দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার


বিজ্ঞান যেমন জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে তেমনি আমাদের জীবনকে করেছে অনেক সহজ এবং গতিশীল। প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকি। মূলত এর সবই বিজ্ঞানের আবিষ্কার। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহুল বাবহ্রিত এমন কিছু শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার নিয়ে এই আয়োজন। লিখেছেন রফিকুল ইসলাম

ছাপাখানাঃ  বই পুস্তক বা কোন তথ্য ছাপার কথা বললেই আসে ছাপাখানার কথা। পূর্বে বিভিন্ন ফাইল, বই পুস্তক হাতে লিখে প্রকাশ করা হত। এটি সর্বপ্রথম ১৪৪০ সালে জন গুটারবারগ আবিষ্কার করেন। একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে তার এই আবিষ্কার। যদিও প্রাথমিক দিকে এর গঠন আজকের মত ছিল না। তবে এশিয়াতে প্রথম ছাপাখানার ব্যবহার শুরু হয় চীনে।  কম্পিউটার আবিষ্কারের সাথে সাথে এর বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ছাপাখানা কিন্তু আমাদের বাড়িতেই যা প্রিন্টার হিসেবে পরিচিত।

ক্যালকুলেটরঃ প্রতিদিনের হিসাবের কাজে সবচেয়ে বেশি  বাবহ্রিত হয় ক্যালকুলেটর।নবম শতকে চীনে আবিষ্কৃত ক্ষুদ্র ক্যালকুলেটর অ্যাবাকাস। সর্বপ্রথম ১৬৪২ সালে গণিতবিদ ব্লেইসি প্যাসকেল  ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। উইলিয়াম সেওয়ারদ ১৮৮৬ সালে বাণিজ্যিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। তবে আধুনিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার ১৯৬৩ সালে   এবং আবিস্কারক বেল পাঞ্চ কোম্পানি।

বিদ্যুৎঃ  বিজ্ঞানের  সকল আবিষ্কারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ আবিষ্কার ছাড়া চার্জ  বাবহ্রিত সকল আবিষ্কার বিফলে পরিণত হত। বিদ্যুৎ  কে আবিষ্কার করেছে তা সঠিকভাবে বলা দুরুহ। খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ থেকে শুরু করে খ্রিস্টাব্দ ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত ভিবিন্ন গবেষণার ফলে আজকের অবস্থানে বিদ্যুৎ । বিদ্যুৎ তৈরির উৎসগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, পেট্রোলিয়াম, নিউক্লিয়ার শক্তি, সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি অন্যতম।

টেলিফোনঃ মোবাইলের ব্যাবহারে টেলিফোন চাহিদা কমে গেলেও এর গুরুত্ব অনেক। আলেকজেনডার গ্রাহাম বেল ১৮৭০ সালে টেলিফোন আবিষ্কার করেন। এটি আবিষ্কারের পিছনে ছিলেন অ্যান্টনি মিউকি, ফিলিপ রিস, ইলিশা গ্রে  এবং আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। কিন্তু ১০ মার্চ ১৮৭৬ সফলভাবে টেলিফোন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। আর টেলিফোনের ব্যাবহারে প্রথম বাক্য ছিল “এখানে আসো, তোমাকে আমার প্রয়োজন”।

বৈদ্যুতিক বাতিঃ  বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে মানুষ এর বিভিন্ন ব্যবহার শুরু করে। পাশাপাশি রাতের অন্ধকার দূর করে আলোকিত করার সপ্ন বাতিক্রম কিছু নয়। এর থেকেই আবিষ্কার বৈদ্যুতিক বাতির। এর আবিস্কারক আমেরিকান বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন। তার আবিষ্কারের এক বছর পূর্বে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জোসেফ সন একই ধরনের বাতি আবিষ্কার করেন। কিন্তু তা ব্যবহার উপযোগী ছিল না। সর্বপ্রথম মানুষ সফলভাবে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার শুরু করে ১৮৭৯ সালে। আর বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষ বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করে।

কম্পিউটারঃ যুগে যুগে বিখ্যাত কিছু আবিষ্কার হয়েছে যা মানুষের জীবনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। তেমনি এক বিস্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটার। কম্পিউটার আবিষ্কার যেন মানুষের জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। যুগান্তকারী এই কম্পিউটারের আবিস্কারক হাওয়ারড আইকেন। ডেস্কটপ কম্পিউটার সর্বপ্রথম মানুষের হাতে আসে ১৯৭৪ সালে। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে অ্যাডাম অসবর্ণ ল্যাপটপ আবিষ্কার করেন।

টেলিভিশনঃ মানুষের বিনোদন জোগাতে বিজ্ঞানের সর্বপ্রথম আবিষ্কার টেলিভিশন। এর আবিস্কারক জন লেজি বেয়ারড, ফার্নসয়রথ এবং জরিকিন। টেলিভিশনের ব্যবহার সর্বপ্রথম শুরু হয় ১৯৫৮ সালে। এটি শোনার পাশাপাশি দেখার সুবিধাও রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের তিন বিলিয়নেরও বেশি মানুষ টেলিভিশন ব্যবহার করে। আবিষ্কারের শুরু থেকে টেলিভিশনের গঠন পরিবর্তন। হচ্ছে। একসময়ের বারো ইঞ্চি লম্বা টিউবযুক্ত টেলিভিশন থেকে আজ আমরা পঞ্চাশ ইঞ্চি এল.সি.ডি টেলিভিশন দেখতে পায়।

বিমানঃ বিমানের ধারণা আসে মুলত রাইট ভাত্রিদয়ের পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে। ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর অরভিল এবং উইল্ভার রাইট প্রথম মানুষের ভাসমানের সম্ভাব্যতা নিয়ে পরীক্ষা চালান। আর বাণিজ্যিকভাবে ১৯১১ সালে এরোপ্লেন আবিষ্কার করা হয়। বর্তমানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সবচেয়ে দ্রুতগামী মাধ্যম হচ্ছে এরোপ্লেন। এরোপ্লেন এর নীতির উপর ভিত্তি করেই জেট বিমান, রকেট ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়েছে। বর্তমানে বিমানের যাত্রী সংখ্যার সঠিক হিসাব নেই। তবে ধারণা করা হয় বিমান যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা ১.৫ বিলিয়ন।

