স্মৃতিময় বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ


বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ ২০১৩ এর পোষ্টার

বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ ২০১৩ এর পোষ্টার

বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ যা উদযাপিত হয় প্রতিবছর ৪অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর। এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টোনভিত্তিক এসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড স্পেস উইকের তত্ত্বাবধানে সারা বিশ্বে উদযাপিত হয়ে থাকে। এই বিষয়টির সাথে আমার পরিচয় ঘটে ২০০৭ সালে। মূলত ২০০৭ ছিল আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ২০০৭ এ বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপনের একটি অংশ ছিল সারা বিশ্বের কিছুসংখ্যক  শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে মহাশূণ্য পাঠানো। এর অংশ হিসেবে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। সমগ্র বিশ্বের প্রায় ৮লক্ষ শিক্ষার্থীর মধ্যে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত চারজনের তালিকায় মধ্যে এই অধমের নামটি ছিল। আর এটিই ছিলো সমগ্র বিশ্বের কোন প্রথম বাঙালীর মহাশূণ্য ভ্রমণের সুযোগ। বিশেষ কারণে এই মিশনে আমি অংশগ্রহণ করতে পারি নি। খুবই মর্মাহত হয়েছিলাম তখন । এখন  নিজেকে ফিরিয়ে এনেছি। প্রতিবছর অক্টোবর আসলে ২০০৭ এর কথা মনে হয়। আজ সমকালের বিজ্ঞান বলয় পাতায় বিজ্ঞানবক্তা আসিফের বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ এর উপর একটি লেখা দেখে  আবেগতাড়িত হলাম।

আজ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩) দৈনিক সমকালের বিজ্ঞান বলয় পাতায় বিজ্ঞান বক্তা আসিফের লেখনী

আজ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩) দৈনিক সমকালের বিজ্ঞান বলয় পাতায় বিজ্ঞান বক্তা আসিফের লেখনী

এখন বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় একটু আধটু জানার চেষ্টা করি। বাংলাদেশে মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপনে সবচেয়ে অগ্রসর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি। এই সংগঠনটির শ্রদ্ধেয় এফ.আর. সরকার স্যার অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে উদযাপন করেন। পাশাপাশি এবার  বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপন করবে ডিসকাশন প্রজেক্ট। এক কথায় বাংলাদেশে অত্যান্ত জাঁকজমকভাবে এটি উদযাপিত হয়। বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহকে সামনে রেখে সকল বিজ্ঞান প্রেমীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আর বিজ্ঞান সংগঠকদের প্রতি অনুরোধ বিজ্ঞানকে মানুষের (বিশেষ করে শিশু কিশোরদের)  কাছে জনপ্রিয় করে তুলুন যা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার প্রধান দাবি।

কি দিয়েছেন বোস আমাদের?


প্রযুক্তির সাথে বেঁচে থাকবেন অমর বোস

প্রযুক্তির সাথে বেঁচে থাকবেন অমর বোস

১২ জুলাই ২০১৩ এই বিশ্ব হারিয়েছে অমর গোপাল বোসকে কিন্তু আমরা তার অবদানের কথা বহু বছর ধরে মনে রাখব। বোস ৪৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এম.আই.টিতে সফলভাবে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি তার পাঠদান এবং শ্রুতিবিদ্যা ,ইলেক্ট্রনিক্স ও ব্যবসা দ্বারা শত শত শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণীত করেছেন। এম.আই.টির পরিধির বাইরেও বোস একটি জনপ্রিয় এবং স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের নাম। বোস কোম্পানি নামে তিনি একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন যা কোন উৎস থেকে শব্দ শোনার উন্নত পদ্ধতি নিয়ে কাজ করে। এটি মূলত মিশ্রিত বা ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দ দূর করে মূল শব্দ শোনার একটি পদ্ধতি।

