষ যখন পৃথিবীতে আসে তখন থেকেই সে সপ্ন দেখে নতুনকে  নিেয় ভাবার । নতুনকে জানার আগ্রহ থাকবে, অজানাকে জানার আগ্রহ থাকবে এটাই মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আর এর মধ্যে থেকেই সমাধিত  হয় সাময়িক সমস্যা আর জানার আগ্রহ সৃষ্টি হয় আরও এক ধাপ। আর এরকম সমস্যার সমাধানের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে নতুন এক অধ্যায় যার নাম বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের মূলত সৃষ্টি কখন থেকে তার অনেক ধারণা বা এ নিয়ে অনেক যুক্তি তর্ক থাকলেও আমি মনে করি মূলত বিজ্ঞান বলতে যা বোঝায় তা মানুষ যখন পৃথিবীতে আসলো তখন থেকেই সৃষ্টি। খাবারের খোঁজে এক স্থান থেকে অন্য স্থান পরিবর্তন, শিকারের উদ্দেশে ফলা, বল্লম , কাঁচা মাংস সিদ্ধ করতে পাথর ঘষে আগুন তৈরি বিজ্ঞানেরই অন্তর্গত। এর পর মানুষের বিভিন্ন সময়ের শখের ফসল, চিন্তার বহিরপ্রকাশ আর প্রকৃতির বিচিত্রতা থেকেই বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার জন্ম হয়েছে।মূলত আমাদের সব কিছুই প্রকৃতির অন্তর্গত। এ বিষয়ে  ২৭ জুলাই ২০১১ জেনেটিক্স তত্তিও ক্লাসে শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলছিলেন “আমরা যত পড়াশোনা বা গবেষণা করি তার সবই প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি”।  এর মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান বা জ্যোতির্বিদ্যা এক অনন্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাচীন মানুষের

090713-apollo11-40ann-02

আকাশের তারা দেখে পথ চলা থেকে যার সৃষ্টি আর এই সময়ের নিত্ত নতুন গবেষণা, নতুন ধারা সৃষ্টি এবং  ভবিষ্যৎ অনেক নতুনের সন্ধানী স্বপ্নে বিদ্যমান। প্রাচীন সময়ের আকাশের দিকে টেলিস্কোপ হাতে দারিয়ে থাকা থেকে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর এখন আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন নতুন তারা, গ্রহ, ব্ল্যাক হোল, এমনকি আমরা চাঁদে অবতরণ করেছি।  শুধু এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় আমরা এখন স্বপ্ন দেখছি অন্য গ্রহে মানুষ পাঠানোর । এইতো কিছুদিন আগে বর্তমানে জীবিত অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী জীবন্ত বিজ্ঞানী  স্তিফেন হকিং বলছিলেন “ আগামি ১০০ বছরের মধ্যে মানুষ মঙ্গল গ্রহে বাস করবে”  হয়তবা এটাও সম্ভব হবে। আর এটা সম্ভব হলেই হইত এই পৃথিবী নামক গ্রহটি অতিরিক্ত মানুষের চাপ থেকে মুক্তি পাবে। চাঁদে সফল ভাবে পৌঁছানোর জন্য অনেকগুলো অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এর মধ্যে কিছু মনুষ্যবাহী এবং কিছু মনুষ্যবিহীন।

মনুষ্যবিহীন অভিযানসমূহঃ  এ পর্যন্ত অনেকগুলো দেশ মনুষ্যবিহীন অভিযান পরিচালনা করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৯ সালে সর্বপ্রথম লুনা-২  চন্দ্র পৃষ্টে পাঠায় যা ছিল উচ্চ গতিসম্পন্ন এবং পরবর্তীতে এটি ধ্বংস করা হয়। অতঃপর এর অনুকরণে ১৯৬৪ সালে আমেরিকা রেঞ্জার -৪ তৈরি করে।  এরপর কিছুদিন চাঁদে মানুষ পাঠানোর বিষয় নিয়ে  দু দেশের মধ্যে স্নায়ু যুদ্ধের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি কিছু দেশ অনেক উচ্চ গতিসম্পন্ন (ঘণ্টায় ৫০০০ মাইল) মহাকাশযান চন্দ্রপৃষ্টে ধ্বংস করেছে। জাপানী লুনার অরবিট হিতেন ১৯৯৩ সালের ১০এপ্রিল চন্দ্রপৃষ্টে ধ্বংস করা হয়। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তাদের দুরনিয়ন্ত্রিত অরবিট স্মার্ট-১ পরিচালনা করে। ভারতের মহাকাশ সংস্থা আই.এস.আর.ও তাদের চন্দ্রযান   চন্দ্রনারাওন-১ লুনার অরবিেট পাঠিয়েছে ১৪ নভেম্বর ২০০৮। ইতিমধ্যেই এর দূর নিয়ন্ত্রণ (রিমোট সেন্সর) নষ্ট হয়ে গেছে এবং ধারণা করা যাচ্ছে চলতি বছরের শেষ বা ২০১২ সালের প্রথম দিকে এটি ধ্বংস হয়ে যাবে। সম্প্রতি পহেলা মার্চ ২০০৯ চীনের নভোযান চ্যাং ই-১ ধ্বংস হয়েছে। এদের পাশাপাশি সম্প্রতি আমাদের দেশের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু  শিক্ষার্থী একটি রকেট আবিষ্কার করেছে যা চন্দ্র পৃষ্টের ধূলা সংগ্রহ করতে পারবে। তবে এটি এখনো চাঁদের উদ্দেেশ পাঠানো হয় নি।