এয়ার-কনডিশনঃ বছরের সকল সময় আরমামদায়ক আবহাওয়া সৃষ্টিতে বাবহ্রিত যন্ত্র এয়ার কন্ডিশন । বর্তমান বিশ্বের ৯৫ ভাগ মানুষ  অফিস, বাড়িঘরে এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার করে থাকে।  আমেরিকান বিজ্ঞানী উইলিস কারিয়ার এটি আবিষ্কার করেন। ১৯০২ সালে একটি প্রিন্টিং এর দোকানের অতিরিক্ত আদ্রতা কমাতে একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এটিই বর্তমানে এয়ার কন্ডিশন হিসেবে সমগ্র বিশ্বে বাবহ্রিত হচ্ছে।

ক্রেডিট কার্ডঃ বর্তমানে বড় বড়  বিপণিতে কেনাকাটা করতে নগদ টাকার পরিবর্তে একটি কার্ড ব্যবহার করা হয়। এটি কোনকিছু ক্রয় করে বিপনিবিতানে বসে শুধু একটি কার্ড দিয়ে দাম পরিশোধ করা যায়। আর এই প্লাস্টিক কার্ডই ক্রেডিট কার্ড। সর্বপ্রথম ১৯২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এর ব্যবহার সফলভাবে শুরু হয়। সর্বপ্রথম ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী  যুক্তরাষ্ট্রের জন.বিগিন ।

ডিজিটাল ক্যামেরাঃ ১৯৭৫ সালে  স্তেভেন সাসন ডিজিটাল ক্যামেরা আবিষ্কার করেন। সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত ডিজিটাল ক্যামেরা ছিল ০.০১ মেগা পিক্সেল ক্ষমতাসম্পন্ন ।আর আজ আমরা ১৬০ মেগা পিক্সেল  ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে থাকি। এমনকি বর্তমানে মোবাইল ফোনেও ডিজিটাল ক্যামেরা সুবিধা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সৃতি ধরে রাখা সহ গবেষণায় বিভিন্ন ডিজিটাল ছবির জন্য ডিজিটাল ক্যামেরা বাবহ্রিত হয়ে থাকে।

ওয়ার্ল্ড  ওয়াইড ওয়েভঃ বর্তমানে যে কোন প্রয়োজনে আমরা ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে থাকি। আর  ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে ডব্লিউ.ডব্লিউ.ডব্লিউ শব্দটি খুব পরিচিত। আর এই শব্দ তিনটির পূর্ণ রুপ ওয়ার্ল্ড  ওয়াইড ওয়েভ। সর্বপ্রথম ১৯৯০ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টিম বারনারস লি এটি আবিষ্কার  করেন। বর্তমানে সারা বিশ্বে ১.৯ বিলিয়ন মানুষ এটি ব্যবহার করে থাকে। এই শব্দ তিনটি দারাই সকল  ওয়েভসাইট তৈরি হচ্ছে আর আমরা পেয়ে যাচ্ছি আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য।

অটোমোবাইলঃ মানুষ চলার পথকে আরও অনেক আরামদায়ক এবং দ্রুত করতে বিজ্ঞানের এক আবিষ্কার অটোমোবাইল। সর্বপ্রথম জার্মানির একদল বিজ্ঞানী রাস্তায় এটির ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু তারা সফল হতে পারেন নি। পরবর্তীতে স্বদেশীয়  দুই বিজ্ঞানী কার্ল বেলজ এবং ডেইলমলারের আবিষ্কৃত অটোমোবাইল খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর এজন্য অটোমোবাইলের আবিস্কারক হিসেবে বিবেচনা করা হয় কার্ল বেনজকে।

মোবাইল ফোনঃ বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল। প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগ থেকে শুরু করে গেইম খেলা, হিসাব নিকাশ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং সহ সকল কাজে মোবাইল ব্যবহার করা হয়। বহুল বাবহ্রিত এই যন্ত্রটির আবিষ্কার কৌশল এসেছে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের টেলিফোন আবিষ্কারের মাধ্যমে। সর্বপ্রথম তারহীন এই মোবাইল ফোন বাজারে আসে ১৯৮৩ সালে। আর প্রথম বাজারজাত কোম্পানি মটোরলা। বর্তমানে বিশ্বের শতকরা৭৫ ভাগ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে থাকে।

এ. টি.এমঃ জরুরী বা ছুটির দিনে বাংকে গচ্ছিত টাকা উঠানোর একটি বিশেষ পদ্ধতি এ. টি.এম বা অটোমেটেড টেলার মেশিন। বিজ্ঞানী লুথার জর্জ সিমজান এটি আবিষ্কার করেন। এখানে একটি  পিন কোডের মাধ্যমে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। বর্তমানে বিশ্বের সকল দেশে এটি বহুলভাবে বাবহ্রিত হচ্ছে। 

 রেফ্রিজারেটরঃ  কোন খাবার টাটকা রাখতে বহুল বাবহ্রিত যন্ত্রের নাম রেফ্রিজারেটর। সর্বপ্রথম উইলিয়াম কুলেন ১৭৮৪ সালে রেফ্রিজারেটরের ডিজাইন করেন । কিন্তু এর কোন ব্যাবহারিক কোন প্রয়োগ হয় নি। পরবর্তীতে ১৮০৫ সালে আমেরিকান উদ্ভাবক অলিভার ইভান রেফ্রিজারেটরের নকশা করেন। সবচেয়ে উন্নত রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার করেন আফ্রিকান-আমেরিকান বিজ্ঞানী থমাস এল্কিন এবং জন স্ট্যান্ডার্ড। বর্তমানে এটি সকল দেশের মানুষ কম বেশি ব্যবহার করে থাকে।

 

Aside

দেশের আলু উৎপাদন পদ্ধতির বাইরে আধিক উৎপাদনশীল আলুর বীজ উদ্ভাবন করেছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন শুভ্র রায়। তিনি বলছিলেন তার উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে । তার সাক্ষাৎকার নিয়ে লেখা।