অমর গোপাল বোসের অবদান বোস কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা। ১৯৬০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এম.আই.টির ছাত্র হওয়াতে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি। এই সময় বোস কনসার্ট হলের শব্দ নির্ণয় ও আমাদের শব্দ শ্রবণ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি দেখেন যে আমাদের কান ও শ্রবণ অনুভূতি সরাসরি উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দ এবং আশেপাশের প্রতিফলিত শব্দের একটি জটিল মিশ্র শব্দ তৈরি করে। এই আবিষ্কারের ফলস্বরূপ বোসের প্রথম পণ্য ৯০১ স্পিকার সিস্টেম। এটি ছোট ছোট সস্তা স্পীকারের বিন্যাস যা উৎসের উৎপন্ন শব্দ এবং আশেপাশের প্রতিফলিত শব্দকে শৃঙ্খল করে। বোস কর্পোরেশন একটি বিলিয়ন ডলারের উদ্যেগ যা বিভিন্ন প্রকার শব্দযন্ত্রের ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বে তাদের সুনাম অর্জন করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের পণ্যের দাম বেশি হলেও মান এবং দক্ষতার ক্ষেত্রে বাজার দখল করেছে। বোসের যে প্রোডাক্টগুলো আমি কিনেছিলাম তা এখনও ব্যবহার করছি। আমি স্বীকার করি প্রথমে আমি বোসের পণ্য ক্রয় করি নি। এম.আই.টিতে যখন আমি স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে তখন ছোটখাটো একটি বিজ্ঞান প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছিলাম, যা তিন বছর পর আমার স্নাতোকত্তর শ্রেণীর থিসিসের বিষয় ছিল। প্রকল্পটি ছিল চারদিকে শব্দ নিয়ন্ত্রক বেষ্টিত বিশেষ কক্ষের সংবেদনশীল শব্দ পরিমাপ নিয়ে। মাইক্রোফোন ও স্পীকারের দক্ষতা নির্ণয়ে এমন কক্ষের প্রয়োজন ছিল। বোস এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ শব্দবিজ্ঞানীর গবেষণায় ব্যবহৃত এমন পরিবেশের জন্য আমি একটি প্রসিদ্ধ সমাধিক্ষেত্রে যায়। রাত্রিকালীন ঘন্টার পর ঘন্টা লোকজন থেকে দূরে অবস্থানকালে আমি জানতে পারি একদল এম.আই.টি’র শিক্ষার্থী বিখ্যাত ৯০১ স্পীকারের আদলে তাদের নিজের মত একটি নঁকশা তৈরি করেছে। এছাড়া তারা এই নঁকশার যন্ত্রটিকে বাস্তবে রূপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। স্থানীয় ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রাংশের দোকান এবং এম.আই.টির উড-ওয়ার্কিং দোকানের সহযোগীতায় তারা এর প্রতিলিপি তৈরি করতে সমর্থ্য হয় (আমি অনুধাবন করলাম যে এর সর্বোত্তম কপি তৈরি করেছিলেন বোস )। বোসের মতে নতুন নতুন পণ্যে অধিক বিনিয়োগের (যেমন আর এন্ড ডি) দ্বারা তার প্রতিষ্ঠান বাজারে শক্ত অবস্থান দখল করতে সমর্থ্য হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন আর এন্ড ডি ব্যায় চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না যদি তার প্রতিষ্ঠান জনপ্রিয় না হয় (যেমন প্রতিদিনের পূজিবাজারে তাদের প্রাপ্তি)। কারও মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ব্যাবসা পদ্ধতি উদ্ভাবনের এটা কি কোন গুরুত্মপূর্ণ নিয়ম?
তাৎক্ষণিক কোন উত্তর না দিয়ে বাজার অনুযায়ী একজন উদ্ভাবক উপযুক্ত মনে করলে তার অর্থ স্বাধীনভাবে আর এন্ড ডি তে বিনিয়োগ করতে পারেন। অন্যদিকে বাজার থেকে একজন ব্যবসায়ী তারে বিনিয়োগের উপর ভিত্তি করে লাভবান হন। অ্যাপল কোম্পানির দ্বিতীয় ধাপে স্টিভ জবসের নেতৃত্ব এমন একটি উদাহরণ। পণ্য উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই দুই কোম্পানির চিত্র একই।
আমরা মনে করি অমর বোস ছিলেন একজন বিজ্ঞানী, শিক্ষক ,উদ্ভাবক এবং ব্যবসায়ী। তার কাজ দ্বারা তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থী, গবেষণা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং আমরা যারা তার শব্দ শুনছি তাদের হৃদয় জয় করেছেন।

ফ্রেড ডাইলা, নির্বাহী পরিচালক এবং সি.ই.ও , আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স

মহাবিশ্বের সর্ববৃহৎ আকার অনুসন্ধান !!!


