স্মৃতিময় বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ


বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ ২০১৩ এর পোষ্টার

বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ ২০১৩ এর পোষ্টার

বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ যা উদযাপিত হয় প্রতিবছর ৪অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর। এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টোনভিত্তিক এসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড স্পেস উইকের তত্ত্বাবধানে সারা বিশ্বে উদযাপিত হয়ে থাকে। এই বিষয়টির সাথে আমার পরিচয় ঘটে ২০০৭ সালে। মূলত ২০০৭ ছিল আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ২০০৭ এ বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপনের একটি অংশ ছিল সারা বিশ্বের কিছুসংখ্যক  শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে মহাশূণ্য পাঠানো। এর অংশ হিসেবে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। সমগ্র বিশ্বের প্রায় ৮লক্ষ শিক্ষার্থীর মধ্যে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত চারজনের তালিকায় মধ্যে এই অধমের নামটি ছিল। আর এটিই ছিলো সমগ্র বিশ্বের কোন প্রথম বাঙালীর মহাশূণ্য ভ্রমণের সুযোগ। বিশেষ কারণে এই মিশনে আমি অংশগ্রহণ করতে পারি নি। খুবই মর্মাহত হয়েছিলাম তখন । এখন  নিজেকে ফিরিয়ে এনেছি। প্রতিবছর অক্টোবর আসলে ২০০৭ এর কথা মনে হয়। আজ সমকালের বিজ্ঞান বলয় পাতায় বিজ্ঞানবক্তা আসিফের বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ এর উপর একটি লেখা দেখে  আবেগতাড়িত হলাম।

আজ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩) দৈনিক সমকালের বিজ্ঞান বলয় পাতায় বিজ্ঞান বক্তা আসিফের লেখনী

আজ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩) দৈনিক সমকালের বিজ্ঞান বলয় পাতায় বিজ্ঞান বক্তা আসিফের লেখনী

এখন বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় একটু আধটু জানার চেষ্টা করি। বাংলাদেশে মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপনে সবচেয়ে অগ্রসর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি। এই সংগঠনটির শ্রদ্ধেয় এফ.আর. সরকার স্যার অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে উদযাপন করেন। পাশাপাশি এবার  বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপন করবে ডিসকাশন প্রজেক্ট। এক কথায় বাংলাদেশে অত্যান্ত জাঁকজমকভাবে এটি উদযাপিত হয়। বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহকে সামনে রেখে সকল বিজ্ঞান প্রেমীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আর বিজ্ঞান সংগঠকদের প্রতি অনুরোধ বিজ্ঞানকে মানুষের (বিশেষ করে শিশু কিশোরদের)  কাছে জনপ্রিয় করে তুলুন যা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার প্রধান দাবি।

বিক্রি হবে ফ্রান্সিস ক্রিকের (ডিএনএর ডাবল হেলিক্স মডেল প্রদান করেন) নোবেল !!!