রফিকুল ইসলাম: স্যার মূলত আপনার গবেষণার বিষয়টি কি ছিল?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: আসলে সনাতন পদ্ধতিতে আলু চাষের বাইরে  আধিক উৎপাদনশীল একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনই ছিল মূল বিষয়।আমরা মূলত টিউবার দিযে যে আলু চাষ করে থাকি তার উৎপাদন আশানুরূপ হয় না। অন্যদিকে  কৃষকদের কাছে এটি সহজলভ্য নয়। তাদেরকে নির্ভর করতে হয় বিভিন্ন বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের উপর, আবার এর গুণাগুণ নিয়েই প্রশ্ন আসে।এই সমস্যা থেকে উত্তরণ এবং আধিক উৎপাদনশীল বীজ উৎপাদনই ছিল  মূল লক্ষ্য।

রফিকুল ইসলাম: এটি মূলত কোন পদ্ধতিতে সম্ভব হয়েছে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: এখানে মূলত টিউবার ব্যাতীত ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। একে টি.পি.এস (ট্রু পটেটো সিস্টেম) বলা হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে মাত্র বিশ গ্রাম বীজ নিয়ে কৃষকের বীজতলাতে রোপণ করে পরবর্তীতে মূল জমিতে রোপণ করা হয়ে থাকে। সবচেযে বড় সুবিধা হচ্ছে এই পদ্ধতিতে আলু গাছের কান্ড যতটুকু মাটি দিযে ঢেকে দেয়া হবে ততটুকু পর্য়ন্ত আলু ধরবে।

রফিকুল ইসলাম: এই পদ্ধতিতে কি অন্য কোন দেশে  আলু চাষ হচ্ছে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: অবশ্যই। বিশেষ করে ভারত, চীন প্রভৃতি দেশে অনেক আগে থেকে এই পদ্ধতিতে আলু চাষ হয়ে থাকে।

রফিকুল ইসলাম: আপনার গবেষণা শুরু হয়েছিল কখন থেকে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়:মুলত ১৯৯৪ সাল থেকে আমার গবেষণা  শুরু। জাপানে পি.এইচ.ডি করা অবস্থায়,পরবর্তীতে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আমার মূল গবেষণা ক্ষেত্র। তবে সফলভাবে বীজ উৎপাদনে সক্ষম হয় ২০১০ সালে।

রফিকুল ইসলাম: আপনার পূর্বে কি বাংলাদেশে কোথাও এই বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছিল?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: হ্যাঁ। নব্বই দশকের শুরু থেকেই টিউবার ক্রপ রিসার্স সেন্টার (টি.সি.আর.সি) উন্নত বীজ উৎপাদন নিয়ে গবেষণা শুরু করে। সেখানে আমিও কিছুদিন কর্মরত ছিলাম, ফলে সেখান থেকেই অনুপ্রাণীত হযেছিলাম। তবে সফলভাবে মূলত আমিই সম্পন্ন করি।

রফিকুল ইসলাম: আপনার গবেষণায় আর্থিকভাবে কোন প্রতিষ্ঠান সহযোগীতা করেছিল?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: মূলত আমি জাপান সোসাইটি ফর প্রমোশন অব সায়েন্স থেকে বৃত্তি পেয়েছিলাম যা থেকে সম্পূর্ণ গবেষণার খরচ বহন করেছিলাম।তাছাড়া শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আমাকে গবেষণা অনুমতি এবং গবেষণার জন্য গবেষণাগার এবং প্লট ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিল।

রফিকুল ইসলাম: আপনি কি  দীর্ঘ সময়ের  এই গবেষণা এককভাবে সম্পন্ন করেছেন?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: হ্যাঁ। অনেকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেছেন, তবে মূল গবেষণাটি  আমার একারই।

রফিকুল ইসলাম: এই আলুবীজ কিভাবে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: আসলে আলু গাছ আমাদের দেশে যে পরিমান আলো পায় তার থেকে অতিরিক্তি পাঁচ ঘন্টা বেশি আলো প্রয়োজন ফুল ফোটাতে । আমি ৩০০০০-৫০০০০ লাক্সের আরো অতিরিক্ত পাঁচ ঘন্টা আলো প্রদান করেছি । পাশাপাশি অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহার করেছি যা আলুর টিউবার বৃদ্ধি কমিয়ে দ্রুত ফুল ফোটেিত সাহায্য করেছে। পরবর্তীতে ফল এবং বীজ।

রফিকুল ইসলাম: এই বীজগুলো দেখতে কেমন?

ড. তুহিন শুভ্র রায়:মরিচ বা টমেটো বীজের মত তবে আকারে অনেক ছোট এবং সাদা-হলুদ মিশ্রিত বর্ণের।

রফিকুল ইসলাম: এটি হতে কিভাবে কৃষক আলু উৎপাদন করবে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: প্রথমে বীজ বীজতলাতে রোপণ করতে হবে যা থেকে প্রথম বৎসর ১-৩৫ গ্রাম ওজনের ছোট ছোট আলু হবে যার উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৮০-৯০ টন। কিছু আলু কৃষক হিমাগারে রেখে  দিতে পারে যা পরবর্তী বছর রোপণ করা যাবে। মূলত একবার বীজ কিনেই কৃষক নিজে নিজেই পরবর্তী বছরের জন্য বীজ উৎপাদন করতে পারবে।

রফিকুল ইসলাম: আপনার উদ্ভাবিত এই পদ্ধতিটি কিভাবে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছাবে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: আমরা চেষ্টা করছি কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর। তবে প্রশাসনিকভাবে অধিক গুরত ¡দিলে  আমরা খুব দ্রুত সফল হব। স্থানীয়ভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষকদের আরও বেশি উৎসাহিত করা যেতে পারে।

রফিকুল ইসলাম: প্রতিবছর আমরা দেখে থাকি অধিক আলু নষ্ট হচ্ছে, হিমাগারে জায়গা অপ্রতুলতা ,তারপরও কৃষকদের কিভাবে অধিক আলু উৎপাদনে উৎসাহিত করা যেতে পারে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: আসলে সঠিকভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে এই সমস্যা রোধ করা যেতে পারে। তাছাড়া আলু থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠানগুলো বৃদ্ধি করলে অধিক বেশি আলু ব্যবহৃত হয়ে। ফলশ্রুতিতে কৃষক আরও আলু উৎপাদনে উৎসাহিত হবে।

রফিকুল ইসলাম: আপনার এই উদ্ভাবনকে কিভাবে স্বীকৃত করা হযেছে?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরী কমিশন ও জে.এস.পি.সি (জাপান) ২০১০ সালের মে মাসে আমাকে গোল্ড মেডেল প্রদান করে। এছারাও ইউনাইটেড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্স এর অধিনস্থ আই.ডব্লিউ.এ.টি.ই বিশ্ববিদ্যালয় হতে আমাকে গোল্ড মেডেল দেয়া হয়।

রফিকুল ইসলাম: আপনার এই সফলতায় আপনার সহকর্মীদেও অনুভ’তি কেমন ছিল?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: সবাই অনেক আনন্দিত। কারণ তারা আমাকে সবসময় সহযোগীতা করেছিলেন।

রফিকুল ইসলাম: আজকের অবস্থানে আসার স্বপ্ন কি ছোটবেলা থেকেই দেখতেন?