Largest Structure in Universe Discoveredমনে করুন একটি যানবাহন আলোর বেগে অতিক্রম করছে। এই যানবাহন যদি চার বিলিয়ন বছর অতিক্রম করে তাহলে কত দূরত্ব অতিক্রম করবে? ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে এই হিসাব করতে যত সময় প্রয়োজন তার থেকে আমরা কল্পনা করতে পারছি এই দূরত্ব সত্যিই আমাদের ধারণার বাইরে। কিন্তু আপনি জানেন কি আমাদের এই বহির্বিশ্বের মূল গঠনের দূরত্ব এইটাই অর্থাৎ আলোর বেগে চার বিলিয়ন বছর অতিক্রম করলে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তার সমান। আর সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষক দল এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ার এর গবেষক দলের প্রাপ্ত এই ফলাফল সম্প্রতি Monthly Notices of the Royal Astronomical Society –এ প্রকাশ করা হয়েছে।

সুত্রঃ সাইয়েন্স ডেইলি, স্পেস.কম 

জনপ্রিয়তার পথে গ্রাফিন


graphene-3D-waveyমোবাইল ফোন যদি আপনার অনুভূতি বুঝতে পারে বা যদি এমন হয় যে আপনার আশেপাশের পরিবেশের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে কেমন হবে? নিশ্চয় বিষয়টি অনেক রোমাঞ্চকর। সত্যি এমনই মোবাইল ফোন তৈরির ঘোষণা দিয়েছে মোবাইল ফোন কোম্পানি   samsung । মূলত এই মোবাইল এর মনিটর গ্রাফিন নামক উপাদান দিয়ে  তৈরি হবে। গ্রাফিন  স্বচ্ছ উচ্চ পরিবাহী পদার্থ যা উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থের বাষ্পের জমাটবদ্ধ অবস্থা থেকে প্রস্তুত করা হয়। এটি ২০০৪ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। গ্রাফিন আবিস্কারের জন্য গত বছর ড. নভোসেলভর এবং ড. গেইম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তারা পেনসিলে বাবহৃত পুরনো চটচটে কাগজ এবং গ্রাফাইট থেকে গ্রাফিন আলাদা করেন। নিজেদের আবিষ্কার সম্পর্কে ড. নভোসেলভর বলেন, “আমি ভাবতেও পারি নি যে এত দ্রুত আমরা সক্ষম হব”। গ্রাফিন থেকে উৎপন্ন সার্কিট সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই সার্কিট সামনের দিকের একটা পদক্ষেপ মাত্র এবং এটি প্রাথমিক গবেষণা ও বাস্তব বাবহারের মধ্যম অবস্থা। তবে আমি অনেক বিস্মিত যে কেউ এটিকে অনেক দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে”। সত্যিই গ্রাফিনের ব্যবহার নিয়ে এখন বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ২০১০ সালে আই. বি. এম গ্রাফিনযুক্ত  transistor  তৈরি করেছিল। চলতি মাসে তারা গ্রাফিন যুক্ত ব্রডব্যান্ড ফ্রিকুয়েন্সি তৈরির ঘোষণা দিয়েছে যা তারহীন যন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রজেক্টের অন্যতম বিজ্ঞানী ড. ইউ. সিং. লিন বলেন, “ এটি গ্রাফিন যুক্ত সার্কিটের অভিনব আবিষ্কার যা প্রমাণ করবে গ্রাফিন যুক্ত সার্কিট অনেক জটিল কাজ করতে পারে”। এদিকে জীববিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন গ্রাফিন অণুবীক্ষণযন্ত্রে বাবহ্রিত হতে পারে। ফলে দিনে দিনে গ্রাফিনের ব্যবহার অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

মঙ্গলে প্রাণ?