crick-nobel-medal

ডি এন এ কি? এই প্রশ্নটির উত্তর আমরা যারা সাধারণ বিজ্ঞান নিয়ে একটু পড়াশোনা করি তাদের সবার কাছে জানা। ডিওক্সি রাইবো নিউক্লিক এসিড যার পূর্ণ নাম। ,মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের বিজ্ঞানের আলোচনা যখনই জীন এর নাম আসে ঠিক তখনই চলে আসে এই  ডি এন এর কথা। কিন্তু কেমন দেখতে এই ডিএনএ? এর গঠনই বা কেমন? এই বিষয় জানার জন্য বিজ্ঞানীদের যে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে তা অনুমেয়। আর এর সফল গঠন প্রদানকারী বিজ্ঞানীদের নাম আসলেই চলে আসে দুজন বিখ্যাত বিজ্ঞানীর নাম। তারা হচ্ছেন ওয়াটসন ও ক্রিক। যদিও মূল গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন তিনজন বিজ্ঞানী। এটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ছিল যে ১৯৫৩ সালে এই তিনজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হন। সে তো অনেক দিন আগের কথা। ২০০৪ সালে এই দলের একজন বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক ৮৮ বছর বয়সে দুনিয়া ছেড়ে চলে যান। তার মৃত্যুর নয় বছর এবং নোবেল প্রাপ্তির ৬০ বছর পর ঘটছে এক বিস্ময়কর ঘটনা। ঘটনা বিস্ময়কর এজন্য যে তার প্রাপ্ত নোবেল সাধারণ মানুষের ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ এসেছে। অর্থাৎ আপনি বিজ্ঞানী না হয়েও ফ্রান্সিস ক্রিকের নোবেল পুরস্কারটি আপনি পেতে পারেন। আলোচনা বাদ দিয়ে আসল বিষয়ে আসি। মূল কথা নোবেল প্রাপ্তির ৬০ বছর পর তার নোবেল পুরস্কারটি নিলামে উঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন? মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য তাদের পরিবারের সদস্যদের এই উদ্যোগ। ২৩ ক্যারট স্বর্ণের এই মেডেলের দাম হাঁকানো হয়েছে পাঁচ লক্ষ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশী হিসেবে  মাত্র চার কোটি টাকা।

আবিষ্কার করেও নোবেল পাননি আলবার্ট স্কেটজ


Albert Schatz

নোবেলের ইতিহাসে দেখা যায় নোবেল কমিটি মূলত প্রবীণ বিজ্ঞানীদের তাদের নবীন সহকর্মী অপেক্ষা বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞানী স্কেটজ যখন  রাটগারস বিশ্ববিদ্যালয়ে  অয়াক্সমান এর গবেষণাগারে যোগদান করেন তখন তার বয়স মাত্র ২৩ বছর।  সেই সময় অয়াক্সমান অণুজীব নিয়ে কাজ করার জন্য প্রশংসিত ছিলেন। যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি প্রাকৃতিক প্রতিষেধক অনুসন্ধান করছিলেন। এই একই বিষয় নিয়ে গবেষণারত অণুজীববিদ মিলটন ওয়েনরাইটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১৯৪৩ সালে স্কেটজ তারই পরিচিত এক স্নাতক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রাপ্ত মুরগীর বাচ্চার নমুনায় স্ত্রেপটোমাইসিন (যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক) খুঁজে পান। স্কেটজ এবং অয়াক্সমান তাদের এই নতুন অনুসন্ধান প্রকাশ করেন এবং ওষুধ আবিষ্কারের জন্য গবেষণা শুরু করেন। মুলত তখনই সমস্যার সৃষ্টি হল। অয়াক্সমান এই গবেষণা একাকী শুরু  করেন এবং আবিষ্কারের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব একা লাভ করেন। ইহা বুঝতে পেরে স্কেটজ আদালতের আশ্রয় নিলেন । বিচারক ঘোষণা করলেন যে স্কেটজ স্ক্রেপ্তমাইসিন এর সহযোগী আবিষ্কারক এবং এই সম্মান তারও প্রাপ্য। এটি খুবই অপ্রীতিকর ছিল যখন   ১৯৫২ সালে অয়াক্সমান নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হন। স্কেটজ এবং তার কিছু সহযোগী স্কেটজ এর অবদান মেনে নেয়ার জন্য নোবেল কমিটিকে আবেদন জানায়। কিন্তু অয়াক্সমানেরই জয় হয় এবং নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। সান্ত্বনা হিসেবে স্কেটজ চার দশক পর ১৯৯৪ সালে রাতগার বিশ্ববিদ্যালয় মেডেল লাভ করেন। যদিও অয়াক্সমানকেই স্ত্রেপটোমাইসিন আবিষ্কারের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দেওয়া হয় কিন্তু আলবার্ট স্কেটজ স্ত্রেপ্তমাইসিন এর সহযোগী আবিষ্কারক যা যক্ষ্মা রোগের প্রথম প্রতিষেধক।

গবেষণায় জীবনের কাল!