ড. তুহিন শুভ্র রায়:আসলে বিষয়টা এমন নয়। নাটোরের গুরুদাসপুরে আমার জন্ম। মধ্যম মানের শিক্ষার্থী ছিলাম। তবে এইচ.এস.সি পড়া অবস্থায় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ে দখতাম।

রফিকুল ইসলাম:  ডাক্তার না হয়ে আপনি এখন একজন কৃষিবিদি, নিজেকে কিভাবে উপভোগ করেন?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: অনেক উপভোগ করি। কারণ ডাক্তার হলে হয়তবা প্রফেশনাল হযে যেতাম।এখন গবেষণা করছি, কৃষকদের তথা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছি এটাই অনেক পাওয়া।

রফিকুল ইসলাম: সকল কৃষিবিদদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কি?

ড. তুহিন শুভ্র রায়:  সবাইকে একটা কথাই বলতে চাই, আপনারা নিজের প্রদত্ত দায়িত্বটুকু পালন করুন। আন্তরিকতার সাথে প্রতিটা কাজ করুন, তাহলে এই দেশ অনেক সামনে এগিয়ে যাবে।

রফিকুল ইসলাম: দেশের সকল তরুণ গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার উপদেশ কি?

ড. তুহিন শুভ্র রায়: প্রাপ্তির কথা না ভেবে নিরলসভাবে সত্যিকার অর্থে কাজ করুন, তাহলে দেশ তথা  জাতির উন্নতি সাধিত হবে।

রফিকুল ইসলাম: আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. তুহিন শুভ্র রায়: ধন্যবাদ।

আলুবীজের উদ্ভাবক ড. তুহিন শুভ্র রায়

আলি-বরটনার আলফা-আলফা পটেনশিয়াল নীতির জনক ড. শমসের আলি


আলি-বরটনার আলফা-আলফা পটেনশিয়াল নীতির জনক/প্রবক্তা বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমীর সভাপতি ড. শমসের আলি বলছিলেন তার গবেষণা এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞান প্রেক্ষাপট নিয়ে। তার সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ।

র.ইঃ আপনাকে স্বাগতম।

ড. আলিঃ স্বাগতম ।

র.ইঃ স্যার, আপনার গবেষণার মূল বিষয় কি?

ড. আলিঃ আমার গবেষণা নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এবং হাইপার নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে। প্রথমত বিভিন্ন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের গঠন পদ্ধতি জানা। দ্বিতীয়ত ল্যামডা নামক একটি আস্থায়ী কণিকা সম্পর্কে জানা। ল্যামডা কণিকা যখন নিউক্লিয়াসের সাথে যুক্ত হয় তখন একটি বন্ধনী তৈরি করে যা হাইপার নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এ আলোচিত হয়।

র.ইঃ আপনার গবেষণায় সবচেয়ে আবিষ্কার কি?

ড. আলিঃ সারা জীবনের গবেষণায় সবচেয়ে বড় আবিষ্কার আলি- বরটনার পটেনশিয়াল নীতি প্রদান। সারা বিশ্বে পরমাণুবিজ্ঞানীরা আলফা-আলফা ক্লাস্টার গবেষণায় এই নীতি অনুসরণ করে থাকেন।

র.ইঃ এই নীতি মুলত কি?

ড. আলিঃ আলফা-আলফা কণিকা বলতে  হিলিয়ামকে বোঝানো হয়। দেখা যায় পর্যায় সারণিতে অক্সিজেনে চারটি, নিয়নে পাঁচটি, ম্যাগনেসিয়ামে ছয়টি আলফা-আলফা বিদ্যমান এবং তারা সুস্থিত। কিন্তু বেরিলিয়াম সুস্থিত নয় যার কারণ অনুসন্ধানে আমি বেরিলিয়ামের আলফা-আলফা বন্ধনের আকর্ষণ বল নির্ণয় করেছি।

র.ইঃ পরমানু নিয়ে গবেষণায় বিজ্ঞানী রাদারফোর্ডের অবদান কি?

ড. আলিঃ সুনিশ্চিতভাবেই পরমানু গবেষণায় রাদারফোর্ডের অবদান অনস্বীকার্য। তার পরমানু মডেলের পরেই নিউক্লিয়াসের গঠন সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। ফলে পরবর্তীতে পরমাণু তথা নিউক্লিয়াস নিয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গবেষণা সহজ হয়েছে।

র.ইঃ পরমাণু নিয়ে নতুন কি গবেষণা চলছে?

ড. আলিঃ আমরা এক সময় জানতাম আগুন, পানি মৌলিক পদার্থ। পরবর্তীতে জানলাম এগুলো নয় ৯২ টি মৌলিক পদার্থ রয়েছে। একইভাবে পরমাণু তার মধ্যকার ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন সম্পর্কে জানলাম। পরবর্তীতে কোয়ার্ক সম্পর্কে জানা গেল। এটি এখনও বাস্তবে পাওয়া যায় নি এটি নিয়ে গবেষণা চলছে আরও তথ্য পাওয়ার জন্য। চেষ্টা করা  হচ্ছে চৌম্বক বল, মহাকর্ষীয় বল এবং নিউক্লিয় বলের প্রাথমিক অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য। মূল কথা এখন অনেক বেশি গবেষণা চলছে পরমাণু নিয়ে।

র.ইঃ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন কি কাজ করে থাকে?