প্রাণের কথা আসলেই অক্সিজেনের গুরুত্ব এসে পরে। অক্সিজেন ছাড়া যেন প্রাণের অস্তিত্ত চিন্তায় করা যায় না। ধরুন অন্য কোন গ্রহ যেমন মঙ্গলে আপনি বাস করতে চান কিন্তু ওখানে তো অক্সিজেন নেয়। তাহলে কি অক্সিজেন ছাড়া প্রাণী বাঁচতে পারে না? অবশ্যই বাঁচতে পারে। সম্প্রতি এমনই বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পশ্চিম অস্ত্রলিয়ার দূরবর্তী স্ত্রেলি পুলে  সবচেয়ে প্রাচীন  জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছে যা আজ থেকে ৩.৪ বিলিয়ন বছরের পুরনো। এগুলো মূলত  কিছু কোষ এবং ব্যাকটেরিয়ার জীবাশ্ম।  তখন পৃথিবীতে অক্সিজেনের কোন অস্তিত্ত ছিল না। মূলত সেই সময় সালফার ছিল একমাত্র শক্তি উৎপাদনকারী উপাদান। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া এবং ঐ কোষ গুলো অক্সিজেন ছারাই বেঁচে ছিল। গত রবিবার এই তথ্যটি বিজ্ঞান জার্নাল দা নেচারে প্রকাশিত হয়। জীবাশ্ম পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেই সময় পৃথিবী ছিল অত্তান্ত উত্তপ্ত এবং অন্ধকারময়। আকাশ ছিল মেঘাছন্ন এবং ধূসর। সূর্য বর্তমান অবস্থা থেকে অনেক হালকা ছিল । সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ছিল ৪০-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস । তখন খুব সামান্য পরিমাণ অক্সিজেন থাকলেও তা কোন উদ্ভিদ বা শৈবাল এর ব্যবহার উপযোগী ছিল না যে তা দিয়ে খাদ্য উৎপাদন করা যাবে। গবেষণা দলের প্রধান মারটিন ব্রেসার বছিলেন “আমরা নিশ্চিত যে জীবাশ্ম দ্বারা গঠিত যে শিলা পাওয়া গেছে তা ৩.৪ বিলিয়ন বছরের পুরনো”। তিনি আরও বলেন “ এই ধরণের জিনিস মঙ্গলগ্রহে থাকতে পারে, এই প্রমাণ আমাদেরকে নিশ্চিত করে মঙ্গলে অক্সিজেনহিনতা জীবের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নয়”। গত বছরে বিজ্ঞানীরা ভূমধ্যসাগরে ে রকম জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছিলেন। ইতালির মারচি পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী রবার্টো দ্যানোভারো লরিচিফেরা গোত্রের তিনটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পেয়েছিলেন। এই সকল জীবাশ্ম প্রমাণ করে দেয় অক্সিজেন ছাড়া জীব বাঁচতে পারে এবং অক্সিজেনহীন মঙ্গল গ্রহে প্রাণ ছিল । যা আমাদের কি বহির্বিশ্ব বিশেষ করে অন্যান্য গ্রহ নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দেয়। হয়তবা এটাই প্রমাণ করবে অন্য গ্রহে অক্সিজেন না থাকলেও প্রাণ টিকবে। আর হইতবা বেশি দেরি নয় মানুষ অক্সিজেনহীন মঙ্গল গ্রহে ব্যাস করবে।

                                                                             ২৬ আগস্ট ২০১১ 

আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের প্রথম বিজ্ঞান বক্তৃতা : বিজ্ঞান একটি চলমান প্রক্রিয়া


 

কথায় বলে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। আবার এটাও তো ঠিক, ইতিহাস ছাড়া বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দুটিই অন্ধকার। এই ইতিহাস জানিয়েই বর্তমানের বিজ্ঞানচর্চায় একটু আলো ধরার জন্য গত ৩০ অক্টোবর আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার আয়োজন করেছিল এক বিজ্ঞান বক্তৃতার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ বক্তৃতা। বিষয় ছিল ‘বৈজ্ঞানিক ধারণার ক্রমবিবর্তন : থেলিস থেকে নিউটন।’ এতে প্রথমবারের মতো পেশাদারিত্বের বিজ্ঞান বক্তৃতা করলেন বিজ্ঞানকর্মী জাহাঙ্গীর সুর। বিজ্ঞানের ক্রমধারায় কী করে আধুনিক সব মতবাদ প্রতিষ্ঠা পেল, তা জানতে হলে চোখ ফেরাতে হবে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান-সাধকদের ইতিহাসের দিকেই। সেসব ইতিহাসই গল্পচ্ছলে উঠে এসেছিল এদিনের বিজ্ঞান বক্তৃতায়। হাইস্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে ১৬ জন দর্শক-শ্রোতা দর্শনীর বিনিময়ে অংশ নিয়েছিলেন। বিজ্ঞান বক্তৃতা ছিল প্রাণবন্ত।

বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের জন্য এত দীর্ঘ সময়ের যে পথচলা তা নেহাৎ সোজাসাপটা ছিল না সব বিজ্ঞানীর জন্য। এর জন্য সবাইকে পোহাতে হয়েছে নানা ভঙ্গুর পথ। হাইপেশিয়ার মতো একজন নারী গণিতবিদ সেই সময়ে নিজের জীবন দিয়েছিলেন বিজ্ঞানের জন্য। জিওর্দানো ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, কারণ তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।’ এমন অনেক ইতিহাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল জাহাঙ্গীর সুরের বক্তৃতায়। আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের একক উদ্যোগ ও আয়োজনে এটাই প্রথম বিজ্ঞান বক্তৃতা। ২০০৮ সালের ৪ মে প্রতিষ্ঠিত হয় আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার। যদিও এটি জাহাঙ্গীর সুরের একটি ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার। কিন্তু এখান থেকে যে কোন সময় যে কেউ বই সংগ্রহ করে পড়তে পারেন। তাছাড়া আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার বিজ্ঞান চর্চা উদ্বুদ্ধকরণে বিজ্ঞান মেলা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা, বিজ্ঞান বক্তৃতা, বই লেখা ইত্যাদি নানা ধরনের কাজ করে চলেছে। গ্রন্থাগারের নাম কেন ‘আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার’ দেয়া হলো তা তুলে ধরেন মানিকুল ইসলাম। জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা আকিমুদ্দিন ছিলেন শিক্ষক। গ্রামে প্রথম তিনিই প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম ১২ বছর বিনা বেতনে বাড়ি বাড়ি চাল ও মসুরের ডাল মুষ্টি তুলে তিনি স্কুলটা চালাতেন। তার শ্রদ্ধার্থেই গ্রন্থাগারের নামকরণ করা হয় আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার।
দর্শনী দিয়ে এদিন বিজ্ঞানের বিবর্তনের পথের ওপর বক্তৃতা শোনার সুযোগ পেয়েছিল দর্শকরা। ‘আপনাকে যদি আমি একটা কথা বলি তাহলে কথাটা হয়তো আপনি শুনবেন কিন্তু তেমন মনোযোগ দিয়ে শুনবেন না। কিন্তু সেই একই কথা যদি আপনি দর্শনীর বিনিময়ে শোনেন তাহলে কথাগুলোর গুরুত্ব হবে আপনার কাছে অন্যরকম। তাই আমরা দর্শনীর বিনিময়ে বিজ্ঞান বক্তৃতা করছি। বাংলাদেশে এখনও এভাবে বক্তৃতার রেওয়াজটা চালু হয়নি। পেশাদার বিজ্ঞানবক্তা আসিফ প্রথম এভাবে দর্শনীর বিনিময়ে বিজ্ঞান বক্তৃতা করে থাকেন। তবে বিদেশে এটা ব্যাপক প্রচলিত। আমরা সেই প্রচলনটা আনতে চেষ্টা করছি। এতে করে সবার মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার কৌতুহল সৃষ্টি হতে পারে।’ এমনই মত ব্যক্ত করেন বিজ্ঞানবক্তা জাহাঙ্গীর সুর।
শুধু বসে বসে কথা শোনাই নয়। এই বক্তৃতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল প্রশ্ন করার সুযোগ। রাজশাহী সিটি কলেজের বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নাইমের আগ্রহ ছিল হিগস বোসন কণা নিয়ে। বিনোদপুর উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ুয়া ফরহাদের আগ্রহ অন্য গ্রহে প্রাণের সন্ধান নিয়ে। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া মাহফুজুর রহমান জানতে চেয়েছিল সূর্যের আলো সম্পর্কে। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইনজামামুল হক বুঝতে চাইল, কী করে পৃথিবীতে এক দেশে দিন অথচ একই সময়ে আরেক দেশে রাত। বক্তৃতা শেষে তাদের এসব জিজ্ঞাসার উত্তর দেন বক্তা জাহাঙ্গীর সুর।
একটু একটু করেই তো সামনের পথে এগোতে হয়। আর কিছু হোক না হোক এই বিজ্ঞান বক্তৃতা উপস্থিত সবাইকে নিজের জীবন ও এই বিশ্বকে নিয়ে ভাবতে সাহায্য করবে। এমনটাই মনে করেন আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের বিজ্ঞানকর্মীরা।

সুত্রঃ দৈনিক সংবাদ

টমেটোর জীনরহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা !!!!