OLYMPUS DIGITAL CAMERA

বিজ্ঞানীদের কাছে গবেষণা যেন নেশার মত। তাইতো সমাজ সংসার ত্যাগ করে শুধু গবেষণাকেই আপন করে নেন তারা। কেউবা আবার গবেষণার কাজে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, এমনকি জীবন উৎসর্গ করেছেন। ফলে অনেকে আহত আবার নিহত হয়েছেন। এমনই কয়জন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের নিয়ে আমাদের বিশেষ  আয়োজন।

Karl Scheele-2

কার্ল সিলি একজন বিখ্যাত ফার্মাসিস্ট রসায়নবিদ। তার উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার অক্সিজেন (যদিও প্রিসটলি প্রথম প্রকাশ করেন), মলিবডেনাম, টাংস্টেন, ম্যাঙ্গানিজ এবং ক্লোরিন। পাস্তুরাইজেশনের সাদৃশ্যপূর্ণ একটি পদ্ধতি তিনি আবিষ্কার করেন। নতুন আবিষ্কৃত উপাদান জিহ্বা দিয়ে তিনি পরীক্ষা করতেন। হাইড্রোজেন সায়ানাইড আবিষ্কারের পর জিহ্বা দিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়েই ঘটে আসল বিপত্তি। মারকারির বিস্ক্রিয়ায় এই বিখাত বিজ্ঞানী মৃত্যুবরণ করেন।

Jean-Francois De Rozier 2

জিন ফ্রাঙ্কিস ডি রজার  পদার্থ ও রসায়নের শিক্ষক ছিলেন । খুব অভিজান প্রিয় ছিলেন তিনি। ১৭৮৩ সালে তিনি বেলুনে চড়ে ভ্রমণের ইচ্ছে করেন। সঙ্গী হিসেবে নেন ভেড়া, মুরগী ও হাঁস। একটি গরম বায়ুপূর্ণ বেলুনে চড়ে তিন হাজার ফুট উপরে উঠতে সক্ষম হন তিনি। কিন্তু  ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে ফ্রান্স থেকে ইংল্যান্ডে যেতে চাইলেন তিনি। গরম বাতাস এবং গ্যাস ভর্তি বেলুন ভালোই উড়ছিল। হয়তোবা এটাই ছিল তার শেষ অভিযান। ১৫০০ ফুট উঠার পর বেলুন ফেটে যায় এবং ভূমিতে পরে মৃত্যুবরণ করেন। খুব সম্ভবত ৮ দিন পর তার বাগদত্তা আত্মহত্যা করে।

Sir David Brewster

স্যার ডেভিড ব্রেসটার ছিলেন একজন স্কটিশ বিজ্ঞানী। তিনি একাধারে একজন গবেষক এবং লেখক। আলো এবং দৃষ্টি ছিল তার গবেষণার বিষয়। মানুষের দৃষ্টির সাথে আলোর সম্পর্ক নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। বহু বছর ধরে শিশুদের কাছে জনপ্রিয় কালাইডস্কোপ নামক খেলনা আবিষ্কারের জন্য তিনি বিখ্যাত। ব্রেসটার ১৮৩১ সালে একটি রাসায়নিক গবেষণা করেন যা তার অন্ধত্তের মূল কারণ। যদিও তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন কিন্তু চোখের ঘা নিয়ে লড়েছেন আমৃত্যু পর্যন্ত।

Elizabeth Ascheim

এলিজাবেথ আসিম যার বদৌলতে সান ফ্রান্সিসকোতে প্রথম এক্সরে গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মায়ের মৃত্যুর পর আসিম ডা. উলফকে বিয়ে করেন । ডা. উলফের চিকিৎসাশাস্ত্রে প্রশংসনীয় অবস্থানের কারণেই বিয়ে করেছিলেন তিনি। রন্টজেন এর নতুন আবিষ্কৃত এক্সরের প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন ডা. উলফ। তড়িৎবিদ্যায় অভিজ্ঞ এলিজাবেথও এই বিষয়ে সমান আগ্রহী ছিলেন। তিনি তার স্বামীর অফিসে একটি এক্সরে মেশিন নিয়ে আসেন এবং এটি সঞ্চালন করতেন। তার স্বামীর সাথে তিনি অনেক বছর ধরে এক্সরে মেশিন নিয়ে গবেষণা করেছেন। কিন্তু এক্সরে রশ্মির নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তারা অনুধাবন করেন নি। ফলে এলিজাবেথ এর শরীরে এক্সরে রশ্মির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তিনি এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন।