মনুষ্যবাহী অভিযান সমুহঃ                                                   

এ পর্যন্ত ১২ টি মনুষ্যবাহী নভোযান পরিচালিত হয়েছে চাঁদের উদ্দেশে। এটি নাসার নিয়ন্ত্রণে ইউ.এস পাইলটদের দ্বারা অনুষ্ঠিত। মূলত ৪১ মাসে নাসার ছয়টি মিশনের মাধ্যমে এটি সংঘটিত হয়েছে। এই   মিশনগুলো ২১ জুলাই ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ এর  নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স, এডউইন অলড্রিনদের দিয়ে যাত্রা শুরু এবং শেষ হয় অ্যাপোলো -১৭ এর দুই নভোচারী জিন. কারনেন এবং জেক.স্মিথের পাঠানোর মধ্যে দিয়ে।

 চন্দ্রপৃষ্টে অবতরণঃ

 080725-google-xprize1-02

জ্যোতির্বিজ্ঞান যেসব আবিষ্কার বা অভিযান পরিচালনা করেছে তার মধ্যে বেশির ভাগ ছিল চালেঞ্জিং সেটা গবেষণা সম্পর্কিত,মানসিক বা রাজনৈতিক। এর মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর মত অভিযানটি সত্তিকারার্থেই  রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, আর এটি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে।  প্রেসিডেন্ট কেনেডি এটাকে চালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। ২৫ মে ১৯৬১ সালে তিনি পার্লামেন্টে ঘোষণা  দেন যে যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত  ইউনিয়ন থেকে প্রযুক্তিতে  পিছিয়ে পড়ছে, তাই অনতি বিলম্বে চাঁদে মানুষ পাঠাতে হবে। মূলত ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক লুনা-২ মিশন পরিচালনার ফলে তারা এই আশঙ্কা করতে থাকে যে হয়তবা তাদের পূর্বেই সোভিয়েত ইউনিয়ন চন্দ্রপৃষ্টে মানুষ পাঠাতে সক্ষম হতে পারে। মূলত তাদের মধ্যে যেমন ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর ছিল মানসিক চাপ। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীদের পরিশ্রম  ছিল দেখার মত। অবশেষে জুলাই ১৬,১৯৬৯ কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে অ্যাপোলো ১১ চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।  এই যাত্রা ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা যা প্রমাণ করেছিল মানুষ তার চেষ্টা এবং প্রতিজ্ঞা দ্বারা সবকিছু জয় করতে পারে। অ্যাপোলো ১১ এর তিন ক্রু ছিলেন নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স, এডউইন অলড্রিনদের  । চার দিনপর ২০ জুলাই ১৯৬৯ পরিচালক নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে পা রাখেন এবং ইতিহাসের একটি অংশ হয়ে যান। তিনি  বিখ্যাত এক উক্তি করেছিলেন “ এটি একজন  মানুষের ক্ষুদ্র পদক্ষেপ হলেও সমগ্র মানবজাতির জন্য ছিল বিস্ময়কর প্রাপ্তি”। লুনার মডুলের একটি কামেরায় দেখা যাচ্ছিল নীল আর্মস্ট্রং চন্দ্রপৃষ্টে

তারা মূলত ২.৩০ ঘণ্টা চন্দ্রপৃষ্ঠে হাঁটাহাঁটি করেন। সেখানে অবস্থান কালে তারা কিছু গবেষণা করেন এবং উপরিভাগের ধুলা এবং পাথর সংগ্রহ করেন। তারা একটি বিশেষ জ্যাকেট পরে ছিল যা চাঁদের তাপমাত্রা এবং চাপ থেকে তাদের  রক্ষা করেছিল। শেষে তারা একটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা  চন্দ্রপৃষ্টে উত্তলন করেন। এরপর তারা লুনার রোভার নামক এক বিশেষ বাহনে চরে পৃষ্টে পরিভ্রমন করেন। ২৪ জুলাই ১৯৬৯ এই তিন নভোচারী তাদের মিশন শেষ করেন। পৃথিবী পৃষ্টে আসতে নিরাপদে  অবতরণের জন্য তারা প্যারাসুটের মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরে  নিক্ষিপ্ত হন। অবশেষে হেলিকপ্টারে করে তাদের উদ্ধারকারী জাহাজে নিয়ে আসা হয়। আর এভাবেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন ধারার সুচনা হয় আর  মানুষ স্বপ্ন দেখে নতুন দিনের, যখন চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহে যাওয়া হবে শুধু আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়ি েবড়ানোর মত। মানে আমি শেরে বাংলা হলের(শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) সামনে থেকে থেকে একটা ভাড়া বিমানে উঠবো সকাল আঁটটায় আবার চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহে গিেয় ঘুরে এসে ১০ টার ক্লাস করতে পারবো।