কিছুদিন আগে উন্মোচিত হল পাটের জীন রহস্য উন্মোচন। আমরা ধন্য যে বাংলাদেশী বিজ্ঞানী এই বৃহৎ কাজটি করেছেন। একের পর এক বিভিন্ন উদ্ভিদের জীন উন্মোচিত হচ্ছে বর্তমান সময়ে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি উন্মোচিত হল সালাদ হিসেবে বাবহ্রিত বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজি টমেটোর। এই কাজটি সম্পন্ন করেছেন একদল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী । বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার(nature) ফলাও করে প্রকাশ করেছে এই সংবাদটি। এমনকি নেচার (nature) এর এ সপ্তাহের ম্যাগাজিনের মূল বিষয় টমেটো এবং শিরোনাম করেছে দ্যা টমেটো জিনোম। টমেটো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজি এবং ২০১০ সালে সারা বিশ্বে এর উৎপাদন ছিল ১৪৫.৮ মিলিয়ন টন। এই গবেষণা দলের প্রধান গ্রাহাম সায়মার এবং বিশপ এর মতে , “টমেটো জীন উন্মোচন শুধু মাত্র টমেটো উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে না পাশাপাশি সোলানেসি গোত্রের অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে”।
তারা আশা করছেন জীন উন্মোচিত হওয়ার ফলে এমন টমেটো জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে যা রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম এবং উচ্চ ফলনশীল। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বীজ জীন প্রযুক্তির বিশেষজ্ঞ আলেন ভেন ডেয়াঞ্জ বলছিলেন, “সব মিলিয়ে এটি উন্নত টমেটো উদ্ভাবন পদ্ধতি, এই গবেষণায় এমন কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যা আমরা পূর্বে কল্পনা করতে পারি নি” গবেষক দলের প্রধান বলছিলেন, “২০০৩ সাল থেকে কাজ শুরু করার পর থেকে অনেক তথ্য বের হয়ে আসছিলো কিন্তু এখন বিস্ময়করভাবে এটি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছে”।
ইতালির রোমে অবস্থিত ন্যাশনাল ইন্সিটিউট অব নিউ টেকনোলজিস্ত এর গবেষক এবং এই গবেষক দলের একজন সদস্য গিয়াভানি গিয়ালিয়ানো ব্যাখ্যা করছিলেন জীন উন্মোচনের রহস্য। তিনি বলছিলেন, সাধারণত জীন উন্মোচনের গতানুগতিক পদ্ধতিতেই স্থানীয় একটি টমেটো জাত হেয়ঞ্জ ১৭০৬ এবং এর নিকটবর্তী জাত Solanum pimpinellifolium. নিয়ে আমরা গবেষণা শুরু করি। ২০০৮ সালের পর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতি খুব দ্রুত কাজ করছিল DNA সনাক্তকরন এবং এর বিন্যাস জানতে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে টমেটোর জীন বিন্যাসের তিনটি প্রতিলিপি সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে অধিকাংশ জীন অবস্থান করছে কয়েক মিলিয়ন বছর দ্বিতীয় প্রতিলিপিতে এবং সম্প্রতি তারা তাদের কাজের পরিবর্তন ঘটিয়েছে এবং তার ফলস্বরূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি রসালো টমেটো। তাই রসালো ফলের উন্নয়নের জন্য টমেটো একটি প্রতিষ্ঠিত উদাহরণ এবং এই জীন বিন্যাস স্ত্রবেরি, তরমুজ, কলা ইত্যাদি ফলসমুহের নতুন প্রজাতি উদ্ভাবনে সহায়ক হবে । টমেটোর জীন বিন্যাস উন্মোচন বিজ্ঞানের একটি নতুন মাইলফলক। এখন যথাযথ গবেষণায় উদ্ভাবন সম্ভব হবে উচ্চ ফলনশীল এবং মানুষের জন্য উপকারী নতুন টমেটো সহ রসালো ফল ও সবজির জাত।

কুষ্টিয়ায় শুক্র গ্রহের ট্রানজিট পর্যবেক্ষণ !!!!!!!!!!!!



সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে পৃথিবীর আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে বিজ্ঞানের অবদান আমরা কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারি না। কিন্তু বিজ্ঞান শব্দটি আমাদের চিন্তাতে আসলেই আমরা মনে করি বিজ্ঞান মানে গবেষণাগার, জটিল যন্ত্রপাতি, বড় বড় বই, থিসিস ইত্যাদি। কিন্তু বিজ্ঞান কি মূলত এটাই? না! বিজ্ঞান মূলত জীবন দর্শন। আমরা যা ভাবছি, যা নিয়ে চিন্তা করছি, প্রয়োজনীয় কথা বলছি তাই বিজ্ঞান। আর সেই বিজ্ঞানকে সমগ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, বিজ্ঞান সেমিনার, উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞান দিবস উদ্যাপন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞান বিষয়ক অনুষ্ঠানে সহযোগিতা, বিজ্ঞান ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা, তৃণমূল স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে পৌঁছে দেওয়া ও বিজ্ঞানভিত্তিক ম্যাগাজিন প্রকাশের লক্ষকে সামনে রেখে বিজ্ঞানের আলোয় সমাজকে বদলাবো শ্লোগানে গতকাল বুধবার সকালে কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ চত্বরে শতাব্দীর সর্বশেষ সূর্যের উপর শুক্র গ্রহের চলন পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করলো বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ সায়েন্স অব বাংলাদেশ। সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে কলেজ চত্বরে প্রবেশ করে ইয়ুথ সায়েন্স অব বাংলাদেশ এর সদস্যবৃন্দ।