Alexander Bogdanov

অ্যালেক্সান্ডার বোগডানভ একজন রাশিয়ান শরিরতত্তবিদ, দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং  সায়েন্স ফিকশন লেখক। একজন মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে রক্ত সঞ্চালন নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। চির যৌবন ধরে রাখতে রক্ত সঞ্চালন নিয়ে তিনি ১৯২৪ সালে গবেষণা শুরু করেন। তিনি তার শরীরে এগারো বার রক্ত গ্রহণ করেন এবং ঘোষণা করেন তার চুল উঠা দূর হয়েছে এবং দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বোগডানভের গবেষণা সম্পূর্ণ ছিল না। তিনি রক্তদাতাদের রক্ত পরীক্ষা না করে গ্রহণ করতেন। যার ফলে ১৯২৮ সালে তিনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন এবং এর কিছুদিন পরেই মৃত্যুবরণ করেন।

Robert Bunsen 2

রবার্ট বুনসেন এর নামানুসারেই বুনসেন বারনার এর নামকরণ যা গবেষণাগারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার গবেষণা শুরু জৈব রসায়ন দিয়ে। গবেষণাগারে বিভিন্ন উপাদান নিয়ে তিনি গবেষণা করতেন। তিনি যখন আয়োডাইল সায়নাইড গবেষণা করেন তখন তা বিস্ফোরিত হয় এবং তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তিনি গবেষণার বিষয় পরিবর্তন করেন। নতুন বিষয় হিসেবে বেছে নেন অজৈব রসায়ন।

Sir Humphrey Davy 1c

স্যার হামফেরি ডেভি একজন ব্রিটিশ রসায়নবিদ এবং গবেষক। বৈজ্ঞানিক কর্মজীবনের প্রতি  তার অনেক ক্ষোভ ছিল। তরুণ গবেষক হিসেবে তিনি ওষুধ প্রস্তুত কোম্পানিতে যোগ দেন। কিন্তু রাসায়নিক বিস্ফোরণ ঘটানোর ফলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। রসায়নবিদ হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করার পর থেকে তিনি বিভিন্ন গ্যাস নিয়ে পরীক্ষা চালাতেন। পাশাপাশি তিনি একটি অভ্যাসে জড়িয়ে পরেছিলেন। আর তা হচ্ছে নতুন পরীক্ষিত কোন গ্যাসের শ্বাস নেওয়া। নাইট্রাস অক্সাইডের চেতানানাশক ধর্ম নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। এক্ষেত্রেও তিনি গ্যাসের শ্বাস গ্রহণ করেন। এই অভ্যাসই তার মৃত্যুর কারণ ছিল। গ্যাসীয় বিষক্রিয়ার ফলে দুই দশক ধরে তার শরীর অক্ষম ছিল। একই সাথে নাইট্রোজেনtrchloride বিস্ফোরণে তার দুটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়।

Michael Faraday 3

মাইকেল ফারাডে (farade) যিনি স্যার হামফেরির অন্ধত্তের ফলে তার স্থলাভিষক্ত হন। তিনি হামফেরির তড়িৎ পদ্ধতি উন্নত করেন এবং তড়িৎ চৌম্বক ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করেন। দুর্ভাগ্যক্রমে তিনিও হামফেরির মত নাইট্রোজেন ক্লোরাইড বিস্ফোরণের শিকার হন। ফলে তার চোখের মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং বাঁকী জীবন ক্লোরিন বিষক্রিয়ায় কাটিয়েছেন।