ড. আলিঃ পরমাণু শক্তি চুল্লি নিয়ে কাজ করা উদ্দেশ্য হলেও এটি এখন গবেষণা ভিত্তিক কাজ করে থাকে। কৃষি ক্ষেত্রে অনেক অবদান রেখেছে এটি। গামা রশ্মি

ট্রিট করে বীজের ডি.এন.এ পরিবর্তন করে ধান, পাট, আলু ,পিঁয়াজ প্রভৃতি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এদেরই গবেষণার ফসল। এছাড়া চিকিৎসাক্ষেত্রে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বিশুদ্ধিকরণ পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে এখান থেকেই। অবশ্য বর্তমান  সরকার পারমাণবিক শক্তি চুল্লি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে রাশিয়ার সাথে একটি চুক্তি করেছে।

র.ইঃ বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী বিজ্ঞান প্রসারে কি কাজ করছে?

ড. আলিঃবিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারে বিজ্ঞান কর্মশালা, দেশজ গবেষণা যন্ত্রপাতি তৈরিতে বিজ্ঞানের উৎসাহ প্রদান মুলক কাজ করছে। আমাদের উদ্দেশ্য স্কুল কলেজগুলোতে দেশজ গবেষণা যন্ত্রপাতি ব্যাবহারে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উৎসাহিত করার জন্য তাদের বিভিন্ন স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নারী বিজ্ঞানের আরও বেশি গবেষণায় উৎসাহিত করা। মূল কথা বিজ্ঞান সচেতনতা বৃদ্ধিই আমাদের মূল লক্ষ্য।

র.ইঃ নতুন গবেষকদের উদ্দেশে আপনার উপদেশ কি?

ড. আলিঃ শুধু বলব ভালো গবেষণা করতে হবে যা হবে আন্তরজারতিক মানের। অপার সম্ভাবনার এই দেশে আমাদের সব সম্পদ আছে তার ব্যাবহারে নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে গেলেই আমাদের দেশ আরও উন্নত হবে।

র.ইঃ ধন্যবাদ

ড. আলিঃ ধন্যবাদ

কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা


বিশ্বের কৃষিনির্ভর তথা কৃষি উৎপাদন নির্ভর দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এদেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই দেশ কৃষি নির্ভরশীল। দেশের কৃষি খাতের অবস্থা প্রাথমিক দিকে খুব অগ্রগণ্য ছিল না। প্রাথমিক দিকে কৃষির উৎপাদন ছিল মূলত কৃষক নির্ভর, ছিল না উন্নত বীজ, কৃষি সরঞ্জাম সহ অন্যান্য সুবিধা। সরকারী বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলস্বরূপ আজকের অবস্থানটা কিছুটা উন্নত। তবে এখনও যে কৃষির অবস্থান স্বয়ংসম্পূর্ণ তা নয়। যেখানে ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ব্যবহার করছে উন্নত সব আধুনিক প্রযুক্তি, রয়েছে উন্নত কৃষি গবেষণাগার ও গবেষক, সেই তুলনায় আমাদের কৃষকের মাঝে এখনও সেই পুরনো কৃষি সরঞ্জাম, চাষপদ্ধতি। তারপরও স্বাধীনতার পরবর্তী ৭ কোটি মানুষ থেকে আজকের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য পূরণ করছে এই কৃষিই। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি উৎপাদন, কৃষি গবেষণা ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। জরিপে দেখা যায় ১৯৮০-৮১ অর্থ-বছরে জাতীয় বাজেটের ১.০৭ ভাগ ছিল কৃষিখাতে। তারপর পর্যায়ক্রমে ২০০৭-০৮ এ শতকরা ৬.২ ভাগ, ২০০৯-১০ এ ৭.৯ ভাগ এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের ৮.৬ ভাগ ছিল কৃষিখাতে। যার অর্থ একের পর এক কৃষি খাতে বাজেট বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০-১১০ ও ২০১১-১২ বাজেটে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন দার উন্মোচন করেছে। সংগঠিত হয়েছে কৃষি ক্ষেত্রে বিপুল গবেষণা। কৃষিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টায় নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত আবিষ্কৃত হচ্ছে। কৃষি সম্পর্কিত উপাদানের আমদানি, বাজারজাতকরণ, কৃষকদের মাঝে বিতরণের এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ প্রদান, উৎপাদন খরচ, কৃষি ভর্তুকি প্রদান কৃষি সম্ভাবনার একটি অংশ। সরকারের নানা কর্মসূচি কৃষি সম্ভাবনার একটি রুপ রেখা। সরকারের একটি বিষয় বোধগম্য কৃষি তথা কৃষক না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। দেশের মোট জমি ৩৬৬৫৭০০ একর যার মধ্যে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ২ কোটি ১ লক্ষ ৯৪ হাজার একর এবং কৃষি খাতের অবদান ২০.৮৩% । তাই স্বল্প জমি সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের সর্বাধিক সহযোগিতা করতে হবে। কৃষকদের মাঝে সার, বিদ্যুৎ , সেচ, ভর্তুকি সুবিধা প্রদান করতে হবে। কৃষকদের করতে হবে প্রশিক্ষিত, কৃষি গবেষকদের সর্বাধিক সুযোগ প্রদান করতে হবে, ফলে কৃষির সাথে সম্পর্কিত সকল বিভাগ লাভবান হবে। ফলশ্রুতিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রের সৃষ্টি হবে, মাথাপিছু আয় বাড়বে, দারিদ্রতা কমবে আর দেশ হবে খাদ্যে  স্বয়ংসম্পূর্ণ, উন্নত, সমৃদ্ধ যা বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াবার পূর্বশর্ত।