বিশেষ চশমার মধ্যে দিয়ে কলেজ মাঠে শুক্র গ্রহের চলন পর্যবেক্ষণ করে কলেজের ছাত্রীরা ও ইয়ুথ সায়েন্স অব বাংলাদেশ এর সদস্যবৃন্দ। পরে মোবাইল ফোনে আলোচনা সভার উদে¦াধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহা. জমির উদ্দীন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে লেখক ও সাংবাদিক ইমাম মেহেদীকে আহবায়ক ও বিজ্ঞান কর্মী কোরবান আলীকে যুগ্ম আহবায়ক এবং কবি, সাংবাদিক ও বিজ্ঞান কর্মী হোসাইন মোহাম্মদ সাগর কে সদস্য সচিব করে একুশ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন শেরে বাংলা কৃষি বিদ্যালয়ের ছাত্র ও ইয়ুথ সায়েন্স এর সপ্নদ্রষ্টা বিজ্ঞান কর্মী রফিকুল ইসলাম। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বিজ্ঞান কর্মী রাজীব উদ্দীন, তনিমা ইসলাম তন্না, কামাল হোসেন, ইউনুচ আলী বাপ্পি, রুপম রেজা, মামুনুর রশিদ, সাকিব খান, গোলাম কিবরিয়া, শাহীন আলম অন্তর, তহিদুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, কামরুজ্জামান মাসুম, শাউনুল ইসলাম ও পাবনার বিজ্ঞান কর্মী মাহমুদুল হাসান লিখন, ঢাকা সাভারের বিজ্ঞান কর্মী জেসমিন আক্তার জিতু, যশোরের বিজ্ঞান কর্মী মূসা হোসাইন। এছাড়া ইয়ুথ সায়েন্স অব বাংলাদেশ এর আয়োজনে বিশেষ চশমার মধ্যে দিয়ে কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজে শুক্র গ্রহের চলন পর্যবেক্ষণ করেন বিাভন্ন বিদেশী পর্যবেক্ষক, মহিলা কলেজ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীসহ প্রায় ৫০০০ কুষ্টিয়াবাসী।

পাবনায় ভেনাস ট্রানজিট পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প!!!!!!!!


৬ জুন ঘটে গেল এক দূর্লভ মহাজাগতিক ঘটনা, শতাব্দির সর্বশেষ সূর্যের উপর দিয়ে শুক্র গ্রহের পরিচলন বা “ভেনাস ট্রানজিট”।
বিশ্বব্যাপী এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চলছিল চরম গুঞ্জন। সব অপেক্ষার ইতি ঘটিয়ে বিশ্বের ছয়শ’ কোটি মানুষ উপভোগ করল চরম এক মূহুর্ত। আমেরিকার আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা এই দূর্লভ দৃশ্য মানুষের কাছে তুলে ধরতে একের পর এক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। বাংলাদেশেও এ নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি ছিল না। দেশের স্বনামধন্য বিজ্ঞান সংগঠন ডিসকাশন প্রজেক্ট এর উদ্যোগে ইয়ুথ সায়েন্স অব বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় পাবনা জেলায় “বন্ধুসংঘ” আয়োজন করে ফ্রি ক্যাম্প। ভোর ৬.০০ টা থেকে এই ক্যম্প চলে বেলা ১১.০০ টা পর্যন্ত। বেড়া উপজেলার বেড়া কলেজ মাঠে এই ক্যাম্পে অংশ গ্রহণ করে অত্র এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকবৃন্দ।

ভোর থেকেই কৌতূহলী মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। প্রায় চার ঘণ্টার এই ক্যাম্পে ভেনাস ট্রানজিট পর্যবেক্ষন ছাড়াও সেমিনার ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বন্ধুসংঘের কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ ও অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সহ এলাকার সর্বস্তরের জন সাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