Marie Curie 3

মেরি কুরি যিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা অধ্যাপক। তিনি একসঙ্গে পদার্থ ও রসায়নে নোবেল পেয়েছেন। ১৮৯৮ সালে তিনি এবং তার স্বামী রেডিয়াম আবিষ্কার করেন।  সারা জীবন তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। আর নিয়ন্ত্রহিনভাবে বিকিরিত তেজস্ক্রিয় রশ্মির ফলেই তিনি লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হন এবং ১৯৩৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

Galileo Galilei

গালিলিও গালিলি (Gallio gallili) আধুনিক পদার্থবিদ্যার জনক। তিনি অদৃশ্যমান দূর বস্তুকে দেখার জন্য টেলিস্কোপের সুক্ষতা নিয়ে কাজ করেছেন। সূর্যের প্রতি তিনি অনেক বেশি আগ্রহী ছিলেন। ফলে সূর্যের দিকে ঘণ্টার পর  ঘণ্টা   তাকিয়ে পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। ফলে জীবনের শেষ চারটি বছর অন্ধভাবে কাটাতে হয়েছিল তাকে।

বিশেষঃ

Louis Slotin 1

লুইস স্লোটিন একজন কানাডিয়ান বিজ্ঞানী যিনি মানহাটান প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে একটি বিশেষ তড়িৎ গোলকের উপর বেরিলিয়াম গোলক নিক্ষেপ করেন। রুমে অবস্থানকারী অন্য বিজ্ঞানী বাতাস আয়নায়নের জন্য নীল শিখা প্রদর্শন করেন এবং তাপ অনুভব করেন। স্লোটিন দ্রুত বাইরে আসেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার সহকর্মীরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এর মাত্র নয় দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

চন্দ্র পৃষ্টে মানব ইতিহাস


মানুষ যখন পৃথিবীতে আসে তখন থেকেই সে সপ্ন দেখে নতুনকে  নিেয় ভাবার । নতুনকে জানার আগ্রহ থাকবে, অজানাকে জানার আগ্রহ থাকবে এটাই মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আর এর মধ্যে থেকেই সমাধিত  হয় সাময়িক সমস্যা আর জানার আগ্রহ সৃষ্টি হয় আরও এক ধাপ। আর এরকম সমস্যার সমাধানের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে নতুন এক অধ্যায় যার নাম বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের মূলত সৃষ্টি কখন থেকে তার অনেক ধারণা বা এ নিয়ে অনেক যুক্তি তর্ক থাকলেও আমি মনে করি মূলত বিজ্ঞান বলতে যা বোঝায় তা মানুষ যখন পৃথিবীতে আসলো তখন থেকেই সৃষ্টি। খাবারের খোঁজে এক স্থান থেকে অন্য স্থান পরিবর্তন, শিকারের উদ্দেশে ফলা, বল্লম , কাঁচা মাংস সিদ্ধ করতে পাথর ঘষে আগুন তৈরি বিজ্ঞানেরই অন্তর্গত। এর পর মানুষের বিভিন্ন সময়ের শখের ফসল, চিন্তার বহিরপ্রকাশ আর প্রকৃতির বিচিত্রতা থেকেই বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার জন্ম হয়েছে।মূলত আমাদের সব কিছুই প্রকৃতির অন্তর্গত। এ বিষয়ে গতকাল (২৭ জুলাই ২০১১) জেনেটিক্স তত্তিও ক্লাসে শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলছিলেন “আমরা যত পড়াশোনা বা গবেষণা করি তার সবই প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি”।  এর মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান বা জ্যোতির্বিদ্যা এক অনন্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাচীন মানুষের আকাশের তারা দেখে পথ চলা থেকে যার সৃষ্টি আর এই সময়ের নিত্ত নতুন গবেষণা, নতুন ধারা সৃষ্টি এবং  ভবিষ্যৎ অনেক নতুনের সন্ধানী স্বপ্নে বিদ্যমান। প্রাচীন সময়ের আকাশের দিকে টেলিস্কোপ হাতে দারিয়ে থাকা থেকে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর এখন আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন নতুন তারা, গ্রহ, ব্ল্যাক হোল, এমনকি আমরা চাঁদে অবতরণ করেছি।  শুধু এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় আমরা এখন স্বপ্ন দেখছি অন্য গ্রহে মানুষ পাঠানোর । এইতো কিছুদিন আগে বর্তমানে জীবিত অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী জীবন্ত বিজ্ঞানী  স্তিফেন হকিং বলছিলেন “ আগামি ১০০ বছরের মধ্যে মানুষ মঙ্গল গ্রহে বাস করবে”  হয়তবা এটাও সম্ভব হবে। আর এটা সম্ভব হলেই হইত এই পৃথিবী নামক গ্রহটি অতিরিক্ত মানুষের চাপ থেকে মুক্তি পাবে। চাঁদে সফল ভাবে পৌঁছানোর জন্য অনেকগুলো অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এর মধ্যে কিছু মনুষ্যবাহী এবং কিছু মনুষ্যবিহীন।