জন্মরহস্য উন্মোচনে আরেক ধাপ


মানুষের জন্ম এক বিশাল রহস্যের ভাণ্ডার_ এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষের এ জন্ম প্রক্রিয়া নিয়ে বিজ্ঞানীদেরও আগ্রহ কম নয়। বিভিন্ন সময় এ নিয়ে তারা ভেবেছেন, গবেষণা করেছেন এবং তথ্য দিয়েছেন। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা পুরুষের শুক্রাণুর সঙ্গে নারীর ডিম্বাণুর মিলনের এক রহস্য উন্মোচন করেছেন, যা ভবিষ্যতে বন্ধ্যত্ব নিরসনে নতুন এক উপায় বের করতে সক্ষম হবে। পুরুষের একটি ক্ষুদ্র শুক্রাণু কীভাবে নারীর শরীরের ভেতরে থাকা একটি ছোট্ট ডিম্বাণুকে আঘাত ও নিষিক্ত করে এবং তা থেকে একটি মানুষের জন্ম হয়_ সেই প্রকৃত রহস্য জানতে বিজ্ঞানীরা আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন।
এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা শুধু জানতে পেরেছেন, একটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার ফলেই একটি প্রাণের সূচনা ঘটে। কিন্তু এ নিষিক্তকরণটি ঠিক কী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে তা জানতে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের সীমা নেই। তবে সম্প্র্রতি এ আবিষ্কার সেই অজানা রহস্য কিছুটা হলেও উন্মোচন করতে পেরেছে। সাধারণত_ একটি শুক্রাণুর মাথায় থাকা প্রোটিন একটি নারীর ডিম্বাণুকে বাছাই করে তাতে আঘাত করে এবং তার সঙ্গে মিলিত হয়। প্রতিটি ডিম্বাণু থাকে একটি সুগারকোট বা আবরণের মধ্যে। যদি সেই সুগারকোটের সঙ্গে প্রোটিনটি মিলে যায় তাহলে শুক্রাণুটি ডিম্বাণুর মধ্যে প্রবেশ করে এবং তারা একত্রিত হয়। তারপর শুক্রাণু তার মধ্যে থাকা ডিএনএ সেই ডিম্বাণুর মধ্যে ছেড়ে দেয় এবং ডিম্বাণুটি এর মাধ্যমে নিষিক্ত হয়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, কীভাবে একটি ডিম্বাণু একটি শুক্রাণুকে ঠিকমতো আটকে ফেলে। আর এ রহস্যটি তাদের কাছে এতদিন ধরে ছিল অজানা। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ডিম্বাণুর আবরণ বা সুগারকোট অত্যন্ত আঠালো এবং এর ফলে শুক্রাণুটি তাতে আটকে যায়। ‘সিয়ালিল-লিউইস-এক্স সিকোয়েন্স’ বা সংক্ষেপে এসলেক্স নামের একটি বিশেষ সুগারকোট বা সুগার চেইন এ শুক্রাণুকে আটকে ফেলতে সক্ষম। আর নারীর যে ডিম্বাণুর আবরণ এ এসলেক্সের আবরণে ঢাকা থাকে, সেটিই এ বড় কাজটি করে থাকে।
ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি, ইউনিভার্সিটি অব হংকং, তাইওয়ানের অ্যাকাডেমিয়া সিনিকা এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকদের একটি সম্মিলিত দল এ নতুন তথ্য আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন এ আবিষ্কারে তারা বেশ রোমাঞ্চিত। আন্তর্জাতিক এ গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক অ্যান ডেল বলেন, ‘মানুষের ডিম্বাণু অত্যন্ত ছোট এবং তা একটা আলপিনের উপরিভাগ অর্থাৎ একটা ফুলস্টপের সমান। আর সে কারণে এ গবেষণার কাজটি সম্পন্নম্ন করা ছিল বেশ কঠিন একটা ব্যাপার। এ গবেষণার ফলাফল পরিষ্কারভাবে দেখাচ্ছে কীভাবে মানব জীবনের সূচনা ঘটে। আর এতে যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে তার ফলে বন্ধ্যত্ব নিয়ে জ্ঞানের একটি খালি জায়গা পূরণ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, যারা গর্ভধারণ করতে পারছে না, ভবিষ্যতে তাদের সাহায্য করাও সম্ভব হবে।’
বিজ্ঞানীরা এ গবেষণার জন্য ব্যবহার করেছেন অত্যাধুনিক ‘আল্ট্রা সেনসিটিভ মাস স্পেক্ট্রোমেট্রিক’ প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা দেখতে চেষ্টা করেছেন, শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর মিলনে কোন অণুগুলো কাজ করে থাকে। তারা দেখতে পেয়েছেন, ডিম্বাণুর স্বচ্ছ আবরণের ওপর থাকা এসলেক্স সুগারকোটের ঘনত্ব অন্যান্য অণুর চেয়ে অনেক বেশি। আর এ থেকেই তারা মনে করছেন, এসলেক্সই শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর মধ্যে আটকে ফেলতে সাহায্য করে। একটা কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, গোটা বিশ্বেই বন্ধ্যত্ব একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে শারীরিকভাবে সক্ষম এমন দম্পতির শতকরা ১৫ ভাগ বন্ধ্যত্ব সমস্যায় ভুগে থাকে। তবে যুক্তরাজ্যে এ সমস্যা আরও প্রকট। সেখানে প্রতি ৭ দম্পতির মধ্যে একজন এ সমস্যায় ভোগে।
‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড. পো চু পাং বলেন, ‘আমরা আশা করছি আমাদের এ মানব জন্মরহস্যের সাম্প্রতিক গবেষণা ভবিষ্যতে বন্ধ্যত্বের সমস্যাটিকে সঠিকভাবে বোঝার এবং বাস্তবিকভাবে তা সমাধানের উপায় সহজেই বলে দেবে।’ আমরাও প্রত্যাশা করছি, বিজ্ঞানীদের এ মানব জন্মরহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বন্ধ্যত্ব নিরসনের নতুন উপায় অবশ্যই বেরিয়ে আসবে এবং সেই দিনটি খুব দূরে নয়।

সূত্রঃ দৈনিক সমকাল/কালস্রোত/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১