গণিত ইতিহাসের ইতিবৃত্ত


যতদুর চোখ যায় শুধু পাহাড়, পাহাড়ের গা ঘেষে গাছ, লতা আর মহীরুহ। গাছের বাকল পড়া কিছু মানুষ একটি পশু শিকারকরে নিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে একজন কিছু একটা  বলতেই অন্যজন ঝোলা থেকে দুটি বর্শার ফলা দেখালো, বোঝাতে চাইলো তুমি যদি হরিণটির অর্ধেক মাংস পেতে চাও তাহলে তোমাকে অন্তত দুটি বর্শার ফলা দিতে হবে। বলছি আজ থেকে২৫ হাজার বছর আগেকার কথা যখন মানুষ এভাবেই নিজেদের সম্পদ বিনিময় করত।আকাশের অসংখ্য তারার মাঝে একটাপ্রশ্নবোধক চিহ্নের মত কিছৃ একটার মাথা দুটিকে যোগ করে তারা আবিষ্কার করেছিল ধ্র“বতারা। সকালের সূর্য উঠা,অস্তযাওয়া দেখে তারা শিখেছিল দিনের হিসাব। চাদের কালো আর উজ্জলতার সময়ের ব্যবধান থেকেই মাসের হিসাব জানতেপেরেছিল। আর এগুলো সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করত পাথর অথবা গাছের বাকল। একটু সভ্য হওয়ার পর মানুষ হিসাবেরসুবিধার্তে সুতোয় গিট দিতো, আর এভাবেই সৃষ্ঠি হলো ইনকা সভ্যতা। যারা হিসাব করত তারাই হলো পুরোহিত এবংসমাজের কর্তা। এভাবেই এক সময় মেসোপটেমিয়াতে আসলো সংখ্যার হিসাব, যেখানে তারা লিখত নরম কাদায়,অপরদিকে মিশরীয়রা লিখত নলখাগড়ায়। কালের পরিক্রমায়  আবির্ভাব জ্যামিতির। নীলনদের অববাহিকার পিরামিডগুুলোআজও সেই স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়। পিরামিডের ভিতরের গঠনের সুদৃড়তার প্রয়োজন থেকেই আসলো সরলরেখার বিষয়টি,্একে কেন্দ্র করেই অঙ্কিত হলো সমকোণ।অন্যান্য পরিমাপের প্রয়োজন হিসেবে ক্ষমতাশীল রাজার দেহ,হাত বা কনুইয়েরমাপ একক হিসেবে ব্যবহার করা হত। সাধারণ জনগণের কাছ থেকে জমির কর আদায়ের নিমিত্তে প্রয়োজন অনুভব করলক্ষেত্রফল নির্ণয়ের যা থেকেই আসল  ত্রিভূজের বিষয়টি। তখন মিশরীয়রা জানতেন একটি খুটিকে কেন্দ্র করে অন্য একটিখুটিকে চতুর্দিকে ঘুরিয়ে আনলেই উৎপন্ন হয় একটি বৃত্ত। এর সাধারন সমাধাগুলো মূলত পুরোহিতরাই করতেন,তাইএখনকার গণিতবিদেরা তাদের কাছে অনেকটাই দায়বদ্ধ। হিসাবের সুবিধার জন্য মেসোপটেমিয়ানরা উদ্ভাবন করেছিল ”অ্যাবাকাস”। বালিতে অঙ্কিত বিভিন্ন খাজ থেকে তারা বিভিন্ন মান তুলনা করে হিসাব করত। এটি থেকেই একক দশকেরহিসাবটি প্রথম এসেছিল।ইউফ্রেটিস নদীর তীরে মাটি খুরে আবি¯কৃত মন্দিরের পাঠাগারে পাওয়া গিয়েছিল বর্গের হিসাব।প্রায় ৬ হাজার বছর আগে প্রথম চাকা আবি®কৃত যার ক্ষেত্রফল নির্ণয়ে ৩.১৪ বা ৩ ব্যবহিত হত যদিও ভারতীয় গণিতবিতভাস্কারাচার্য তা  সঠিকভাবে প্রমাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে গ্রীকদের চেতনা গণিতকে করেছিল আরও অগ্রসর । পিথাগোরাস,্ইউক্লিড, আর্কিমিডিসের অভাবনীয় সাফল্য গণিতকে করেছিল প্রমাণনির্ভর। গণিতের আরও একটি সভ্যতা হচ্ছে ভারতীয়সভ্যতা। তাদের ছিল পৃথক ৯ টি অংক যা দ্বারা সহজে অংক কষা যেত। গ্যালিলিও এর পড়ন্ত বস্তুর ধারণা, কেপলারের গ্রহেরভ্রমণ তত্ত,নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত সবই গণিতের অগ্রগণ্যতা। আর শ্রীনিবাস রামানুজান একজন দরিদ্র ব্রাম্মন সন্তান যিনিস্বশিক্ষায় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও ছিলেন শ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের একজন যাদের অবদানেই আজকের গণিত চর্চা এবং গবেষণা।