মনুষ্যবিহীন অভিযানসমূহঃ

এ পর্যন্ত অনেকগুলো দেশ মনুষ্যবিহীন অভিযান পরিচালনা করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৯ সালে সর্বপ্রথম লুনা-২  চন্দ্র পৃষ্টে পাঠায় যা ছিল উচ্চ গতিসম্পন্ন এবং পরবর্তীতে এটি ধ্বংস করা হয়। অতঃপর এর অনুকরণে ১৯৬৪ সালে আমেরিকা রেঞ্জার -৪ তৈরি করে।  এরপর কিছুদিন চাঁদে মানুষ পাঠানোর বিষয় নিয়ে  দু দেশের মধ্যে স্নায়ু যুদ্ধের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি কিছু দেশ অনেক উচ্চ গতিসম্পন্ন (ঘণ্টায় ৫০০০ মাইল) মহাকাশযান চন্দ্রপৃষ্টে ধ্বংস করেছে। জাপানী লুনার অরবিট হিতেন ১৯৯৩ সালের ১০এপ্রিল চন্দ্রপৃষ্টে ধ্বংস করা হয়। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তাদের দুরনিয়ন্ত্রিত অরবিট স্মার্ট-১ পরিচালনা করে। ভারতের মহাকাশ সংস্থা আই.এস.আর.ও তাদের চন্দ্রযান   চন্দ্রনারাওন-১ লুনার অরবিেট পাঠিয়েছে ১৪ নভেম্বর ২০০৮। ইতিমধ্যেই এর দূর নিয়ন্ত্রণ (রিমোট সেন্সর) নষ্ট হয়ে গেছে এবং ধারণা করা যাচ্ছে চলতি বছরের শেষ বা ২০১২ সালের প্রথম দিকে এটি ধ্বংস হয়ে যাবে। সম্প্রতি পহেলা মার্চ ২০০৯ চীনের নভোযান চ্যাং ই-১ ধ্বংস হয়েছে। এদের পাশাপাশি সম্প্রতি আমাদের দেশের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু  শিক্ষার্থী একটি রকেট আবিষ্কার করেছে যা চন্দ্র পৃষ্টের ধূলা সংগ্রহ করতে পারবে। তবে এটি এখনো চাঁদের উদ্দেেশ পাঠানো হয় নি।

মনুষ্যবাহী অভিযান সমুহঃ                                                   

এ পর্যন্ত ১২ টি মনুষ্যবাহী নভোযান পরিচালিত হয়েছে চাঁদের উদ্দেশে। এটি নাসার নিয়ন্ত্রণে ইউ.এস পাইলটদের দ্বারা অনুষ্ঠিত। মূলত ৪১ মাসে নাসার ছয়টি মিশনের মাধ্যমে এটি সংঘটিত হয়েছে। এই   মিশনগুলো ২১ জুলাই ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ এর  নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স, এডউইন অলড্রিনদের দিয়ে যাত্রা শুরু এবং শেষ হয় অ্যাপোলো -১৭ এর দুই নভোচারী জিন. কারনেন এবং জেক.স্মিথের পাঠানোর মধ্যে দিয়ে।