প্রেমের বিবর্তনে ডারউইন


আবিষ্কার উদ্ভাবন দিয়ে তো সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু প্রেমের বেলায় কেমন তারা? বিবর্তনবাদের প্রবক্তা
চার্লস ডারউইন প্রেমে পড়েছিলেন পিয়ানোবাদক এক প্রিয়ংবদার। লিখেছেন রেশমা জাহান
ডারউইন। ১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। সময়ের বিবর্তনে বিবর্তনবাদের এই জনকও পড়েছিলেন প্রেমে। শুধু কি তাই? প্রেমটা প্রকাশ করতে তার রীতিমতো প্রাণান্ত অবস্থা। ডারউইন যখন ট্রান্সমুলেশনের কাজটা করছিলেন, তখন কাজের চাপে তিনি দিশেহারা। কাজের এই চাপটাই চাপ তৈরি করল ডারউইনের হূদযন্ত্রে। ডাক্তার সোজা বলে দিলেন ‘মহাশয় কিছুদিনের জন্য কাজকে ছুটি দিন। ঘুরে আসুন শহর থেকে দূরে কোথাও। তা না হলে এই হার্ট আর শুধরাবে না।’ কী আর করা। অবস্থা বুঝে ডারউইন ১৮৩৭ সালের সেপ্টেম্বর ছুটলেন স্ট্যাফোর্ডশায়ারে ছুটি কাটাতে। যে আত্মীয়ের বাড়িতে তিনি উঠলেন সেখানেই পরিচয় হল তার চেয়ে নয় মাস বড় দূরসম্পর্কের বোন ইমা উইগউডের সঙ্গে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেও এলেন ডারউইন। কিন্তু এমা যেন মন থেকে সরছিল না। ১৮৩৮ সালের জুলাইতে তাই আবার গেলেন এমার সঙ্গে দেখা করতে! কিন্তু এবারও তাকে প্রেম নিবেদন করতে পারলেন না। বাবার পরামর্শে তার কাছে রূপান্তর তত্ত্ব সম্পর্কে ভাবনাটা ব্যক্ত করে এলেন। যখন নভেম্বরে আবার দুজনের দেখা হল তখন সাহস করে ডারউইন নিজের ধারণাগুলো বলার পাশাপাশি মনের গোপন কথাটিও বলে দিলেন। ডারউইনের প্রেম গ্রহণ করলেন এমা। আর প্রেমপত্রের মাধ্যমে জানালেন এমার কঠোর একেশ্বরবাদী মনোভাব আর দ্বিধা যে অনেক কিছু আছে, যা পরবর্তীতে তাদের আলাদা করে ফেলবে বলে তার ভয়। কিন্তু তবু ডারউইনের প্রতি এমার ভালোবাসা ছিল অনেক। ডারউইন যখন নিজেদের জন্য বাড়ি খুঁজছিলেন লন্ডনে তখন আবার অসুস্থতা তাকে ঘিরে ধরল। সেই সময়ে ডারউইনের প্রতি এমার বাক্য ছিল এমন- ‘প্রিয় চার্লি, যতক্ষণ না তোমার সেবা করার জন্য তোমার পাশে থাকতে পারছি ততক্ষণ অসুস্থ হইয়ো না।’ ২৯ জানুয়ারি ১৮৩৯ সালে বিয়ে করেন এমা ও ডারউইন। তারপরই তারা ট্রেন ধরে চলে যান লন্ডন, তাদের নিজেদের সুখের সংসার গড়তে। অবশেষে ১৮৮২ সালের ১৯ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন ডারউইন।

সুত্রঃ দৈনিক সকালের খবর/ বিজ্ঞান/২১.৮.২০১১

আয়ু বাড়াবে ব্যায়াম


চাও কি বয়স ধরে রাখতে?’ নচিকেতা তার এই গানে অবশ্য কোনো বৈজ্ঞানিক সমাধান দেননি। বলেছেন, ‘চলে এসো ২০১ ধর্মতলায়।’ না, বিজ্ঞানীদের ডাক অবশ্য অন্যখানে। শুধু বয়স ধরে রাখতে নয়, আয়ু বাড়াতে বৈজ্ঞানিক সমাধান দিচ্ছেন তারা। বলছেন, প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট ব্যায়াম করলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে আরও তিন বছর! শুধু তাই নয়, এতে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যেতে পারে শতকরা ১৪ ভাগ। এমনটাই গবেষণা করে বের করেছে তাইওয়ানের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যানসেট। নিয়ম করে ব্যায়ামের এই ‘তত্ত্ব’টা ইংল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক মানুষ মেনে চলে।
-বাদল খান, তথ্যসূত্র : বিবিসি নিউজ