চন্দ্রপৃষ্টে অবতরণঃ

জ্যোতির্বিজ্ঞান যেসব আবিষ্কার বা অভিযান পরিচালনা করেছে তার মধ্যে বেশির ভাগ ছিল চালেঞ্জিং সেটা গবেষণা সম্পর্কিত,মানসিক বা রাজনৈতিক। এর মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর মত অভিযানটি সত্তিকারার্থেই  রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, আর এটি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে।  প্রেসিডেন্ট কেনেডি এটাকে চালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। ২৫ মে ১৯৬১ সালে তিনি পার্লামেন্টে ঘোষণা  দেন যে যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত  ইউনিয়ন থেকে প্রযুক্তিতে  পিছিয়ে পড়ছে, তাই অনতি বিলম্বে চাঁদে মানুষ পাঠাতে হবে। মূলত ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক লুনা-২ মিশন পরিচালনার ফলে তারা এই আশঙ্কা করতে থাকে যে হয়তবা তাদের পূর্বেই সোভিয়েত ইউনিয়ন চন্দ্রপৃষ্টে মানুষ পাঠাতে সক্ষম হতে পারে। মূলত তাদের মধ্যে যেমন ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর ছিল মানসিক চাপ। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীদের পরিশ্রম  ছিল দেখার মত। অবশেষে জুলাই ১৬,১৯৬৯ কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে অ্যাপোলো ১১ চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।  এই যাত্রা ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা যা প্রমাণ করেছিল মানুষ তার চেষ্টা এবং প্রতিজ্ঞা দ্বারা সবকিছু জয় করতে পারে। অ্যাপোলো ১১ এর তিন ক্রু ছিলেন নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স, এডউইন অলড্রিনদের  । চার দিনপর ২০ জুলাই ১৯৬৯ পরিচালক নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে পা রাখেন এবং ইতিহাসের একটি অংশ হয়ে যান। তিনি  বিখ্যাত এক উক্তি করেছিলেন “ এটি একজন  মানুষের ক্ষুদ্র পদক্ষেপ হলেও সমগ্র মানবজাতির জন্য ছিল বিস্ময়কর প্রাপ্তি”। লুনার মডুলের একটি কামেরায় দেখা যাচ্ছিল নীল আর্মস্ট্রং চন্দ্রপৃষ্টে নামছে। তারা মূলত ২.৩০ ঘণ্টা চন্দ্রপৃষ্ঠে হাঁটাহাঁটি করেন। সেখানে অবস্থান কালে তারা কিছু গবেষণা করেন এবং উপরিভাগের ধুলা এবং পাথর সংগ্রহ করেন। তারা একটি বিশেষ জ্যাকেট পরে ছিল যা চাঁদের তাপমাত্রা এবং চাপ থেকে তাদের  রক্ষা করেছিল। শেষে তারা একটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা  চন্দ্রপৃষ্টে উত্তলন করেন। এরপর তারা লুনার রোভার নামক এক বিশেষ বাহনে চরে পৃষ্টে পরিভ্রমন করেন। ২৪ জুলাই ১৯৬৯ এই তিন নভোচারী তাদের মিশন শেষ করেন। পৃথিবী পৃষ্টে আসতে নিরাপদে  অবতরণের জন্য তারা প্যারাসুটের মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরে  নিক্ষিপ্ত হন। অবশেষে হেলিকপ্টারে করে তাদের উদ্ধারকারী জাহাজে নিয়ে আসা হয়। আর এভাবেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন ধারার সুচনা হয় আর  মানুষ স্বপ্ন দেখে নতুন দিনের, যখন চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহে যাওয়া হবে শুধু আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়ি েবড়ানোর মত। মানে আমি শেরে বাংলা হলের(শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) সামনে থেকে থেকে একটা ভাড়া বিমানে উঠবো সকাল আঁটটায় আবার চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহে গিেয় ঘুরে এসে ১০ টার ক্লাস করতে পারবো।