সুত্র ঃ দৈনিক সকালের খবর/ বিজ্ঞান/ ২১.৮.২০১১

মানুষ বাঁচে তার কর্মের ভেতরে


‘মানুষ নিজ সত্তাকে হারিয়ে ফেলতে ভয় পায়। সে চায় এই সুন্দর ভুবনে নিজ সত্তাকে ধরে রাখতে। এজন্যই মানুষ অমরত্বের স্বপ্ন দেখে’
ড. তানিয়া রহমান
মনোবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক
সমাজকল্যাণ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মরিয়ম মিজান রত্না অমরত্ব বলতে কী বোঝায়?
-আমার মতে অমরত্ব হচ্ছে নিজ সত্তাকে অবিনশ্বর রেখে আজীবন বেঁচে থাকা। প্রত্যেকেরই অন্তরে রয়েছে এই ধরণীর জন্য অগাধ ভালোবাসা। নিজ সত্তাকে মানুষের মাঝে জীবিত রেখে সে এই লীলাভূমিতে আরও কিছুটা দিন বেঁচে থাকতে চায়। মানুষের এই ইচ্ছাকেই মূলত অমরত্ব বলে অভিহিত করা যায়।
প্রকৃত অমরত্ব আসে কীসে?
-কোনো ব্যক্তির সুকর্ম মৃত্যুর পরও তাকে তার কর্ম দ্বারা উপকৃত মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখে। পৃথিবীতে বহু দার্শনিক, বিজ্ঞানী, লেখক, কবি, সমাজ ও ধর্ম সংস্কারক, বীর ও পণ্ডিত আছেন যাদের আদর্শ শত শত বছর ধরে মানুষ অবলম্বন করছে। সুতরাং কর্মের মধ্যে বেঁচে থাকাই প্রকৃত অমরত্ব।
অমরত্ব অর্জন কি খুবই দুঃসাধ্য?
-না। কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের অমরত্ব অর্জন অবশ্যই সম্ভব। পূর্বসূরিরা সর্বদাই চায় যে উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের গুণ, নীতি, জীবনাচরণ, আদর্শ বহন করুক। উত্তরসূরিদের এভাবে জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে পূর্বসূরিদের পরিচয় পাওয়া যায়। অর্থাত্ তাদের সত্তা বেঁচে থাকে। কোনো ব্যক্তির কর্ম বা আদর্শ যদি এই প্রজন্ম স্মরণে রাখে বা নিজেদের কর্মে প্রতিফলন ঘটায় তাহলে সেই ব্যক্তি তার কর্মের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করে।
মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যদি ১৫০ বছর হয়, একটা সময় তো তার শারীরিক বিকাশ বন্ধ হবেই। মানসিক বিকাশের কী হবে?-এ কথা সত্য যে, একটি নির্দিষ্ট বয়সে এসে মানুষের মানসিক বিকাশ থেমে যায়। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানা যায়, একটি শিশুর মানসিক বৃদ্ধি মাতৃগর্ভ থেকে শুরু হয় এবং সুষ্ঠু মানসিক বিকাশের জন্যই এখন গর্ভবতী মাকে জিঙ্ক খেতে দেওয়া হয়। সুতরাং শারীরিক বিকাশ থেমে যাওয়ার সঙ্গে মানসিক বিকাশও বন্ধ হয়ে যাবে-এমনটা ঠিক নয়।
কেন মানুষের মনের ভেতর অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা জন্মে?
-এটি একধরনের অন্তর্নিহিত ভয়। মানুষ নিজ সত্তাকে হারিয়ে ফেলতে ভয় পায়। পক্ষান্তরে মানুষ পরিচিতি ভালোবাসে। এই সুন্দর ভুবনে মানুষ নিজ সত্তাকে ধরে রাখতে চায়। এজন্যই মানুষ অমরত্ব চায়। মানুষ চায় সে যা কিছু অর্জন করেছে তার উত্তরসূরিরাও যেন তা অর্জন করতে পারে। এজন্য পূর্বসূরিরা তাদের কর্মের মাধ্যমে অমরত্ব পেতে চায়। অজানাকে মানুষ জানতে কৌতূহলী হলেও আমার মনে হয় কিছু ক্ষেত্রে মানুষ অজানাকে জানতে ভয় পায়। মৃত্যুর পর মানুষের জীবনে কী হয় তা অজানা এবং এই অজানাকে মানুষ জানতে ভয় পায়। এজন্য অনেক দুঃখী ব্যক্তিও মৃত্যুকে ভয় পায়। এই ভয় ও এই সুন্দর ধরণী এবং তার আশপাশের পরিবেশকে মানুষ অধিক ভালোবাসে। এ সবই মানুষের অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষার পেছনের উদ্দেশ্য।
মানুষের আয়ু বাড়লে তার তুলনামূলক কম আয়ুর জীবনে যা অর্জন করতে পারেনি সেসব অর্জনের কি সম্ভাবনা বাড়ে?
-এ ক্ষেত্রে সময় এবং সুযোগ-সুবিধাগুলো বাড়ে। কেউ তার আয়ু বৃদ্ধি করতে পারলে সে তার স্বপ্নগুলো বা আকাঙ্ক্ষাগুলো অধিক সময় ব্যবহার করে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অর্জন করতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয়, কেউ যদি তার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য যথার্থ চেষ্টা করে তাহলে তা তার নির্ধারিত জীবনায়ুতেই অর্জন করা সম্ভব। একটি প্রবাদ বাক্য আছে, যার বারতে হয় না তার বিয়াল্লিশেও হয় না। অর্থাত্ চেষ্টায় ত্রুটি থাকলে সে যা আগে পারেনি তা আয়ু বৃদ্ধির পরও অর্জন করতে পারবে না।
জীবনায়ু বেড়ে দ্বিগুণ হলে তখন কোন বয়সকে বলা হবে যৌবনকাল, বয়স কত হলে কাউকে ‘অ্যাডাল্ট’ বলে বিবেচনা করা হবে?
-বর্তমানে যে বয়সের ছেলেমেয়েকে শিশু, বালক-বালিকা, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী বা বয়স্ক বলে অভিহিত করা হয় জীবনায়ু বৃদ্ধির ফলে সে বয়সের সীমারেখা অবশ্যই বাড়বে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে শারীরিক বিষয়টাও বিবেচনা করতে হবে। বয়স নির্ধারণের সময় শারীরিক অবস্থা ও মানসিক বিকাশের মধ্যে অবশ্যই সমন্বয় করা হবে।
অনেক মানুষের কষ্টের যেন কোনো সীমা নেই। বেশি দিন বাঁচলে তাকে আরও বেশি কষ্ট ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তাহলে অমরত্ব কি মৃত্যুর চেয়ে অধিক কষ্টদায়ক নয়?
-আমি এ ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করি। কারণ বাঁচতে গেলে দুঃখ ও সমস্যা আসবেই। কিন্তু তার পাশে আনন্দও তো থাকবে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে দুঃখ ও সমস্যাকে উপেক্ষা করে আনন্দ ও সাফল্যকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সুখ-দুঃখ মানুষের জীবনে ধূপছায়ার মতো খেলা করবেই-এটা চিরন্তন সত্য। দুঃখ ও সমস্যায় জর্জরিত হয়ে হতাশাগ্রস্ত না হয়ে জীবনকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে হবে।
আপনি কি অমরত্বের স্বপ্ন দেখেন?
-অমরত্ব পাওয়ার ইচ্ছা হয়েছে, তবে শারীরিকভাবে নয়। আমার উত্তরসূরিদের সাফল্যের মধ্য দিয়ে অমরত্ব পেতে চাই। আমি যতটুকু অর্জন করতে পেরেছি আমার উত্তরসূরিরাও ততটুকু অথবা তার চেয়ে বেশি অর্জন করতে পারলে সেখানেই আমার অমরত্ব অর্জন হবে। মনোবিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে বেঁচে থাকতে চাই। ফ্রয়েড কিংবা ফ্র্যাঙ্কলিনের মতো কাউন্সিলর হিসেবে মনোবিজ্ঞানের জন্য কিছু একটা করে যেতে চাই এবং মনোবিজ্ঞানে অবদান রেখে অমরত্ব পেতে চাই।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
-ধন্যবাদ

সুত্র ঃ দৈনিক সকালের খবর/ বিজ্ঞান/ ২১.৮.২০১১